দেশে চায়ের উৎপাদন বেড়েছে ১৭ শতাংশ, কীটনাশকের ব্যবহার কমাতে উদ্যোগ
দেশে গত বছরের তুলনায় চায়ের উৎপাদন ১৭ শতাংশ বেড়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ চা বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, উত্তরাঞ্চলে চায়ের উৎপাদন বেড়েছে ৪০ শতাংশ। চায়ের গুণগত মান বাড়ানোর পাশাপাশি কীটনাশকের ব্যবহার কমাতে কাজ করছে চা বোর্ড।
রোববার (১১ অক্টোবর) বিকেলে পঞ্চগড়ে বাংলাদেশ চা বোর্ডের আঞ্চলিক কার্যালয়ে গুণগত মানের চা উৎপাদনবিষয়ক প্রশিক্ষণ ও চা আস্বাদন অধিবেশনে এসব কথা বলেন তিনি।
মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ১৯৪৭ সালে দেশে চায়ের উৎপাদন ছিল ১৮ মিলিয়ন কেজি। ১৯৭০ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ২৮ মিলিয়ন কেজিতে। বর্তমানে শুধু পঞ্চগড়েই চায়ের উৎপাদন হচ্ছে ২৫ মিলিয়ন কেজি।
চায়ের গুণগত মান বৃদ্ধির লক্ষ্যে এ প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, চাষাবাদে কীটনাশকের ব্যবহার চায়ের গুণগত মান ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। এ কারণে কীটনাশকের ব্যবহার কমিয়ে আনতে চা গবেষণা ইনস্টিটিউটের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সমতলের চা শিল্পের সারসংকট নিরসনেও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান চা বোর্ডের চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, সার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। শিগগিরই চাষিরা তা পাবেন।
চা আইন সংশোধনের বিষয়ে তিনি বলেন, সংশোধনী প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হতে কিছুটা সময় লাগছে। আশা করা হচ্ছে, শিগগিরই সংশোধিত আইন পাওয়া যাবে।
এ সময় ভালো মানের চা উৎপাদনে চা চাষি ও কারখানার মালিকসহ সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
প্রশিক্ষণ কর্মশালায় সমতলের ৬০ জন চা চাষি ও কারখানার মালিক অংশ নেন। পরে ৩০টি চা প্রক্রিয়াজাত কারখানার উৎপাদিত চা টি-টেস্টারদের মাধ্যমে পরীক্ষা করা হয়।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ চা বোর্ডের সদস্য মোহাম্মদ মোয়াজ্জম হোসাইন, প্রকল্প উন্নয়ন ইউনিটের পরিচালক ড. এ কে এম রফিকুল হক, পরিচালক ইসমাইল হোসেনসহ চা বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।