ঢাকা,  সোমবার   ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ জাতীয় ]

ধীরে ধীরে চালু হচ্ছে বন্ধ পাটকল

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১০:৪৬, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ধীরে ধীরে চালু হচ্ছে  বন্ধ পাটকল
সংগৃহীত ছবি

দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশনের (বিজেএমসি) পাটকলগুলো বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ধাপে ধাপে চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ কার্যক্রম পুরোপুরি বাস্তবায়িত হলে প্রায় ৫০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে জানিয়েছে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিজেএমসির ২৫টি পাটকলের মধ্যে ২০টি বেসরকারি খাতে দীর্ঘমেয়াদি লিজ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে ১৭টি মিলের লিজ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। এসবের মধ্যে নয়টি মিলে উৎপাদন শুরু হয়েছে। এতে প্রায় সাড়ে ৯ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে।

Advertisement

লিজ প্রক্রিয়াধীন তিনটি মিল হলো—চট্টগ্রামের এমএম জুট মিল, রাঙ্গুনিয়ার কেএফডি লিমিটেড এবং নরসিংদীর কো-অপারেটিভ জুট মিল।

সম্প্রতি আরও তিনটি রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলের ইজারা চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে সিরাজগঞ্জের জাতীয় জুট মিলস ও খুলনার স্টার জুট মিলস পেয়েছে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ। আর খুলনার প্লাটিনাম জুবিলী জুট মিলস পেয়েছে হ্যামকো গ্রুপ।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হিসাবে, এসব তিনটি মিল চালু হলে অন্তত ১১ হাজার ৬২৯ জনের কর্মসংস্থান হতে পারে। পাশাপাশি প্রায় ৬১৯ কোটি টাকা বিনিয়োগ এবং বছরে প্রায় ১ হাজার ১৭৫ কোটি টাকা মোট আয়ের সম্ভাবনা রয়েছে।

বিজেএমসির মুখ্য পরিচালন কর্মকর্তা মো. মামুনুর রশিদ বলেন, দীর্ঘদিনের লোকসান এবং বেসরকারি খাতের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে না পারার কারণে রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলো বন্ধ করে লিজ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।

তিনি জানান, অবশিষ্ট পাঁচটি মিলের মধ্যে ডেমরার করিম জুট মিলস ও লতিফ বাওয়ানী জুট মিলস বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। সেখানে অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

এ ছাড়া বিডিসিএফ বাগদাদ-ঢাকা কার্পেট ফ্যাক্টরি ও আলিম জুট মিলস নিয়ে মামলা চলমান রয়েছে। অন্যদিকে সীতাকুণ্ডের আমিন জুট মিলস আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে উৎপাদনে যেতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।

বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম বলেন, কর্মসংস্থান বাড়ানো, বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং দীর্ঘদিন অব্যবহৃত সম্পদের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করতেই বন্ধ পাটকলগুলো পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, স্বচ্ছ দরপত্র প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করে মিলগুলো লিজ দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে পাট ও পাটজাত পণ্যে বিনিয়োগ বাড়াতে ঋণ সুবিধাসহ বিভিন্ন ধরনের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

ধারাবাহিক লোকসানের কারণে ২০২০ সালের ১ জুলাই বিজেএমসির আওতাধীন ২৫টি রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে এসব মিল দীর্ঘমেয়াদে বেসরকারি খাতে লিজ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এআর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!