ঢাকা,  বৃহস্পতিবার   ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ জাতীয় ]

জাতিসংঘের মঞ্চে জিয়া ও খালেদার পর এবার তারেক রহমান

ডেইলি-বাংলাদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত: ২১:২২, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
জাতিসংঘের মঞ্চে জিয়া ও খালেদার পর এবার তারেক রহমান
সংগৃহীত ছবি

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দিয়ে তার পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে নতুন ইতিহাস গড়তে যাচ্ছেন আজ। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে এটিই হবে তার প্রথম ভাষণ।

নিউইয়র্ক সময় বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে সাধারণ পরিষদ হলে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে। বিকেলের অধিবেশনে ১৮ জন বক্তার মধ্যে তিনি ১১তম বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেবেন। তার ভাষণের জন্য ১৫ মিনিট সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।

Advertisement

প্রধানমন্ত্রী ভাষণ দেবেন বাংলায়। এতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে বাংলাদেশের দৃষ্টিভঙ্গি ও অগ্রাধিকার তুলে ধরবেন তিনি। ভাষণে জলবায়ু পরিবর্তন, বিশ্ব শান্তি ও নিরাপত্তা, টেকসই উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, মানবিক বিষয়াবলি এবং রোহিঙ্গা সংকটের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথা রয়েছে।

এর আগে, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শ্যামা ওবায়েদ ইসলাম জানিয়েছিলেন, প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়টি গুরুত্ব পাবে। বিশ্ব নেতাদের সামনে এ বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান ও অগ্রাধিকার তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেছিলেন, প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের নতুন দৃষ্টিভঙ্গি ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনার মাধ্যমে দেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তর, উন্নয়নের অগ্রাধিকার, বিশ্ব শান্তি এবং আন্তর্জাতিক সংকটের টেকসই সমাধানের বিষয়গুলো তুলে ধরবেন।

তিনি বলেন, ভাষণে দারিদ্র্যবিমোচন, অর্থনৈতিক সম্ভাবনা, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় পদক্ষেপ এবং জলবায়ু অর্থায়নের বিষয়গুলোও প্রতিফলিত হবে। একইসঙ্গে সফরে রোহিঙ্গা সংকটকে প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে তারেক রহমানের এ ভাষণ তার পরিবারের সঙ্গে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের চার দশকের বেশি সময়ের সম্পৃক্ততার একটি নতুন অধ্যায় যুক্ত করবে। তার বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ছিলেন পরিবারের প্রথম সদস্য, যিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেন। তিনি ১৯৮০ সালের ২৬ আগস্ট সাধারণ পরিষদের ১১তম বিশেষ অধিবেশনে ভাষণ দিয়েছিলেন।

ওই ভাষণে জিয়াউর রহমান ধনী ও দরিদ্র দেশগুলোর মধ্যে ক্রমবর্ধমান ব্যবধান, দারিদ্র্য ও ক্ষুধা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং বৃহত্তর আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার ওপর আলোকপাত করেন।

এ ছাড়া তিনি শান্তি, মানবিক মর্যাদা, ন্যায়বিচার এবং দেশগুলোর পারস্পরিক দায়িত্ববোধের ওপর ভিত্তি করে একটি বিশ্ব গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

এর ১৩ বছর পর, ১৯৯৩ সালের ১ অক্টোবর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৪৮তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মা ও তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ভাষণ দেন। জাতিসংঘের নথিপত্র অনুযায়ী, ১৯৯৩ থেকে ২০০৫ সালের মধ্যে তিনি মোট পাঁচবার সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেন।

এছাড়া খালেদা জিয়া ১৯৯৫ সালে জাতিসংঘের ৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত বিশেষ সভা, ২০০২ সালে শিশুদের বিষয়ক ২৭তম বিশেষ অধিবেশন এবং ২০০৫ সালে ৬০তম অধিবেশন চলাকালীন দুটি পৃথক সভায় ভাষণ দিয়েছিলেন।

বাংলাদেশের জন্য ৮১তম অধিবেশন বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বর্তমানে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।

আজ জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) অধিবেশনে ভাষণ দেওয়ার আগে, প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘের সদর দপ্তরে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে সৃষ্ট অস্তিত্বের সংকট মোকাবিলা বিষয়ক একটি উচ্চ-পর্যায়ের সভার মধ্য দিয়ে দিনের কার্যক্রম শুরু ও উদ্বোধনী বক্তব্যও দেওয়ার কথা রয়েছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/একেকে
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!