ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ জাতীয় ]

চলমান পরিস্থিতিতে কী বার্তা দিলেন সাবেক সেনা কর্মকর্তারা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৪:৫৬, ৪ আগস্ট ২০২৪
চলমান পরিস্থিতিতে কী বার্তা দিলেন সাবেক সেনা কর্মকর্তারা
ছবি: সংগৃহীত

দেশজুড়ে চলমান অস্থিরতা নিরসনে সব শ্রেণিপেশার মানুষকে সঙ্গে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তারা।

রোববার রাজধানীর বনানীতে এক সংবাদ সম্মেলনে এ প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারা।

সংবাদ সম্মেলনে অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তারা বলেন, দেশে বর্তমান পরিস্থিতিতে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি আক্রমণ ও প্রতিরোধে অগণিত মানুষ আহত ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। অসহায় মানুষ চিকিৎসাসহ অন্যান্য জরুরি সেবা পাচ্ছেন না। কোনো সুস্থ মস্তিষ্কের বিবেকবার মানুষের পক্ষে দেশের এমন পরিস্থিতি মেনে নেয়া সম্ভব নয়। আমরা নিজেরা নিজেদের সঙ্গে যুদ্ধ করতে পারি না। আমাদের দেশকে যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হতে দিতে পারি না। আমরা তা করতেও দেবো না। সব শ্রেণিপেশার মানুষকে সঙ্গে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবো।

Advertisement

তারা আরো বলেন, কোটা সংস্কার আন্দোলনের শুরুতে শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণভাবে আইন মেনে এগিয়ে যাচ্ছিল। তাদের বিভিন্নভাবে উসকানি দেওয়া ও হামলা চালানো হলো। এতে শত শত প্রাণহানি হলো। আক্রমণকারীদের প্রতিরোধের মুখে শিক্ষার্থীরা পিছপা হতে বাধ্য হলো। পরবর্তীতে সেনাবাহিনী নামানো হলো। কিন্তু কোনোভাবেই এসব সহিংস ঘটনায় দায় সেনাবাহিনীর নেয়া উচিত নয়। বাংলাদেশের সশস্ত্রবাহিনী অতীতে কখনো জনসাধারণের মুখোমুখি দাঁড়ায়নি।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, একটি রাজনৈতিক সঙ্কটকে সামরিকীকরণের যে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে সশস্ত্রবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা এর বিরোধিতা করছেন। অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিস্থিতি থেকে উদ্ভুত এই রাজনৈতিক সঙ্কটকালে আমরা সরকারের প্রতি রাজপথ থেকে সশস্ত্রবাহিনীকে ছাউনিতে ফিরতিয়ে নেয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি।

সাবেক সেনা কর্মকর্তারা বলেন, ছাত্রদের যৌক্তিক আন্দোলন ঘিরে চলমান নাশকতা দমনের জন্য সীমান্ত থেকে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বিজিবি সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এর ফলে আমাদের সীমান্ত এই মুহূর্তে অরক্ষিত। এ থেকে উত্তোরণের জন্য সশস্ত্রবাহিনীকে অবিলম্বে সেনা ছাউনিতে ফিরিয়ে নিয়ে যেকোনো আপৎকালীন সঙ্কট মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত রাখা প্রয়োজন। চলমান সঙ্কট আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের উদ্যোগ গ্রহণের অনুরোধ জানাচ্ছি। দেশপ্রেমিক সশস্ত্রবাহিনীকে ছাত্র-জনতার মুখোমুখি দাঁড় করাবেন না।

সংবাদ সম্মেলনে আরো বলা হয়, চলমান পরিস্থিতিতে সংঘটিত সব হত্যাকাণ্ড, হামলা, ভাঙচুরের ঘটনার স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য তদন্ত হতে হবে জাতিসংঘের অধীনে ও তাদের নেতৃত্বে। আমরা বাংলাদেশের মানুষকে সম্মান ও শ্রদ্ধা করি এবং ভালোবাসি। সশস্ত্রবাহিনীর সব সদস্য সার্বভৌমত্ব রক্ষার শপথ ও সর্বোচ্চ আত্মত্যাগের প্রস্তুতি নিয়ে এ পেশায় নিয়োজিত আছেন। আজ দেশের ক্রান্তিলগ্নে সশস্ত্রবাহিনীর সদস্যদের বিনীতভাবে অনুরোধ করবো সৈনিকের পেশার সর্বোচ্চ মর্যাদা, মানবিকতা ও নৈতিকতা বজায় রেখে দায়িত্ব পালন করতে হবে। বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের সশস্ত্রবাহিনী গত তিন দশক ধরে অক্লান্ত পরিশ্রম ও ত্যাগের মাধ্যমে যে সম্মান, মর্যাদা ও গৌরব অর্জন করেছে তা আজ কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হয়েছে। সার্বজনীন মানবাধিকারের সর্বোচ্চ ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড রক্ষা করেই আপনাদের জনগণের পাশে দাঁড়াতে হবে। চোখের সামনে আমরা নিজেদের মাতৃভূমিকে এভাবে ধ্বংস হতে দিতে পারি না।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন- সাবেক সেনা প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) নুরউদ্দিন খান, সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) ইকবাল করিম ভূঁইয়া, সাবেক নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন, মেজর জেনারেল (অব.) জামিল ডি আহসানসহ ঊর্ধ্বতন সাবেক সেনা কর্মকর্তারা।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এআর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!