রামপালে ৪৪২ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র অনুমোদন
রামপালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য প্রস্তুত করা জমিতে ৪৪২ মেগাওয়াট পিক ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রকল্পটিতে আট ঘণ্টার ব্যাটারি স্টোরেজ সুবিধা যুক্ত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এতে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী বিদ্যুৎ সংরক্ষণ ও সরবরাহ করা যাবে।
বুধবার সচিবালয়ে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় রামপাল ৪৪২ মেগাওয়াট পিক সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
একনেক সভায় মোট ১৬ হাজার ২০৭ কোটি ৫৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৩টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ১০ হাজার ৬০০ কোটি ৮০ লাখ টাকা, প্রকল্প ঋণ ৪ হাজার ৮১ কোটি ৮৫ লাখ টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ১ হাজার ৫২৪ কোটি ৯১ লাখ টাকা। অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে ১০টি নতুন, দুটি সংশোধিত এবং একটি প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে।
সভা শেষে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি।
পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জানান, মূল প্রকল্প প্রস্তাবে ব্যাটারি সংরক্ষণের ব্যবস্থা রাখা হয়নি। উৎপাদিত বিদ্যুৎ সরাসরি জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের পরিকল্পনা ছিল। তবে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় প্রকল্পের ডিপিপি সংশোধন করে আট ঘণ্টার ব্যাটারি স্টোরেজ সুবিধা যুক্ত করা হবে। এতে প্রকল্পের ব্যয়ও বাড়বে।
প্রস্তাবিত সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্রটি বাগেরহাটের রামপাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য নির্ধারিত জমিতে নির্মাণ করা হবে। বর্তমানে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন ক্ষমতা ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট। তবে দ্বিতীয় ইউনিটের নির্মাণকাজ এগোয়নি। ফলে ওই ইউনিটের জন্য উন্নয়ন করা বিপুল পরিমাণ জমি অব্যবহৃত পড়ে রয়েছে।
ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, সংশ্লিষ্ট এলাকায় বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ইতোমধ্যে প্রায় ৬৮৫ একর জমি ভরাট করেছে। নতুন করে জমি অধিগ্রহণ বা অন্য কোনো স্থান নির্ধারণ না করে প্রস্তুত করা ওই জমিতেই সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগের অংশ হিসেবে প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছে। তবে রামপাল সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের পরিবেশগত মূল্যায়ন ও ছাড়পত্রের প্রক্রিয়া এখনো চলমান রয়েছে।
এদিকে একনেক সভায় সড়ক ও অবকাঠামোর মান নিশ্চিত করতেও গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জানান, কোনো রাস্তা বা অবকাঠামো নির্মাণের পর তিন বছরের মধ্যে বড় ধরনের ত্রুটি দেখা দিলে ঠিকাদারকেই তা মেরামত করতে হবে। এ জন্য ভবিষ্যতের চুক্তিতে যথাযথ গ্যারান্টি ও ওয়ারেন্টি সংক্রান্ত শর্ত যুক্ত করা হবে।
জনবসতিপূর্ণ এলাকার মধ্য দিয়ে যাওয়া সড়ক নির্মাণে ড্রেনেজ ব্যবস্থাও বাধ্যতামূলক করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পানি নিষ্কাশনের দুর্বল ব্যবস্থাকে গ্রামীণ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তাই পর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা ছাড়া ভবিষ্যতে জনবসতিপূর্ণ এলাকায় সড়ক প্রকল্প গ্রহণ না করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
একনেকে অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যয় ধরা হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ নগর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ের দ্বিতীয় সংশোধনে। এতে ১ হাজার ৩১০ কোটি ৪০ লাখ টাকা ব্যয় বাড়িয়ে প্রকল্পটির মোট ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ হাজার ৩৯ কোটি ৩০ লাখ টাকা। পুরো অর্থই সরকারি অর্থায়নে ব্যয় হবে।
এ ছাড়া সিরাজগঞ্জ, বগুড়া ও নওগাঁ জেলার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে ৩ হাজার ৭৬৭ কোটি ৫০ লাখ টাকার নতুন প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ রেলওয়ের সক্ষমতা বাড়াতে ৩০টি মিটারগেজ ডিজেল-ইলেকট্রিক লোকোমোটিভ সংগ্রহের জন্য ২ হাজার ৭৬৯ কোটি ৮৬ লাখ টাকার প্রকল্পও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।