উৎপাদিত ফসল নিয়ে আশায় বুক বেঁধে আছেন চাষীরা, হয়ত এ বছর তারা ভাল লাভের মুখ দেখবেন। এনজিও থেকে আনা চড়া সুদের ঋনের বোঝাও তাই সহজেই মেটাতে পারবেন। কিন্তু উৎপাদিত বাঙ্গির আশানুরূপ দর না পাওয়া নিয়ে কিছুটা শঙ্কিত রয়েছেন তারা।
বাঙ্গি চাষী বাশার সেখ (৪৫) জানান, উৎপাদিত বাঙ্গি দ্রুত রফতানি এবং পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় তারা খরচ পুষিয়ে অন্যত্র বিক্রি করতে পারছেন না। এ কারণে অনেক ফসল ক্ষেতেই নষ্ট হওয়ার উপক্রম।
.png)
স্থানীয় বাজারে মৌসুমের শুরুতেই বাঙ্গির দাম ভাল পেলেও তিন-চার সপ্তাহের মধ্যে সে দাম দ্রুত হ্রাস পেতে শুরু করে বলে জানান ওই চাষী। বর্তমানে স্থানীয় বাজারে বড় আকারের বাঙ্গির দাম ৮০-৯০ টাকা, মাঝারি একটির দাম ৬৫-৭০ এবং ছোট একটির দাম ৫০-৫৫ টাকা।
উপজেলা কৃষি অফিসার দিগ্বিজয় হাজরা বলেন, উত্তরের জনপদ নাজিরপুরে চলতি মৌসুমে প্রায় ১০০ একর জমিতে বাঙ্গির আবাদ হয়েছে।
কেবল অতুলনগর গ্রামেই চাষ হয়েছে ব্যাপক। উৎপাদনও এ বছর বেশ ভাল। তার মতে, এখানকার পরিবেশ ও বেলে দো-আঁশ মাটির কারণে বাঙ্গির চাষ অত্যন্ত উপযোগী, যে কারণে প্রতিবছর এ এলাকায় জনপ্রিয় ফসলে পরিণত হচ্ছে বাঙ্গি।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ আবু হেনা মোহাম্মদ জাফর বলেন, আমি নিজে বাঙ্গির ফলন দেখতে গিয়েছি। সত্যিই মনোমুগ্ধকর দৃশ্য। বাঙ্গির বাম্পার ফলন দেখে মন জুড়িয়ে যায়। কৃষকদের বলেছি যে কোনো ধরনের সহযোগিতা দেয়ার জন্য আমরা প্রস্তুত।
আবু হেনা মোহাম্মদ জাফর বলেন, জেলার নাজিরপুর ও ইন্দুরকানী উপজেলায় মাটি ফসল উৎপাদনের জন্য উপযোগি। কৃষকরা একটু পরিশ্রমী হলে বহুমুখী ফসল উৎপাদন করে তারা আরো বেশি সফল হতে পারে। ভিটামিন ‘এ’ সমৃদ্ধ বাঙ্গি ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য সহায়ক বলে তিনি জানান।
ডেইলি বাংলাদেশ/আজ/এমআরকে