পেঁয়াজের দাম বাড়ছেই, মুরগির দামে স্বস্তি
চলতি সপ্তাহেও বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে কাঁচা মরিচসহ সব ধরনের সবজি। বিশেষ করে পেঁয়াজের দাম আরো বেড়েছে। গত সপ্তাহে পেঁয়াজ ১০০ টাকা কেজি বিক্রি হলেও বর্তমানে ৫-১০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। তবে ব্রয়লার মুরগির দামে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে। বর্তমানে বাজারে প্রতিকেজি ব্রয়লার মুরগি ১৬৫ থেকে ১৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
সোমবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
বাজারে প্রতিকেজি পেঁয়াজ ১০০-১১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা গত সপ্তাহর চেয়ে কেজিতে ৫-১০ টাকা বেশি বেড়েছে। প্রতি কেজি গোল বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৮০-১০০ টাকা। লম্বা বেগুন প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৭০-৮০ টাকা, টমেটো ৬০-৭০ টাকা, করলা ৮০-৯০ টাকা, চিচিঙ্গা ৭০-৮০ টাকা, ঢেঁড়স ৪০-৫০ টাকা মান ও সাইজভেদে লাউ ৬০-৭০ টাকা, শসা ৫০-৬০, মিষ্টি কুমড়ার কেজি ৫০ থেকে ৬০ টাকা, জালি ৫০-৬০ টাকা, পেঁপে ৭০, কাঁচা কলার ডজন ১২০ টাকা।
পাট শাক ১৫-২০ টাকা আঁটি, কলমি শাক ১০-১৫ টাকা, লাউ শাক ৩০-৪০ টাকা, লাল শাক ১৫ টাকা, পুঁইশাক ৩০-৪০ টাকা আঁটি বিক্রি হচ্ছে। তবে বাজারের তুলনায় ভ্যানে কিংবা ফুটপাথের দোকানগুলোতে সব সবজির দাম ৫-১০ টাকা কমে পাওয়া যাচ্ছে। রসুন ২২০ থেকে ২৪০ টাকা কেজি। আদা ৩০০-৩২০ টাকা কেজি, আলুর কেজি গত সপ্তাহে ৬০ টাকা থাকলেও ৫ টাকা বেড়ে বর্তমানে ৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
প্রতিকেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৬৫ থেকে ১৭০ টাকা। সোনালি জাতের মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২৯০ থেকে ৩০০ টাকা। গরুর মাংস বিক্রি হচ্চে ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকার মধ্যে। খাসির গোশত বিক্রি হচ্ছে ১০০০ থেকে ১১০০ টাকা কেজি।
মাছের বাজারে আকারভেদে তেলাপিয়া ২০০-২৫০ টাকা, পাঙাশ ২০০ থেকে ২৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। মাঝারি ও বড় আকারের চাষের রুই, কাতলা ও মৃগেল মাছের দাম প্রতি কেজি ৩০০ থেকে শুরু করে আকারভেদে ৪০০-৪৫০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। ৬০০ টাকার নিচে নেই পাবদা, টেংরা, কই, বোয়াল, চিতল, আইড় ও ইলিশ মাছ। মাছ যত বড় তার দামও তত বেশি।
ডিমের ডজন গত সপ্তাহের মতোই আছে। তবে মাঝে-মধ্যে দাম বাড়ার বিষয়ে প্রান্তিক খামারিরা দায়ী করেছেন তেজগাঁও আড়ত মালিকদের সিন্ডিকেটকে। তারা বলছেন, সিন্ডিকেট কিছুদিন আগে ডিমের দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়িয়েছিল হিমাগারে মজুত করে। এখন দামে কিছুটা স্বস্তি বিরাজ করছে। বর্তমানে ব্রয়লার মুরগির এক ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ৫২-৫৫ টাকা।
গত সপ্তাহে বৃদ্ধি পাওয়া দামেই বিক্রি হচ্ছে সব ধরনের চাল। খুচরা বাজারে প্রতিকেজি নাজিরশাইল ৭০ থেকে ৭৮ টাকা, মিনিকেট ৬২ থেকে ৬৮ টাকা, বিআর-২৮ ও বিআর-২৯ চাল ৫৪ থেকে ৫৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মোটা চাল বিক্রি হচ্ছে প্রতিকেজি ৫৪ টাকা এবং মোটা হাইব্রিড চাল প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছে ৪৮ টাকায়।
ক্রেতারা বলছেন, সরকার নিত্যপণ্যের দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখতে সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করলেও তা কোনো কাজে আসছে না। মুনাফালোভী ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্যে নিত্যপণ্যের দাম প্রতিনিয়ত বাড়ছে। কিন্তু বেতন বাড়ছে না। খাবারের তালিকা ছোট করতে করতে এখন সংসার চালানোই দায় হয়ে পড়েছে।
রাজধানীর মহাখালীর কাঁচা বাজারের ব্যবসায়ী মনিরুল ইসলাম ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, পেঁয়াজের দাম কেজিতে ৫-১০টাকা বেড়েছে। পেঁপের দামও বেড়েছে। তাছাড়া অন্যান্য সবজি ও মাছ-মাংসের বাজার বর্তমানে স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে।