আদালতে নেওয়ার সময় হেলমেট ছুড়ে ফেললেন আখতারুজ্জামান
প্রিজনভ্যান থেকে নামার সময় ‘আমি আওয়ামী লীগার না’ বলে পুলিশের দেওয়া হেলমেট ছুড়ে ফেলেছেন জামায়াতে ইসলামী নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান রঞ্জন। শনিবার (৩ অক্টোবর) বিমানবন্দর থানার মামলায় তাকে আদালতে নেওয়ার সময় এ ঘটনা ঘটে।
আদালত চত্বরে আখতারুজ্জামান নিজের হাতে হাতকড়া ও মাথায় হেলমেট পরানো নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এ সময় প্রিজনভ্যানের ভেতর থেকে পুলিশকে আঙুল তুলে কথা বলতেও দেখা যায় তাকে।
.png)
আখতারুজ্জামানকে বলতে শোনা যায়, ‘মুক্তিযুদ্ধ করে পাওয়া দেশে আমার হাতে হাতকড়া ও হেলমেট পরানো হয়েছে। আমি বিমানের অব্যবস্থাপনা নিয়ে কথা বলেছি।’ এরপরই ‘আমি আওয়ামী লীগার না’ বলে মাথার হেলমেটটি ছুড়ে ফেলেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, ‘জুলুম, নির্যাতন করে আমাদের থামানো যাবে না। জামায়াত জনগণের জন্য লড়বে।’
এদিকে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাগেজ ও ট্রলি সংকটকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খলা, সরকারি কাজে বাধা, হুমকি ও নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে মারধরের অভিযোগে করা মামলায় আখতারুজ্জামানকে এক দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। শনিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলবিরুনী মীর শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। পুলিশ তার পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়েছিল।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, ১ অক্টোবর মদিনা থেকে আসা বাংলাদেশ বিমানের বিজি-৩৩৮ ফ্লাইটের যাত্রীদের লাগেজ পেতে বিলম্ব হওয়ায় বিমানবন্দরে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে গেলে আখতারুজ্জামান তার সঙ্গে অশোভন আচরণ, গালাগাল ও হুমকি দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়েছে, আখতারুজ্জামানের সঙ্গে থাকা কয়েকজন সংরক্ষিত এলাকায় ভিডিও ধারণ করলে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা সুপারভাইজার ওয়ারেন্ট অফিসার মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন এতে বাধা দেন। এরপর তাকে গালাগাল ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ আনা হয়েছে।
এ ছাড়া সাধারণ যাত্রীদের জমজমের পানির বোতল ছুড়ে ফেলা এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের এক প্রতিনিধির সঙ্গে মারমুখী আচরণেরও অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতেই বিমানবন্দর থানায় মামলা করা হয়েছে। মামলার তদন্ত প্রতিবেদন আগামী ১০ নভেম্বরের মধ্যে দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
মামলার অভিযোগগুলো তদন্তাধীন। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত এগুলোকে অভিযোগ হিসেবেই বিবেচনা করা হচ্ছে।