ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ আইন-আদালত ]

ছিনতাই মামলায় দুই পুলিশ সদস্যসহ ৩ জনের কারাদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২১:৫২, ২৭ মে ২০২৪
ছিনতাই মামলায় দুই পুলিশ সদস্যসহ ৩ জনের কারাদণ্ড
সংগৃহীত ছবি

মাদক মামলায় ফাঁসানোর ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা ও মোবাইল ছিনতাই করার অভিযোগে দুই পুলিশ সদস্যসহ তিনজনকে সাড়ে চার বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। 

কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- শাহজাহানপুর থানার তৎকালীন এএসআই মো. মনিরুল ইসলাম (৩৩), কনস্টেবেল এস এম জুলফিকার আলী (৫০) ও সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে ছিনতাইয়ে অংশ নেয়া মো. নুর উদ্দিন আহম্মেদ ওরফে সুমন (৪২)। অন্যদিকে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় অপর আসামি মো. নিরব হাসানকে (২৬) খালাস দেওয়া হয়েছে। রায় ঘোষণার সময় আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। রায় শেষে সাজা পরোয়ানা দিয়ে তাদেরকে কারাগারে পাঠানো হয়। 

সোমবার এ রায় দেন ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. তোফাজ্জল হোসেন। কারাদণ্ডের পাশাপাশি আসামিদের প্রত্যেককে ৪ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরো চার মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন বিচারক। আসামিদেরকে দণ্ডবিধির ৩৮৮ ধারায় চার বছর ও ৩৪২ ধারায় ছয়মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তবে দুই ধারার সাজা একসঙ্গে চলায় তাদেরকে চারবছর কারাভোগ করতে হবে। এছাড়াও আসামিদের হাজতবাসকাল সাজার মেয়াদ হতে বাদ যাবে বলেও রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে। 

Advertisement

মামলার অভিযোগে বলা হয়, মামলার বাদী খন্দকার নুরুজ্জামান রাইড শেয়ারিং কোম্পানি উবারের সঙ্গে কাজ করতেন। ২০১৯ সালের ২৪ জুলাই রাত আনুমানিক ১১.৪০ মিনিটের দিকে বাদীর মোবাইলে উবার এর মাধ্যমে মালিবাগ গুলবাগ রোড থেকে একটি কল রিসিভ করেন। রাস্তা কাটা বলে কল দেওয়া ব্যক্তি জানায় তার ছোট ভাই বাদীকে মালিবাগ মোড়ের ভেতরে স্বপ্ন নামে দোকানের সামনে থেকে পথ দেখিয়ে পিকআপ পয়েন্টে নিয়ে আসবে। সেই মোতাবেক বাদী স্বপ্ন দোকানের সামনে গেলে নিরব হাসান সজিব পথ দেখানোর কথা বলে মলিবাগ কালসির গলির শেষপ্রান্তে নিয়ে যায়।

সেখানে গিয়ে পুলিশের পোশাকে আসামি মনিরুল ও জুলফিকারকে বাদী দেখতে পায়। আসামিরা বাদীর পরিচয় জিজ্ঞাস করে ও বাদীর গাড়ি তল্লাশি করে। পরে ড্রাইভার সিটের পেছনে হাত বুলিয়ে একটি লম্বা ট্যাপে মোড়ানো ৪/৫টি ইয়াবা টেবলেটের মতো জিনিস কিছু বাদীকে দেখায় এবং বাদীকে ঐ পণ্যের ব্যবসায়ী বলে অভিযুক্ত করে। ওই সময় আরেক আসামি সাংবাদিক পরিচয়ে জানতে চাইলে মনিরুল ও এসএম জুলফিকার বাদীকে মাদক ব্যবসায়ী বলে জানায় এবং হাতকড়া পরিয়ে আটকে ফেলে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, এক আসামি বাদীর গাড়িতে উঠে এবং গাড়ি চালিয়ে বড় গেট লাগানো খালি এক জায়গায় নিয়ে যেতে বলে। বাদী ওখানে যাওয়ার পর এক আসামি গেট বন্ধ করে দেয় একটি একচালা টিনের ঘরে নিয়ে যায়। এরপর বাদীকে বসতে বলে, এক পর্যায়ে আসামিরা সমঝোতার করতে চাপ প্রয়োগ করে। বাবু নামে আরেক আসামির সঙ্গে কথা বলে ৬০ হাজার টাকায় সমঝোতা হয়। বাদী টাকা দিতে না চাইলে ২০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট দিয়ে ধরিয়ে দেবে বলে হুমকি দেয় আসামিরা। বাদী অসুস্থ ও ডাইবেটিসের রোগী বলে শেষ নাগাদ ২৫ হাজার টাকায় রফাদফা হয়।

আসামিদের কাছ থেকে মুক্তি পেয়ে শাহজাহানপুর থানায় পাঁচ জনের নাম উল্লেখ করে ভুক্তভোগী খন্দকার নুরুজ্জামান মামলাটি দায়ের করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহজাহানপুর থানার এসআই আবু সিদ্দিক ২০১৯ সালের ৩১ অক্টোবর চার জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

পরের বছর ২ ডিসেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। মামলার বিচার চলার সময়ে ১২ সাক্ষীর মধ্যে ৭ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেছেন আদালত।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমএস
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!