ঢাকা,  শনিবার   ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩

[ জাতীয় ]

শিক্ষার্থীদের হাত ধরেই দেশ পরিবর্তন সম্ভব: ববি হাজ্জাজ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৪:৩৯, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
শিক্ষার্থীদের হাত ধরেই দেশ পরিবর্তন সম্ভব: ববি হাজ্জাজ
ছবি: সংগৃহীত

শিক্ষার্থীদের মেধা, চিন্তা ও উদ্ভাবনী শক্তিকে কাজে লাগাতে পারলে তাদের হাত ধরেই দেশ পরিবর্তনের সূচনা হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেছেন, ঢাকা-১৩ আসনের শিক্ষার্থীদের মেধা ও সৃজনশীলতাকে কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি করতে চান তিনি।

শনিবার রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ঢাকা-১৩ আসনের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে আয়োজিত ‘গভর্নেন্স সলিউশনস কম্পিটিশন’-এর বিশেষ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।

ববি হাজ্জাজ বলেন, শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী চিন্তা ও সৃজনশীল প্রস্তাবের মাধ্যমে স্থানীয় সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সেগুলোর বাস্তবসম্মত ও টেকসই সমাধান খুঁজে বের করতে সরকার সহযোগিতা করবে। স্থানীয় সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়ায়ও শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করার সুযোগ তৈরি করা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের শুধু বড় সমস্যার কথা তুলে ধরলেই হবে না; এমন সমস্যা চিহ্নিত করতে হবে, যার কার্যকর সমাধান তারা নিজেরাই প্রস্তাব করতে পারবে। সমস্যার ব্যাপ্তি, কারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং এর প্রভাব কতটা গভীর—এসব তথ্য-প্রমাণের মাধ্যমে উপস্থাপন করতে হবে। এ জন্য মাঠপর্যায়ে জরিপ, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সাক্ষাৎকার, সংবাদ প্রতিবেদন ও নির্ভরযোগ্য গবেষণার তথ্য ব্যবহার করা যেতে পারে। প্রয়োজনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিভিন্ন টুলও সহায়ক হিসেবে কাজে লাগানো যাবে।

সমাধান প্রস্তাবের ক্ষেত্রে বাস্তবায়নযোগ্যতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, কোনো সমাধান কাগজে-কলমে আকর্ষণীয় হলেই চলবে না, বাস্তবে তা কার্যকর করা সম্ভব কি না, সেটিও বিবেচনায় নিতে হবে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি ও সহযোগিতা, প্রয়োজনীয় জনবল, অর্থ এবং অন্যান্য সম্পদের বিষয়গুলো স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে হবে।

স্কুলের সামনে যানজট নিয়ন্ত্রণ কিংবা এলাকার খাল ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, সমস্যা সমাধানে সাময়িক উদ্যোগের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি। শুধু একদিন পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালালেই হবে না; মানুষকে সচেতন করার পাশাপাশি বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সংশ্লিষ্ট সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।

ববি হাজ্জাজ আরও বলেন, কোনো উদ্যোগ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আইনগত, প্রশাসনিক ও পরিচালনাগত দায়িত্ব কার ওপর, তা চিহ্নিত করতে হবে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও জনগণের সম্মতি এবং প্রয়োজনীয় সম্পদ নিশ্চিত করা না গেলে উদ্যোগ দীর্ঘস্থায়ী করা কঠিন। তাই শিক্ষার্থীদের প্রস্তাবে বাস্তবতা, কার্যকারিতা ও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবের বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে।

প্রতিযোগিতার বিশেষত্ব তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এটি প্রচলিত কোনো প্রতিযোগিতা নয়; বরং শিক্ষার্থীদের নিজেদের চিন্তা ও প্রস্তাবের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনা এবং নীতিনির্ধারণের প্রক্রিয়া কাছ থেকে বোঝার সুযোগ। নির্বাচিত তিনটি দল তাদের প্রস্তাব বাস্তবায়নে সংসদ সদস্যের কার্যালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করতে পারবে। প্রস্তাবের বিষয়বস্তু শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট হলে প্রতিমন্ত্রীর কার্যালয়ের সঙ্গেও সমন্বয়ের সুযোগ থাকবে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠান ও জাতীয় সংসদকেও সম্পৃক্ত করা হবে।

তিনি জানান, প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া ১২৪টি দলের কাছ থেকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিস্তারিত লিখিত প্রতিবেদন নেওয়া হবে। সাত সদস্যের বিচারক প্যানেল প্রতিবেদনগুলো মূল্যায়ন করবেন। সেখান থেকে নির্বাচিত সেরা পাঁচটি দল জাতীয় পর্যায়ের দর্শক ও অতিথিদের সামনে ১৫ মিনিটের পাওয়ারপয়েন্ট উপস্থাপনার সুযোগ পাবে। চূড়ান্ত উপস্থাপনার ভিত্তিতে চ্যাম্পিয়ন, প্রথম রানারআপ ও দ্বিতীয় রানারআপ দল নির্বাচন করা হবে।

কর্মশালায় প্রতিযোগিতার বিচারক, আয়োজক দলের সদস্য, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এআর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!