আকাশ জুড়ে ভাদ্র বিদায়ের বৃষ্টি
মেঘমুক্ত আকাশে রৌদ্রালোকে সাদা মেঘের দল ভেসে বেড়ানোর কথা। অথচ ঝরছে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি। এখানে-ওখানে ছুটে বেড়াচ্ছে ভবঘুরে কালচে মেঘ। শেষ বেলায় ভিন্নরূপী ভাদ্র, বিদায় নিচ্ছে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টিস্নানে।
সোমবার দুপুরের এক পশলা বৃষ্টি তাই জানান দিয়েছে। এমন বৃষ্টি খানিক স্বস্তির মাঝে সৃষ্টি করেছে অস্বস্তিকর যানজট।
এবার ভাদ্রের শুরু থেকেই দেখা যায়নি পেঁজা তুলোর মতো মেঘের দল। স্নিগ্ধ নির্মল প্রকৃতির বদলে আকাশজুড়ে ছিল অস্বস্তির বাষ্প। শুরু থেকে তীব্র গরমে বিপর্যস্ত হয়েছে জনজীবন। ভাদ্রের বিদায়বেলায় দেখা যাচ্ছে রোদ-বৃষ্টির খেলা। গত কয়েকদিনের আকাশের ছবি- এই হয়তো জমে উঠল অভিমানের মেঘ, তো পরমুহূর্তেই দেখা দিল আলোকিত রৌদ্র।
শতাব্দীকাল আগে কবিরা শরতে শুধু সাদা মেঘের ভেলা দেখেছিলেন। এখন দেখা যাচ্ছে ভবঘুরে কালো মেঘ। সেই মেঘ থেকে বিক্ষিপ্তভাবে ঝরছে বৃষ্টি।
মৌসুমি বায়ু মোটামুটি সক্রিয় হওয়ায় সোমবার সারাদেশে বৃষ্টি বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর। মৃদু তাপপ্রবাহের কারণে বৃষ্টির মধ্যেও ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভ্যাপসা গরমে কষ্ট পাচ্ছে মানুষ।

আবহাওয়াবিদ খো. হাফিজুর রহমান জানান, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায়; রংপুর, ময়মনসিংহ ও ঢাকা বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। এসময়ে সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।
তবে মঙ্গল ও বুধবার বৃষ্টির প্রবণতা কমতে পারে। বুধবার দিনের তাপমাত্রা ফের বাড়তে পারে বলেও পূর্বাভাসে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর।
এছাড়া আজ সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য আবহাওয়ার পূর্বাভাসে জানানো হয়- খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, ফরিদপুর এবং ঢাকা অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।