ঢাকা,  মঙ্গলবার   ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ জাতীয় ]

ক্যাম্পে বিভৎস্য হত্যাকাণ্ড, মাদক ব্যবসা, সন্ত্রাসী কার্যক্রম

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২১:৩১, ২২ অক্টোবর ২০২১
ক্যাম্পে বিভৎস্য হত্যাকাণ্ড, মাদক ব্যবসা, সন্ত্রাসী কার্যক্রম
রোহিঙ্গা ক্যাম্প-ফাইল ছবি

রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে প্রতিদিন কোনো না কোনো অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, যতই দিন যাচ্ছে আশ্রিত রোহিঙ্গারা ভয়ঙ্কর সব অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। ক্যাম্পে বিভৎস্য হত্যাকাণ্ড, ছিনতাই, সন্ত্রাসী কার্যক্রম, ইয়াবা ব্যবসা ও অনিয়মতান্ত্রিক কাজে রোহিঙ্গাদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যাচ্ছে।

শুক্রবার (২২ অক্টোবর) কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার ১৮ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের দুরুল উলুম নাদাওয়াতুল উলামা আল ইসলামিয়া মাদরাসায় সশস্ত্র হামলা চালিয়েছে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী সংগঠন আরসা। এতে মাদরাসার চার শিক্ষক ও দুই ছাত্র নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো ১৭ জন। 

নিহতরা হলেন- ১২ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের জে/৫ ব্লকের মো. আলীর ছেলে হাফেজ ইদ্রিস (৩৫), ১৮ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের এফ/২২ ব্লকের মো. নবীর ছেলে হাফেজ নুর হালিম (৪৫), ২৪ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের (লেদা) মৌলভী হামিদুল্লাহ (৫০), ১৮ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের এ/৩৮ ব্লকের হাবিবুল্লাহর ছেলে মো. আমিন (৩৫), ৮নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের (ইস্ট) এ/৩৮ ব্লকের হাবিবুল্লাহর ছেলে মো. ইব্রাহীম (১৯), ১৮ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের এইচ/৫২ ব্লকের নুর ইসলামের ছেলে মো. আজিজুল হক (২০)।

Advertisement

জানা গেছে, ১৮ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের এইচ/৫২ ব্লকের দুরুল উলুম নাদাওয়াতুল উলামা আল ইসলামিয়া মাদরাসায় হামলা করে আরসার ১০০ সন্ত্রাসীরা। হামলায় ২০ জনের নেতৃতৃ দেয় রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী সংগঠন আরসার ১৮ নম্বর রোহিঙ্গ ক্যাম্প জিম্মাদার কে/১৪ ব্লকের মোহাম্মদ বাচেরের ছেলে মৌলভী আকিজ ওরফে মৌলভী অলি (৪০)। এ হামলায় ৪০ জনের নেতৃত্ব দেয় ৯ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সি/৬ ব্লকের আব্দুল্লাহের ছেলে ডা. নুর কলিম ওরফে ওয়াক্কাস (৪০)। একই হামলায় ৪০ জনের নেতৃত্ব দেয় ৮ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের (ইস্ট) বি/৪৪ ব্লকের  মৌলভ জমির হোসেন ওরফে মৌলভী দিলদার হোসেন ওরফে মৌলভী আবু বক্কর (৪৫)। 
হামলার খবর পেয়ে ৮ এপিবিএন পুলিশের টহলদল ঘটনাস্থল থেকে ছয়জনের মরদেহ উদ্ধারের পাশাপাশি আহত ১৭ জনকে এমএসএফ হাসপাতালে প্রেরণ করে। আহতদের মধ্যে ছয়জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ ছয়টি রাইফেল, একটি পিস্তল ও সাত রাউন্ড অ্যামোনেশন উদ্ধার করা হয়। 

আরো জানা গেছে, হামলার সময় ঘটনাস্থল থেকে পুলিশের টহলদল আনুমানিক ২০০ গজ দূরে থাকলেও নিরাপত্তা ঘাটতির জন্য প্রতিরোধ করেনি বলে জানা যায়। পরবর্তীতে পুলিশ ক্যাম্প থেকে অতিরিক্ত পুলিশ আসার পর তারা ঘটনাস্থলে গমন করে। তাছাড়া হামলার কিছুক্ষণ আগে পুলিশের টহলদল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। মূলত পুলিশ চলে যাওয়ার পরই হামলা শুরু হয়। 

জানা যায়, উক্ত মাদরাসার শিক্ষক ও ছাত্রদের আরসা সংগঠনের সঙ্গে মিলে কাজ করার আহ্বান জানানো হলে তারা প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করে। তাই দীর্ঘদিন  তাদের উপর আরসা ক্ষুব্ধ ছিলো সন্ত্রাসী সংগঠন আরসার সদস্যরা। সম্প্রতি একাধিকবার আরসা তাদের উপর হামলা চালানোর চেষ্টা করেছিলো। 

একই দিন (২২ অক্টোবর) ১৮ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মাদরাসায় রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী সংগঠন আরসা হামলায় বিভৎস্য হত্যাকাণ্ড দেখে হার্ট অ্যাটাকে মারা গেছেন এক রোহিঙ্গা নারী। ফতেমা বেগম (৪৫) নামের ওই রোহিঙ্গা নারী জি/৪৬ ব্লকের আবু ওসমানের স্ত্রী। 

জানা গেছে, দুরুল উলুম নাদাওয়াতুল উলামা আল ইসলামিয়া আরসা সদস্যদের হামলা ও বিভৎস্য হত্যাকাণ্ড দেখে হার্ট অ্যাটাক করেন ফতেমা বেগম। তাৎক্ষণিক তাকে এমএসএফ হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

এদিকে বৃহস্পতিবার (২১ অক্টোবর) কক্সবাজারের উখিয়ার ১২ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নিজ ঘর থেকে ১০ হাজার ইয়াবাসহ এমদাদুল হক (৩০) নামের এক রোহিঙ্গা ব্যবসায়ীকে আটক করেছে র‌্যাব-১৫। এমদাদুল ওই ক্যাম্পের এইচ/১৭ ব্লকের কবির আহমেদের ছেলে। আটক এমদাদুল এখন র‌্যাবের হেফাজতে রয়েছে। 

একই দিন টেকনাফ উপজেলার ২১ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্প (চাকমারকুল) থেকে জোবায়ের (২৬) নামের এক অস্ত্র, ডাকাতি ও মাদক মামলা আসামিকে গ্রেফতার করেছে হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ির একটি দল। গ্রেফতার জোবায়ের ওই ক্যাম্পের এ/৬ ব্লকের মো. আলমের ছেলে। গ্রেফতার আসামির বাবা একজন আরসার জিম্মাদার। এছাড়া গ্রেফতার রোহিঙ্গা জোবায়ের আরসার উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করছে। আসামিকে টেকনাফ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২১ অক্টোবর) টেকনাফের বাহারছড়ার শামলাপুর ২৩ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে আল ইয়াকিনের সদস্য মো. শহিদুল আমিন (২২) নামের এক রোহিঙ্গাকে আটক করেছে ১৬ এপিবিএন পুলিশ। আটক শহিদুল ২০ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের এম/২৫ ব্লকের নুরুল আমিনের ছেলে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নিজেকে আল ইয়াকিন সদস্য বলে স্বীকার করেছে শহিদুল। তাকে টেকনাফ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। 

অন্যদিকে, উখিয়া উপজেলার ১০ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বাকি টাকাকে কেন্দ্র করে দুই রোহিঙ্গার মধ্যে রক্তক্ষয়ী মারামারি হয়েছে। এতে আহত একজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

আহত রোহিঙ্গা দুষ্কৃতিকারী আবু মুসা (৩৫) ১০ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের জি/১৪ ব্লকের সিকান্দারের ছেলে। অপর দুষ্কৃতিকারী সৈয়দ আমিন (৪৯) একই ক্যাম্পর জি/১৩  ব্লকের আমির হামজার ছেলে। 

জানা গেছে, ১০ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের জি/১৩ ব্লকের দোকানের বাকি টাকা নিয়ে মাঝি আবু মুসা ও মাঝি সৈয়দ আমিনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে মাঝি সৈয়দ আমিন মাঝি আবু মুসাকে মেরে মাথা ও নাক ফাটিয়ে দেয়। পরে অন্য রোহিঙ্গারা আহত মাঝি মুসাকে দ্রুত ৯ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের তুর্কি হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠান।

একই দিন উখিয়া উপজেলার ১৬ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বি/২ ব্লকে ফানুস পড়ে আগুন লাগে। ভোক্তভোগী আবুল হাকিম একই ক্যাম্পের বি ব্লকের রোহিঙ্গা আব্দুল কাদেরের ছেলে। জানা গেছে, আব্দুল কাদেরের ঘরে ফানুস পড়লে চালে আগুন লাগে। তবে তাৎক্ষণিক অন্যান্য রোহিঙ্গারা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। এ ঘটনায় বড় কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।

বৃহস্পতিবার (২১ অক্টোবর) উখিয়া উপজেলা থেকে অপহরণ মামলার আসামি ও আরসার সদস্য এনায়েতুল্লাহ (৩৫) নামের এক রোহিঙ্গাকে গ্রেফতার করেছে ৮ এপিবিএন পুলিশ (তানজিমারখোলা)। গ্রেফতার আসামি ১৩ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সি/৭ ব্লকের রহিমুল্লাহের ছেলে। তাকে উখিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। 

জানা যায়, গ্রেফতার মাঝি এনায়েতুল্লাহ অপহরণ মামলার আসামি ও আরসার সদস্য। কিছুদিন আগে স্থানীয় বাঙালি মো. খালেককে অপহরণ করার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে এনায়েতুল্লাহের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করা হয়।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমকেএ
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!