ঢাকা,  শনিবার   ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ জাতীয় ]

মিশন ছাড়ার পর চার গোয়েন্দা কর্মকর্তা কোথায়?

ডেইলি-বাংলাদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৯:১৬, ৩ অক্টোবর ২০২৬
মিশন ছাড়ার পর চার গোয়েন্দা কর্মকর্তা কোথায়?
ছবি: সংগৃহীত

 

ভারতে বাংলাদেশের তিনটি মিশন এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই মিশনে দায়িত্ব পালন করা চার গোয়েন্দা কর্মকর্তার ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর তৃতীয় কোনো দেশে চলে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে আনুষ্ঠানিকভাবে না জানিয়েই তারা দেশ ছেড়েছেন বলে কূটনৈতিক সূত্রের দাবি।

Advertisement

চার কর্মকর্তার মধ্যে সর্বশেষ গত জুলাইয়ে নয়াদিল্লির বাংলাদেশ হাইকমিশনের ফিল্ড অফিসার আশরাফ হোসেন যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান বলে জানা গেছে। এর আগে নয়াদিল্লি, কলকাতা ও দুবাই মিশনে কর্মরত আরও তিন কর্মকর্তা অন্য দেশে পাড়ি জমান। তাদের বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে সরকারের কাছে সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই বলে সূত্র জানিয়েছে।

কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে জানা যায়, নয়াদিল্লি হাইকমিশনের কনসুলার শাখায় কর্মরত আশরাফ হোসেন সপরিবার বাংলাদেশে ফেরার কথা বলে মিশন ত্যাগ করেন। দেশে ফেরার জন্য তার টিকিটও করা হয়েছিল এবং মিশনে আনুষ্ঠানিক বিদায়ও নেন তিনি। তবে পরে বাংলাদেশে না ফিরে গোপনে যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান। এরপর থেকে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না এবং তিনি সংশ্লিষ্ট দপ্তরে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদনও দেননি বলে সূত্রের দাবি।

আশরাফ হোসেনের যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার ক্ষেত্রে নয়াদিল্লি মিশনের দেওয়া নোট ভারবাল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে কূটনৈতিক সূত্রের দাবি। কীভাবে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পেলেন এবং তার নামে মিশন থেকে কীভাবে নোট ভারবাল দেওয়া হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কূটনীতিসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, সংশ্লিষ্ট মিশনের সহযোগিতা ছাড়া এ ধরনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা তুলনামূলকভাবে কঠিন।

একইভাবে নয়াদিল্লি হাইকমিশনের উপপরিচালক (ডিডি) নাসিরউদ্দিনও যুক্তরাষ্ট্রে চলে গেছেন বলে জানা গেছে। তিনি ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে দিল্লি থেকে দেশে ফেরেন। পরে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগ না দিয়ে সেখান থেকেই যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান বলে সূত্র জানিয়েছে। তার যুক্তরাষ্ট্রের ভিসার ক্ষেত্রেও নয়াদিল্লি মিশনের কনসুলার শাখার মাধ্যমে নোট ভারবাল দেওয়া হয়েছিল বলে জানা গেছে।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কোনো কর্মকর্তা তৃতীয় কোনো দেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট মিশনের নোট ভারবাল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এরপর ভিসা প্রক্রিয়ার সময় সংশ্লিষ্ট দেশের দূতাবাস মিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করে থাকে। তাই নয়াদিল্লি থেকে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়া দুই কর্মকর্তার ক্ষেত্রে নোট ভারবাল কীভাবে দেওয়া হয়েছিল এবং এ প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় অনুমোদন কীভাবে এসেছে, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে তারা মনে করেন।

কলকাতা ও দুবাই থেকেও দেশত্যাগ

কলকাতায় বাংলাদেশের উপহাইকমিশনে কর্মরত মাহমুদুল হাসান পলাশও ৫ আগস্টের পর লন্ডনে চলে গেছেন বলে সূত্রের দাবি। পরে তিনি সেখান থেকে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের পক্ষে বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে সক্রিয় রয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। ৫ আগস্ট নয়াদিল্লিতে আয়োজিত শেখ হাসিনার একটি অনলাইন সংবাদ সম্মেলনেও তিনি বক্তব্য দেন বলে সূত্র জানিয়েছে। ছাত্রজীবনে তিনি বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) ছাত্রলীগের একটি পদে ছিলেন বলেও দাবি করা হয়েছে।

এ ছাড়া দুবাই মিশনে কর্মরত যুগ্ম পরিচালক বদরুল ইসলামও ৫ আগস্টের পর দুবাই থেকে তৃতীয় কোনো দেশে চলে গেছেন বলে জানা গেছে।

সূত্রের দাবি, চার কর্মকর্তাই ছাত্রজীবনে ছাত্রলীগের বিভিন্ন পদে ছিলেন। তবে তাদের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য পাওয়া যায়নি।

এ ঘটনায় সরকার বিব্রত বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্রও বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে দিল্লিতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার এম রিয়াজ হামিদুল্লাহর সঙ্গে একাধিকবার হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। উপহাইকমিশনার প্রীতি রহমানও এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

কূটনৈতিক সূত্রের মতে, বিদেশে বাংলাদেশের মিশনের কনসুলার শাখা ভিসা, কনসুলার সেবা, সরকারি যোগাযোগ ও বিভিন্ন নথিপত্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে। ফলে এ শাখার দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের তৃতীয় কোনো দেশে চলে যাওয়ার প্রক্রিয়া এবং তাদের জন্য মিশন থেকে নোট ভারবাল দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এআর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!