ঢাকা,  রোববার   ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩

[ জাতীয় ]

এক বছরের পুরোনো ভিডিও নিয়ে সতর্ক করল বিজিবি

ডেইলি-বাংলাদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০:২০, ১ নভেম্বর ২০২৬
এক বছরের পুরোনো ভিডিও নিয়ে সতর্ক করল বিজিবি
সংগৃহীত ছবি

এক বছরেরও বেশি সময় আগের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন ঘটনা হিসেবে প্রচার করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশকে (বিজিবি) নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে বাহিনীটি।

বিজিবি জানিয়েছে, ভিডিওতে দেখানো ব্যক্তিরা ইউপিডিএফের সদস্য নন। তারা ছিলেন মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির সদস্য।

রোববার (১ নভেম্বর) সকালে বিজিবির সদর দপ্তর থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘হঠাৎ করেই বিজিবির মুখোমুখি ইউপিডিএফ! অবৈধ অস্ত্রসহ সন্ত্রাসীদের নাগালে পেয়েও.....’ শিরোনামে এক বছরেরও বেশি সময় আগের একটি ভিডিও নতুন করে প্রচার করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে বিজিবির ভূমিকা সম্পর্কে মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তথ্য ছড়ানো হচ্ছে।

বিজিবির ভাষ্য অনুযায়ী, ভিডিওতে দেখানো ঘটনাটি বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তবর্তী বান্দরবানের থানচির বংকুপাড়া শূন্যরেখা এলাকায় ঘটেছিল। ওই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ইউপিডিএফের সদস্য ছিলেন না; তারা ছিলেন আরাকান আর্মির সদস্য।

ঘটনার বিবরণ দিয়ে বিজিবি জানায়, ২০২৫ সালের ১ অক্টোবর বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের বিপি-৭১-এর কাছাকাছি এলাকায় আরাকান আর্মির একটি দল সীমান্তের শূন্যরেখা অতিক্রম করে। বিষয়টি জানতে পেরে বলিপাড়া ব্যাটালিয়নের (৩৮ বিজিবি) অধিনায়কের নেতৃত্বে বংকুপাড়া বিওপি থেকে ৩৮ সদস্যের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে যায়।

সেখানে বিজিবি সদস্যরা প্রথমে মৌখিকভাবে দলটিকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ না করার জন্য সতর্ক করেন। পরে প্রয়োজনীয় বলপ্রয়োগের মাধ্যমে তাদের মিয়ানমারের অভ্যন্তরে ফিরে যেতে বাধ্য করা হয়।

বিজিবির দাবি, ওই ঘটনায় তাৎক্ষণিক ও কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে বাংলাদেশের সীমান্তের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দায়িত্ব পালন করেছে বাহিনীটি।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, পুরোনো ঘটনাকে সাম্প্রতিক হিসেবে উপস্থাপন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচয় পরিবর্তন করে ইউপিডিএফের সদস্য হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে। এতে বিজিবির গৃহীত পদক্ষেপের প্রকৃত তথ্য আড়াল করা হচ্ছে। এ ধরনের বিভ্রান্তিকর শিরোনামে ভিডিও প্রচার দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের পরিপন্থি।

বিজিবি মনে করে, পুরোনো ও খণ্ডিত ভিডিও নতুন করে প্রচারের মাধ্যমে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি, বাহিনীর প্রতি জনগণের আস্থা ক্ষুণ্ন এবং দায়িত্ব পালনরত সদস্যদের মনোবলে নেতিবাচক প্রভাব ফেলার চেষ্টা করা হচ্ছে।

মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও সামরিক পরিস্থিতি তুলে ধরে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ সীমান্তসংলগ্ন রাখাইন রাজ্য ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় দেশটির সরকারি বাহিনীর কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ও উপস্থিতি সীমিত। এসব এলাকার বিস্তীর্ণ অঞ্চল আরাকান আর্মিসহ বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণ ও প্রভাবাধীন। পাশাপাশি খুমি ও অন্যান্য জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতায় সীমান্ত পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

এসব গোষ্ঠীর সদস্যদের নির্দিষ্ট কোনো স্বতন্ত্র ইউনিফর্ম না থাকায় সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশে যাওয়া এবং সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশের আশঙ্কা রয়েছে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়। এমন পরিস্থিতিতে সীমান্তে দায়িত্ব পালনকারী বিজিবি সদস্যদের সতর্কতা, পেশাদারত্ব ও বিচক্ষণতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে।

বিজিবি জানিয়েছে, দেশের সীমান্ত ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাহিনীটি দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করছে। পুরোনো ভিডিও ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে তারা।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এআর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!