ঢাকা,  রোববার   ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩

[ জাতীয় ]

আজ আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবস

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯:৩৯, ১১ অক্টোবর ২০২৬
আজ আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবস
সংগৃহীত ছবি

আজ রোববার (১১ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবস। কন্যাশিশুদের অধিকার প্রতিষ্ঠা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত, লিঙ্গবৈষম্য দূর এবং সব ধরনের সহিংসতা থেকে তাদের সুরক্ষার বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে প্রতিবছর বিশ্বজুড়ে দিবসটি পালন করা হয়।

কন্যাশিশুদের সম্ভাবনা বিকাশের পাশাপাশি তাদের সামনে থাকা নানা প্রতিবন্ধকতা দূর করার অঙ্গীকার নিয়ে পালিত হচ্ছে এবারের দিবস। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও সমান সুযোগ নিশ্চিত করার মাধ্যমে প্রতিটি কন্যাশিশুর জন্য একটি মর্যাদাপূর্ণ ভবিষ্যৎ গড়ে তোলাই দিবসটির অন্যতম লক্ষ্য।

জাতিসংঘের উদ্যোগে ২০১২ সালের ১১ অক্টোবর প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবস পালিত হয়। মূলত কন্যাশিশুদের অধিকার সম্পর্কে বিশ্বব্যাপী সচেতনতা সৃষ্টি এবং তাদের ক্ষমতায়নে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণে উৎসাহিত করতেই দিবসটির সূচনা হয়।

বিশ্বজুড়ে প্রায় ১১০ কোটি কন্যাশিশু রয়েছে, যারা মেধা, সৃজনশীলতা ও সম্ভাবনার মাধ্যমে সমাজের অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে দারিদ্র্য, শিক্ষার সুযোগের অভাব, অপুষ্টি, বাল্যবিবাহ, লিঙ্গবৈষম্য ও সহিংসতার মতো নানা প্রতিবন্ধকতা এখনো তাদের স্বাভাবিক বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করছে।

বিশেষ করে যুদ্ধ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও মানবিক সংকটের সময় কন্যাশিশুরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে পড়ে। এসব পরিস্থিতিতে তাদের শিক্ষা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি নিরাপত্তাহীনতা, স্বাস্থ্যঝুঁকি ও শোষণের আশঙ্কাও বেড়ে যায়।

আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবসে তাই মানসম্মত শিক্ষা, পর্যাপ্ত পুষ্টি, প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা এবং আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। একই সঙ্গে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা বন্ধ এবং পরিবার ও সমাজের সিদ্ধান্ত গ্রহণে মেয়েদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর বিষয়টিও গুরুত্ব পায়।

বাংলাদেশেও কন্যাশিশুদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বাল্যবিবাহ ও বৈষম্য প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। বিশেষ করে পিছিয়ে পড়া ও সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের মেয়েদের জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টি করা জরুরি।

কন্যাশিশুদের নিরাপদ, সুন্দর ও মর্যাদাপূর্ণ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। প্রতিটি মেয়ের শিক্ষা, নিরাপত্তা, সমান সুযোগ ও নিজের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার নিশ্চিত করা গেলে বৈষম্যহীন ও সমৃদ্ধ সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এআর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!