সোমবার রাজধানীর মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট ও টাউন হল বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সপ্তাহ ব্যবধানে শুধু দেশি মুরগির দাম বেড়েছে কেজিতে ৫০ টাকার ওপরে। আর ব্রয়লার ও সোনালি মুরগির দাম বেড়েছে কেজিতে ২০ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত। এছাড়া গরু ও খাসির মাংসের দাম বেড়েছে কেজিতে ৫০ টাকার বেশি।
বাজারে প্রতি কেজি সোনালি মুরগি ৩৩০-৩৭০ টাকা, দেশি মুরগি ৬৫০-৭০০ টাকা, ব্রয়লার ২৩০-২৬০ টাকা, সাদা লেয়ার ২৯০ টাকা ও লাল লেয়ার বিক্রি হচ্ছে ৩৩০-৩৫০ টাকায়। আর জাতভেদে প্রতি পিস হাঁস বিক্রি হচ্ছে ৬০০-৭০০ টাকায়।
.png)
ক্রেতারা বলেন, ঈদের আগে সিন্ডিকেট করে দাম বাড়াচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে। তবুও দেওয়া হচ্ছে সংকটের অজুহাত।
আর বিক্রেতারা জানান, ঈদের কারণে চাহিদা বেড়েছে মাংসের; যা সরবরাহের তুলনায় অনেক বেশি। এতে বাড়ছে দামও।
দাম বাড়ার কারণ জানতে চাইলে প্রান্তিক খামারিদের সংগঠন বাংলাদেশ পোল্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিএ) সভাপতি সুমন হাওলাদার বলেন, মুরগির বাজারে এখন বেশিরভাগ মুরগি কর্পোরেট গ্রুপগুলোর। বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে তারা। ফলে বাজারে মুরগির দাম বাড়বে এটাই স্বাভাবিক।
প্রান্তিক খামারিদের উৎপাদন খরচ বাড়ছে জানিয়ে তিনি বলেন, একটি মুরগির বাচ্চা উৎপাদন করতে খরচ হয় ২৮ থেকে ৩০ টাকা। অথচ প্রান্তিক খামারিদের সেই বাচ্চা কিনতে হয় ৮০ থেকে ৯০ টাকায়। অন্যদিকে ব্রয়লার মুরগির ফিড উৎপাদন করতে খরচ হয় ৫০ থেকে ৫৫ টাকা; কিন্তু প্রান্তিক খামারিদের সেই ফিড কিনতে হয় ৭০ থেকে ৭৫ টাকা কেজি দরে। আর এক কেজি ব্রয়লার মুরগি উৎপাদন করতে খরচ হয় ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা।
এদিকে, বাজারে আবারো বেড়েছে গরুর মাংসের দাম। কেজিতে ৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৭৫০-৮০০ টাকায়। কোথাও কোথাও বেড়েছে আরো বেশি। এছাড়া দাম বেড়েছে খাসির মাংসেরও। বাজারভেদে বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ১০০ টাকা থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত।
বাংলাদেশ মাংস ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি গোলাম মুর্তজা বলেন, গরুর দাম বেড়েছে; তাই মাংসের দামও বেড়েছে।
ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে চিনি, পোলাও এর চাল, দুধ, সেমাই ও কিশমিশের দাম। একই সঙ্গে মসলা জাতীয় পণ্যের মূল্যও বেশ বাড়তি। তবুও ভোগ্যপণ্য কিনতে বাজারে ক্রেতাদের ভিড়।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, দোকানগুলোতে লাচ্ছা ও চিকন সেমাই প্যাকেটজাত ও খোলা আকারে বিক্রি হচ্ছে।
মানভেদে সেমাইয়ের দাম বেড়েছে কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা। বর্তমানে খোলা লাচ্ছা সেমাই বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ১৬০ থেকে ১৮০ টাকায়। আর প্রাণ কোম্পানির চিকন সেমাই কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১৪০ টাকায়। প্যাকেটজাত ২০০ গ্রাম সেমাই ব্র্যান্ডভেদে ৪৫ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, ২০০ গ্রাম মেট্রো সেমাই ৫০ টাকা, বনফুল ৫০ টাকা এবং কুলসুন সেমাই ৪৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
চাহিদার প্রভাবে মসলার দামও বেশ চড়া
এলাচ ১ কেজি ৩২৫০ টাকা, দারুচিনি ১ কেজি ৫৫০ টাকা, লবঙ্গ ১ কেজি ১৬০০ টাকা, জিরা ১ কেজি ৭০০ টাকা, জয়ফল ১ কেজি ১২৫০ টাকা, জয়ত্রী ১ কেজি ৩৬০০ টাকা, আলুবোখারা ১ কেজি ৪৮০ টাকা, পেস্তা বাদাম ১ কেজি ২৯৫০ টাকা, কাজুবাদাম ১ কেজি ১২৫০ টাকা, এছাড়া চিনা বাদাম ১৯০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। কিশমিশ বিক্রি হচ্ছে মানভেদে ৫৫০ থেকে ৬৫০ টাকা কেজি দরে।
এর মধ্যে এলাচ গত সপ্তাহে ২৮৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে এর দাম বেড়েছে ৪০০ টাকা। এছাড়াও জয়ত্রী বিক্রি হয়েছে ৩৪০০ টাকা ও কাজু বাদাম বিক্রি হয়েছে ১২০০ টাকায়। এক সপ্তাহে এসব পণ্যের দাম বেড়েছে যথাক্রমে ২০০ ও ৫০ টাকা।
ঈদে প্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্য পোলাও চাল। রমজান মাসের শুরু থেকে ১-২ টাকা করে বেড়ে এখন খোলা চিনিগুঁড়া ১২৫ থেকে মানভেদে ১৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া বিভিন্ন কোম্পানির প্যাকেটজাত চাল ১৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি হতে দেখা গেছে।
ব্যবসায়ীরা জানান, এরই মধ্যে ডানো, পুষ্টি, ডিপ্লোমাসহ ইত্যাদি ব্র্যান্ডের গুঁড়া দুধ কেজিতে ৫০ টাকা বেড়ে গেছে। অন্য কোম্পানিগুলোও দাম বাড়াতে পারে। খোলা চিনি ১৪০ টাকা ও প্যাকেটজাত চিনি ১৭০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। দামও কোথাও কোথাও কেজিপ্রতি ৫ টাকা বাড়তি রাখা হচ্ছে।
দাম বেড়ে যাওয়ার কারণ জানতে চাইলে টাউন হল মার্কেটের শরিফুল স্টোরের বিক্রেতা রইস বলেন, পরিবহন খরচসহ সবকিছু মিলিয়ে এবার দাম একটু চড়া। তাছাড়া আমাদেরও বেশি দামে কিনতে হয়েছে।
মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটে বাজার করতে আসা ক্রেতা বশির উদ্দিন বলেন, উৎসবকে পুঁজি করে ব্যবসায়ীরা অতিরিক্ত মুনাফা করছে। এ অবস্থায় অস্থির বাজার নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত বাজার তদারকি প্রয়োজন।