বোয়িংয়ের দাম সরকারি বাজেট থেকে নয়: বিমানমন্ত্রী
বোয়িংয়ের নতুন উড়োজাহাজ কেনার অর্থ সরাসরি সরকারি বাজেট থেকে পরিশোধ করা হবে না বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রাশিদুজ্জামান মিল্লাত। তিনি বলেন, বিমানের নিজস্ব আয় ও উপযুক্ত অর্থায়ন ব্যবস্থার মাধ্যমে ধাপে ধাপে এসব উড়োজাহাজের মূল্য পরিশোধ করা হবে।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন তিনি।
.png)
মন্ত্রী জানান, উড়োজাহাজগুলো পর্যায়ক্রমে সরবরাহ করা হবে। ফলে অর্থ পরিশোধও ধাপে ধাপে করা হবে। বিমানের আর্থিক সক্ষমতা, বিভিন্ন রুট থেকে সম্ভাব্য আয় এবং ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস বিবেচনায় নিয়েই এ ক্রয়পরিকল্পনা করা হয়েছে। এতে সরাসরি সরকারি বাজেটের ওপর চাপ পড়বে না বলে জানান তিনি।
বিমান বহর সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে গত ৩০ এপ্রিল ১৪টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। ওই চুক্তির অতিরিক্ত উড়োজাহাজ কেনার সুযোগ কাজে লাগিয়ে ২৩ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে আরও ১১টি বোয়িং কেনার সম্পূরক চুক্তি করা হয়। নতুন চুক্তির আওতায় রয়েছে পাঁচটি বোয়িং ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার এবং ছয়টি বোয়িং ৭৩৭-৮ ম্যাক্স।
মন্ত্রী বলেন, নতুন ১১টি উড়োজাহাজ আগের চুক্তিতে নির্ধারিত একই দরে কেনা হচ্ছে। এ নিয়ে বিমানের জন্য মোট ২৫টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি হয়েছে। এর মধ্যে ১৫টি ওয়াইডবডি ও ১০টি ন্যারোবডি উড়োজাহাজ। সব মিলিয়ে ২৫টি বোয়িংয়ের মধ্যে রয়েছে দুটি ৭৮৭-৯, ১৩টি ৭৮৭-১০ এবং ১০টি ৭৩৭-৮ ম্যাক্স।
সাম্প্রতিক ১১টি বোয়িংয়ের ক্রয়মূল্য প্রায় ২৭০ কোটি মার্কিন ডলার। তবে পুরো অর্থ একসঙ্গে পরিশোধ না করে উড়োজাহাজ সরবরাহের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পর্যায়ক্রমে অর্থ পরিশোধ করা হবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী।
চুক্তি অনুযায়ী, ২০৩১ সালের নভেম্বর থেকে উড়োজাহাজ সরবরাহ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে এবং ২০৩৫ সালের মধ্যে সব উড়োজাহাজ পাওয়ার কথা। তবে বিমানের পক্ষ থেকে ২০২৭-২৮ অর্থবছরের মধ্যেই অন্তত একটি উড়োজাহাজ সরবরাহের জন্য বোয়িংকে অনুরোধ করা হয়েছে।
এদিকে বিমানের বহরে এয়ারবাসের উড়োজাহাজ যুক্ত করার বিষয়েও আলোচনা চলছে। চারটি এ৩৫০-৯০০ ওয়াইডবডি এবং ছয়টি এ৩২১নিও ন্যারোবডি—মোট ১০টি এয়ারবাস কেনার পরিকল্পনা রয়েছে। এ বিষয়ে অক্টোবরেই চুক্তি হতে পারে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী।
মন্ত্রী বলেন, টেকসই ও ভারসাম্যপূর্ণ ‘মিক্সড ফ্লিট’ গড়ে তোলার লক্ষ্যেই বোয়িংয়ের পাশাপাশি এয়ারবাসের উড়োজাহাজ যুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
উড়োজাহাজের সংখ্যা নির্ধারণের ক্ষেত্রে যাত্রী চাহিদা, বিমানের রুট ও ফ্লিট পরিকল্পনা, উড়োজাহাজের রেঞ্জ ও আসনসংখ্যা, সম্ভাব্য যাত্রী এবং সাপ্তাহিক ফ্লাইট ফ্রিকোয়েন্সি বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
বহর সম্প্রসারণে ইথিওপিয়ান এয়ারলাইনসের উদাহরণ তুলে ধরে রাশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, ইথিওপিয়ার রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থার বহরে বর্তমানে ১৬৭টি উড়োজাহাজ রয়েছে। বিপরীতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহরে রয়েছে ১৯টি উড়োজাহাজ। তার ভাষ্য অনুযায়ী, দেশের যাত্রী চাহিদার তুলনায় বিমানের বহর ছোট হওয়ায় বর্তমানে মোট বিমানযাত্রীর ২০ শতাংশের কিছু বেশি পরিবহন করতে পারছে রাষ্ট্রীয় সংস্থাটি; বাকি যাত্রীদের বড় অংশ বিদেশি এয়ারলাইনস বহন করছে।
উড়োজাহাজের ঘাটতি কমিয়ে বিমানের সক্ষমতা বাড়াতেই নতুন উড়োজাহাজ কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, এ ক্রয়পরিকল্পনার পেছনে কোনো ভূরাজনৈতিক প্রভাব নেই।