ঢাকা,  শনিবার   ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ জাতীয় ]

প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে ভেরিফিকেশনে বাদ: পুনর্বিবেচনা ও নিয়োগের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৬:৫৯, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে ভেরিফিকেশনে বাদ: পুনর্বিবেচনা ও নিয়োগের দাবি
সংগৃহীত

সহকারী প্রাথমিক শিক্ষক পদে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় মেধার ভিত্তিতে উত্তীর্ণ হয়ে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার পরও এনএসআই, এসবি ও ডিএসবির ভেরিফিকেশনের নামে বিভিন্ন জেলার শত শত প্রার্থীকে নিয়োগ থেকে বাদ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এমন অভিযোগে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ইউনিভার্সিটি টিচার্স লিংক (ইউটিএল)।

শনিবার এক যৌথ বিবৃতিতে ইউটিএলের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. আতিয়ার রহমান ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. যুবাঈর মুহাম্মদ এহসান বলেন, বাদ পড়া প্রার্থীরা নিয়োগ প্রক্রিয়ায় মেধার ভিত্তিতে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছিলেন। পরবর্তীতে ভেরিফিকেশনের নামে তাঁদের বাদ দেওয়া হয়ে থাকলে এর সুনির্দিষ্ট কারণ ও আইনগত ভিত্তি জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে।

Advertisement

ইউটিএল নেতৃবৃন্দ বলেন, ভেরিফিকেশন কোনোভাবেই রাজনৈতিক মতাদর্শিক বৈষম্য, হয়রানি কিংবা বাছাইয়ের হাতিয়ার হতে পারে না। জুলাই গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশে কারও রাজনৈতিক মতামত, ব্যক্তিগত বিশ্বাস কিংবা সরকারের সঙ্গে মতপার্থক্যের কারণে চাকরিবঞ্চিত করার অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

তাঁরা আরও বলেন, নির্দিষ্ট অপরাধ বা আইনগত অযোগ্যতার প্রমাণ ছাড়া নিছক অনুমান, রাজনৈতিক পরিচয় কিংবা মতপার্থক্যের ভিত্তিতে কাউকে সরকারি চাকরি থেকে বঞ্চিত করা গ্রহণযোগ্য নয়।

বিবৃতিতে ইউটিএল নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেন, বিগত ১৭ বছর গোপন প্রতিবেদনের নামে রাজনৈতিক মতাদর্শ বিবেচনা করে নাগরিকদের চাকরি ও ভবিষ্যৎ ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে। তাঁদের মতে, এ ধরনের প্রক্রিয়া আর চলতে পারে না। কোনো সরকারি সংস্থার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত কোনো প্রার্থীর নিয়োগ বাতিল করতে হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনটির আইনগত ভিত্তি ও যৌক্তিকতা সম্পর্কে প্রার্থীকে যথাযথ সুযোগ দিতে হবে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সম্প্রতি সরকারি নিয়োগে মৌখিক পরীক্ষার নম্বর বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েও বিভিন্ন প্রশ্ন উঠেছে। জুলাই-পরবর্তী সময়ে একটি সম্পূর্ণ স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও জবাবদিহিমূলক নিয়োগব্যবস্থা নিশ্চিত করার দায়িত্ব সরকারের। সরকারি চাকরি কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতি আনুগত্যের পুরস্কার নয়—এ বিষয়টিও নিশ্চিত করতে হবে।

ইউটিএল অবিলম্বে বাদ পড়া সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীদের ভেরিফিকেশন প্রতিবেদন পুনঃপর্যালোচনা, অভিযোগের যথাযথ প্রমাণ উপস্থাপন এবং প্রয়োজন হলে পুনঃতদন্তের মাধ্যমে নিয়োগ সম্পন্ন করার আহ্বান জানিয়েছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসআর/একেকে
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!