বেশি পর্নোগ্রাফির শিকার নারী, হ্যাকিংয়ে পুরুষ
দেশে সামাজিক মাধ্যমে পুরুষের চেয়ে তুলনামূলক নারীরা বেশি হয়রানি ও পর্নোগ্রাফির শিকার হচ্ছেন। তবে মোবাইল ব্যাংকিং ও এটিএম কার্ড হ্যাকিংয়ে বেশি শিকার হচ্ছেন পুরুষ। ভুক্তভোগীদের বেশির ভাগেরই বয়স ১৮ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে।
স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সাইবার ক্রাইম অ্যাওয়ারনেস ফাউন্ডেশনের (সিসিএ ফাউন্ডেশন) ‘বাংলাদেশ সাইবার অপরাধপ্রবণতা-২০২২’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
.png)
শনিবার দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনে (ক্র্যাব) আয়োজিত অনুষ্ঠানে ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষক মনিরা নাজমী জাহান গবেষক দলের প্রধান হিসেবে এ প্রতিবেদন তুলে ধরেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ৫০ দশমিক ২৭ শতাংশ মানুষ সাইবার বুলিংয়ের শিকার হচ্ছেন। ছবি বিকৃত করে অপপ্রচার, পর্নোগ্রাফি কনটেন্ট, সামাজিক গমাধ্যমে অপপ্রচার এবং অনলাইনে-ফোনে মেসেজ পাঠিয়ে হুমকি দিয়ে মানসিক হয়রানির ঘটনা ক্রমেই বাড়ছে।
গবেষণায় বলা হয়েছে, ভুক্তভোগীদের মধ্যে মাত্র ৭ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে অভিযোগ দিয়ে ফল পেয়েছেন। ৫৫ দশমিক ৭৩ শতাংশ ভুক্তভোগী অভিযোগ দিয়ে কোনো ফল পাননি।
এতে বলা হয়, ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের বেশিরভাগই ভুক্তভোগী। একটি ইন্টারনেট সংযোগ একই সময়ে পরিবারের ১৩ থেকে ১৪ জন্য ব্যবহার করেন। কিন্তু সবাই ঝুঁকির বিষয়ে সচেতন নন। কারণ, দেশে ১২ হাজার থেকে ১৫ হাজার অবৈধ ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ব্যবহারকারীদের আইডি লগ সংরক্ষণ করে না।
৪ বছরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার কমলেও গত বছর এ ধরনের অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধি পায়। আশঙ্কার জায়গা তৈরি হয়েছে অনলাইন কেনাকাটায়। ই-কমার্স খাতে ৪ বছরে ধারাবাহিক অপরাধ বৃদ্ধির হার প্রায় দ্বিগুণ।
অনুষ্ঠানে আলোচকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন আইএসপিএবির প্রেসিডেন্ট ইমদাদুল হক, প্রযুক্তিবিদদের আন্তর্জাতিক সংগঠন আইসাকা ঢাকা চ্যাপ্টারের সাবেক সভাপতি ইকবাল হোসাইন, ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার সুলতানা ইশরাত জাহান প্রমুখ।