ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ জাতীয় ]

ফুটপাত যেন উন্মুক্ত রেস্তোরাঁ

মিনহাজুল ইসলাম 
প্রকাশিত: ১৭:২৯, ১৩ এপ্রিল ২০২৩
ফুটপাত যেন উন্মুক্ত রেস্তোরাঁ
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

পুরান ঢাকার ব্যস্ততম ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকা লক্ষ্মীবাজার। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পূর্বদিকে অবস্থিত লক্ষ্মীবাজারের সুভাস বোস সড়কটি মিলিত হয়েছে বাহাদুর শাহ পার্কের সঙ্গে। এ সড়কের সঙ্গেই অবস্থিত সরকারি কবি নজরুল কলেজ, সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, মহানগর মহিলা কলেজ, সরকারি মুসলিম হাই স্কুলসহ আরো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

প্রতিদিন এ সড়কটি দিয়ে চলাচল করেন অসংখ্য মানুষ। অথচ সড়কটির ফুটপাত দেখে বোঝার উপায় নেই, এটি মানুষের চলাফেরার জন্য। দেখে মনে হবে এটা যেন উন্মুক্ত রেস্তোরাঁ।

ফুটপাত সংলগ্ন মূল সড়ক দখল করে বসে আছে সারি সারি অস্থায়ী দোকান। ফুটপাথে বসে খাওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে। সারাদিনই দেখা যায় এমন চিত্র। বিকেল গড়াতেই একেবারে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায় লক্ষ্মীবাজারের ফুটপাত, যেন পা ফেলার জায়গা পাওয়াও দায়। এমন নয় যে, এখানে পর্যাপ্ত রেস্তোরাঁ নেই। মূলত পর্যাপ্ত রেস্তোরাঁ থাকা সত্ত্বেও এলাকাটির প্রভাবশালীদের ম্যানেজ করেই ফুটপাত দখল করে বাণিজ্য চালিয়ে আসছেন একশ্রেণির হকাররা।

Advertisement

খাবারের দোকানের পাশাপাশি লক্ষ্মীবাজারে দেখা মেলে পোশাক, জুতা-স্যান্ডেলসহ অসংখ্য পণ্য সামগ্রীর অস্থায়ী দোকান। ফলে, ফুটপাত দেখে বোঝার উপায় থাকে না এটা মানুষের চলাচলের জন্য, না বাণিজ্যের জন্য।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সেখানকার কয়েকজন হকার জানান, প্রতিদিন দুইশ’ টাকা চাঁদা দিয়ে ফুটপাত দখল করে ব্যবসা করেন তারা। এসব চাঁদার টাকা যায় স্থানীয় প্রভাবশালীদের পকেটে।

সরেজমিন দেখা যায়, দুইপাশের ফুটপাত সংলগ্ন সড়ক দখল করে দোকান বসানোয় মূল সড়কের প্রায় অর্ধেক জায়গা দখল হয়ে আছে। ফলে ব্যস্ততম এ সড়কটিতে প্রায় সবসময়ই লেগে থাকে তীব্র যানজট। ফলে আশপাশে অবস্থিত শিক্ষার্থী বিশেষত নারী শিক্ষার্থীদের পোহাতে হয় চরম দুর্ভোগ।

এ বিষয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মাহমুদা ইসলাম বলেন, এ সড়কে মেয়েদের চলাফেরা করা কঠিন। চলার পথে অনেক সময় হয়রানির শিকারও হতে হয়।

লক্ষ্মীবাজারের মতো পুরান ঢাকার অধিকাংশ ফুটপাতও থাকে হকার কিংবা সড়ক সংলগ্ন মার্কেটের দোকানিদের দখলে। পুরান ঢাকার তাঁতীবাজার, রায়সাহেব বাজার, নয়া বাজার ইত্যাদি এলাকায় সড়ক সংলগ্ন মার্কেটের দোকানদাররা ফুটপাতে পণ্যসামগ্রী, লোহা-লক্কর, স্টিল দিয়ে পূর্ণ করে রাখেন। এমনকি ফুটপাত মাড়িয়ে মূল সড়কের একটা অংশও দখলে রাখেন তারা। ফলে পুরান ঢাকায় অবস্থিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি নিয়মিত দুর্ভোগ পোহাতে হয় স্থানীয় অধিবাসীদেরও।

এ সম্পর্কে সরকারি কবি নজরুল কলেজের শিক্ষার্থী সাজিদ হোসেন শিকদার বলেন, আমাদের চলার পথ দখল করে এমনভাবে দোকানপাট বসে আছে, যেন চলাফেরার কোনো উপায়ই নেই। এই রাস্তা দিয়ে কলেজে যেতে গেলে প্রতিদিন আমাদের সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

কিছুদিন আগে পুরান ঢাকার লক্ষীবাজারসহ আশপাশের কিছু এলাকায় ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে উচ্ছেদ অভিযান চালায় দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন। তখন কিছুদিন ম্যাজিস্ট্রেট-হকার লুকোচুরি চললেও এখন আবারো চিরাচরিত ভঙ্গিতে ফুটপাত দখলে নিয়েছেন হকাররা। 

এ বিষয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ৪২-নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোহাম্মদ সেলিম বলেন, কাদের ইন্ধনে ফুটপাত দখল হয়, সবইতো আপনারা জানেন। তবুও আমার জায়গা থেকে আমি চেষ্টা করি যতটুকু কাজ করা যায়। এছাড়া সিটি কর্পোরেশন থেকে তো প্রায়ই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হচ্ছে। তবুও এটাকে পুরোপুরি উচ্ছেদ করা যাচ্ছে না, সমন্বিত উদ্যোগের অভাবে।

এ বিষয়ে লালবাগ জোনের ডিসি মো. জাফর হোসেন বলেন, কিছুদিন আগে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে। অভিযান অব্যাহত থাকবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমআরকে
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!