ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ জাতীয় ]

ভয়ংকর মাদক আইসের চাঞ্চল্যকর তথ্য

নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২:০১, ৩ জানুয়ারি ২০২২
ভয়ংকর মাদক আইসের চাঞ্চল্যকর তথ্য
ফাইল ফটো

আন্তর্জাতিক মাদক ব্যবসায়ীরা ভয়ংকর মাদক ক্রিস্টাল ম্যাথ বা আইস বাংলাদেশে বাজারজাত করছে। এর সঙ্গে জড়িত স্থানীয় ইয়াবা ব্যবসায়ী ও পাহাড়ি বিভিন্ন সন্ত্রাসী গ্রুপ।

মিয়ানমার এবং ভারতভিত্তিক সন্ত্রাসী গ্রুপগুলোর সহযোগিতায় প্রথম দিকে নেশায় অভ্যস্ত করতে অনেকটা বিনামূল্যে এসব মাদক সরবরাহ করলেও এখন কোটি টাকায় বিক্রি করছে প্রতি কেজি আইস। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের এক গোপন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে মাদক পাচারের চাঞ্চল্যকর এসব তথ্য।

গত ৯ মাসে বৃহত্তর চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে ধরা পড়া ক্রিস্টাল ম্যাথ বা আইসের ২২টি চালান নিয়ে অনুসন্ধান শুরু করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর। এতে বের হয়ে আসে, মিয়ানমার সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সহযোগিতায় বাংলাদেশের সীমান্তঘেঁষে গড়ে তোলা হয়েছে সবগুলো আইস কারখানা।

Advertisement

মিয়ানমার এবং ভারতভিত্তিক সন্ত্রাসীগ্রুপগুলো এসব কারখানা নিয়ন্ত্রণ করলেও তাদের সঙ্গে রয়েছে আন্তর্জাতিক মাদক চোরাকারবারী চক্র। ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে রয়েছে বাংলাদেশের মাদক ব্যবসায়ীরাও।

চট্টগ্রাম বিভাগীয় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের অতিরিক্ত পরিচালক মুজিবুর রহমান পাটোয়ারী সংবাদমাধ্যমে বলেন, ইয়াবা মিয়ানমার থেকে আসছে। এখন আমরা দেখছি, আইসও মিয়ানমার থেকে আসছে। ইয়াবার যে রুটটা আছে, সেটাই তারা ব্যবহার করছে। মাদক আনার ক্ষেত্রে নাফ এবং সমুদ্র পথটাকেই তারা ব্যবহার করছে।

চট্টগ্রাম বিভাগীয় মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক হুমায়ুন কবীর খন্দকার সংবাদমাধ্যমে বলেন, মিয়ানমারের যে সন্ত্রাসী গ্রুপগুলো বা বিচ্ছিন্নতাবাদীরা যারা ইয়াবার সঙ্গে জড়িত, তারাই ক্রিস্টাল ম্যাথ বা আইস পাচার করছে। একইসঙ্গে তারা এটার মূল দামে চেয়ে অনেক কম দামে আমাদের দেশে বাজারজাত করার জন্য প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে।

ইয়াবার চেয়ে পরিবহনে সহজ এবং কয়েকগুণ বেশি লাভজনক হওয়ায় আইস পাচারের দিকে ঝুঁকছে আন্তর্জাতিক চক্রটি। দুর্গম এলাকাগুলোতে মিয়ানমার এবং ভারতীয় সন্ত্রাসী গ্রুপগুলোর শক্তিশালী অবস্থান থাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও প্রতিরোধে কিছু করতে পারছে না। বিষয়টি উদ্বেগজনক উল্লেখ করে শক্ত হাতে দমন করার কথা বলেছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা।

নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর অব. এমদাদুল ইসলামের বরাত দিয়ে দেশীয় এক বেসরকারি টেলিভিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাদক ক্রিস্টাল ম্যাথ বা আইস উৎপাদন হয় মিয়ানমারে। আমাদের দেশের জন্য এটা মারাত্মক ঝুঁকি। এ মাদক আমাদের বন্ধ করতে হলে, জাতিকে রক্ষা করতে হলে, আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপ থাকতে হবে। এ ছাড়া এটা বন্ধ করা সম্ভব না। কারণ আমাদের এখানে যারা ধরা পড়ছেন, তারা বহনকারী। উৎপাদন যেখানে, সেখানে যদি আঘাত করা না হয়, তাহলে এটা বন্ধ করা যাবে না।  

এদিকে র‌্যাবের আরেক অনুসন্ধানে বের হয়ে এসেছে সাগর ও সড়কপথ ছাড়াও পাহাড়ি সীমান্ত এলাকা দিয়েও ক্রিস্টাল ম্যাথ আসছে দেশে। আর সঙ্গে জড়িত পাহাড়ি বিভিন্ন সন্ত্রাসী গ্রুপ।

র‌্যাব-৭-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল এম এ ইউসুফ বলেন, আমাদের মনে হচ্ছে, যারা ইয়াবা ব্যবসায়ী, তারাই আইসকে আমাদের দেশে চালু করার চেষ্টা করছে। যেসব কারখানায় ইয়াবা উৎপাদন হতো, সেখানেই আইস উৎপাদন হয়।

মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের ও র‌্যাবের তথ্য মতে, মিয়ানমারের কারখানা পর্যায়ে প্রতি কেজি আইস বিক্রি হয় মাত্র ৫ লাখ টাকায়। এরপর সীমান্ত পেরিয়ে টেকনাফে ১০ লাখ, কক্সবাজারে ১৫ লাখ, চট্টগ্রামে ২৫ লাখ ও সবশেষ রাজধানীতে ৭৫ লাখ থেকে এক কোটি টাকায় বিক্রি হয়।

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!