বিদ্যুৎ বিল নিয়ে মোটামুটি দুশ্চিন্তায় থাকেন সবাই। লাইট, ফ্রিজ, কম্পিউটার, ওয়াশিং মেশিন, ওভেন, ব্লেন্ডার, আয়রন মেশিনসহ আরও অনেক কাজে বিদ্যুৎ খরচ হয়। আর মাস শেষে বিদ্যুতের বিল হয়ে যায় অনেক। আবার এসি ব্যবহার না করেও অনেকের ইউনিট বেশি পুড়েছে। জানেন এর কারণ কী?
দৈনন্দিন জীবনে কয়েকটি সাধারণ ও সচেতন অভ্যাস অনুসরণ করলেই উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বিদ্যুৎ সাশ্রয় করা সম্ভব। অপ্রয়োজনীয় বাতি ও বৈদ্যুতিক যন্ত্র বন্ধ রাখা, জ্বালানি-সাশ্রয়ী প্রযুক্তি ব্যবহার এবং বিদ্যুতের অপচয় কমানোর মতো উদ্যোগ বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে।
.png)
এসি: গরমের সময়ে সবচেয়ে বেশি বিদ্যুৎ খরচের অন্যতম কারণ হতে পারে এসি। তাপমাত্রা খুব কমিয়ে দিয়ে দীর্ঘক্ষণ চালালে বিদ্যুৎ খরচ বাড়তে পারে।
ফ্রিজ: ফ্রিজ ২৪ ঘণ্টাই চলে। দরজা বারবার খোলা, অতিরিক্ত বরফ জমা, দরজার রাবার নষ্ট হওয়া বা যন্ত্রের রক্ষণাবেক্ষণের অভাবেও বিদ্যুৎ খরচ বেড়ে যেতে পারে।
পানির পাম্প: প্রয়োজনের তুলনায় বেশি সময় পাম্প চালানো হলে অপ্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ খরচ হয়। পাম্পে যান্ত্রিক সমস্যা থাকলেও একই কাজ করতে বেশি বিদ্যুৎ লাগতে পারে।
গিজার ও হিটার: এগুলো তুলনামূলক বেশি ক্ষমতার যন্ত্র। প্রয়োজন না থাকলে চালু রাখা উচিত নয়।
ইস্ত্রি, রাইস কুকার ও ইলেকট্রিক কেটলি: অল্প সময় চলে বলে খরচ কম মনে হলেও উচ্চ ক্ষমতার এসব যন্ত্র নিয়মিত বেশি ব্যবহার করলে ইউনিট বাড়তে পারে।
জেনে নিন বিদ্যুৎ বিল কমানোর ৯ কৌশল-
১. মোবাইল চার্জার থেকে খোলার পর অবশ্যই সুইচ বন্ধ করতে হবে।
২. বেশিরভাগ সময় এসি রিমোট দিয়ে বন্ধ করার পর সুইচ বন্ধ করি না। এতেও কিছুটা অতিরিক্ত ইউনিট পোড়ে।
৩. ব্যবহার করুন সিএফএল বা এলইডি লাইট। এসব লাইটের আলোয় ফিলামেন্টের তুলনায় সার্কিট ব্যবহার হওয়ায় বিদ্যুতের খরচ কমে।
৪. যে কোনও বৈদ্যুতিক যন্ত্র কেনার সময় স্টার রেটিংয়ে ভরসা রাখুন। কোনও যন্ত্রের স্টার রেটিং বেশি হলে তার ইউনিট বাঁচানোর ক্ষমতাও ততোধিক।
৫. পুরনো তার, পুরনো যন্ত্র ব্যবহারে বিদ্যুৎ বিল বাড়ে। তাই দশ-পনেরো বছরের পুরনো যন্ত্র বা তার ব্যবহার না করে আধুনিক যন্ত্র ব্যবহার করুন।
৬. ঘন ঘন এসি চালু ও বন্ধ করবেন না। চালিয়ে কিছুক্ষণ পর বন্ধ করাই নিয়ম।
৭. রোদ পড়ে এমন জায়গায় এসির আউটলেট রাখবেন না। অনেকে মাথার উপরে একটি শেড করে দেন। এটিও ভুল ধারণা। এসি মেশিন রোদ-বৃষ্টির হাত থেকে বাঁচাতে ঢেকে রাখলে তাতে মেশিন খারাপ হয় তাড়াতাড়ি।
৮. এসির তাপমাত্রা ২৪ ডিগ্রির নিচে নামাবেন না। তাতে বেশি ইউনিট খরচ হয়।
৯. দিনে এক ঘণ্টা করে বন্ধ রাখুন ফ্রিজ। যন্ত্রও বিশ্রাম পাবে, বিদ্যুৎও বাঁচবে।
নিয়ম করে সব যন্ত্রেরই সার্ভিসিং করান সময় মতো। এতে যন্ত্র ভালো থাকে ও কম বিদ্যুৎ টানে।
লোডশেডিং হলেই যে মাসের বিদ্যুৎ বিল কম আসবে, এমনটা কিন্তু নয়। অনেক সময় বিদ্যুৎ না থাকার সময় কম হলেও বাকি সময়ে ফ্রিজ, এসি, পানির পাম্প, গিজার, টিভি, কম্পিউটারসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক যন্ত্র বেশি সময় চললে মোট খরচ বেড়ে যেতে পারে। আবার মিটারের সমস্যা, ভুল রিডিং কিংবা বাড়ির বৈদ্যুতিক লাইনে ত্রুটি থাকলেও অস্বাভাবিক বিল আসতে পারে।