ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ খবর ]

রঙিন বই আর শিশুদের কোলাহলে মুখর শিশুপ্রহর

ডেইলি-বাংলাদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত: ২২:৪৯, ৬ মার্চ ২০২৬
রঙিন বই আর শিশুদের কোলাহলে মুখর শিশুপ্রহর
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ফাল্গুনের রোদ পেরিয়ে বাবা-মা কিংবা ভাই-বোনের হাত ধরে মেলায় এসেছে ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা। নবম দিনে মেলার তৃতীশ শিশু প্রহর থাকাতে সকালেই প্রাণ ফিরে পায় অমর একুশে বইমেলা।

শুক্রবার সকাল ১১টা থেকে শুরু হয়ে দুপুর ১টা পর্যন্ত চলা বিশেষ আয়োজন ঘিরে পুরো প্রাঙ্গণজুড়ে ছিল ক্ষুদে পাঠক-দর্শনার্থীদের কোলাহল। রঙিন গল্পের বই, ছড়া, কমিক্স, স্টিকার কোন কিছুই বাদ যাচ্ছে না তাদের কেনাকাটার তালিকা থেকে। বইয়ের স্টল ঘুরে দেখার পাশাপাশি কাকতাড়ুয়া পাপেট থিয়েটারের পুতুলদের সঙ্গে আড্ডা আর বায়স্কোপের আয়োজন শিশুদের বাড়তি আনন্দ যোগাচ্ছে।

রাজধানীর মিরপুর থেকে বইমেলায় এসেছে তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী তাসিন আহমেদ। সে আজ কমিক্স আর একটি ভূতের গল্পের বই কিনেছে। বইমেলায় এসে নিজের পছন্দের বই খুঁজে নিতে তার খুব ভালো লাগে বলেও জানায় সে।

Advertisement

এদিকে ধানমন্ডি থেকে বাবা-মায়ের সঙ্গে মেলায় এসেছে চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী মাহিনুর রহমান। সে বলে, গল্পের বই পড়তে তার খুব ভালো লাগে। নতুন নতুন গল্প পড়লে অনেক কিছু শেখা যায়।

মেলায় আসা পুরান ঢাকার সূত্রাপুর এলাকার পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী রিদওয়ান হাসান জানায়, সে ছড়া আর অ্যাডভেঞ্চারের কয়েকটি বই কিনেছে। বাসায় গিয়ে আজই পড়া শুরু করবে।

মোহাম্মদপুর থেকে সন্তানকে নিয়ে মেলায় এসেছেন অভিভাবক সাবিনা ইয়াসমিন। তিনি বলেন, ছোটবেলা থেকেই বই পড়ার অভ্যাস গড়ে উঠলে শিশুরা সৃজনশীলভাবে ভাবতে শেখে। তাই প্রতি বছরই সন্তানকে নিয়ে বইমেলায় আসার চেষ্টা করেন।

বাড্ডা থেকে ছেলে নিয়ে মেলায় এসেছেন মো. আরিফুল ইসলাম। তিনি বলেন, এখনকার শিশুরা মোবাইল ও ট্যাবের দিকে বেশি ঝুঁকে পড়ছে। বইমেলার মতো আয়োজন তাদের বইয়ের প্রতি আগ্রহ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

এদিকে শাখারীবাজার থেকে মেলায় এসেছে পোগোজ স্কুলের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী অন্বয় কর্মকার। মা কণিকা কর্মকারের সঙ্গে বই কিনে ফেরার পথে সে জানায়, কাকাবাবু আর বিভূতিভূষণের ‘অপুর সংসার’ কিনেছে সে।

অন্বয়ের মা কণিকা কর্মকার বলেন, আমি বাংলায় অনার্স-মাস্টার্স করেছি। এখন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করি। বাসায় আমাদের একটা নিয়ম আছে, প্রতি শুক্রবার কিছু সময় বই পড়ার জন্য রাখি। সেদিন যতটা সম্ভব ফোন ব্যবহার কমাই।

তিনি আরো বলেন, এখনকার শিশু-কিশোররা পাঠ্যবইয়ের বাইরে বই পড়তে অনাগ্রহী হয়ে পড়ছে। জীবনের জন্য পড়াশোনা জরুরি, কিন্তু জীবনকে রাঙাতে সাহিত্য পড়া প্রয়োজন। না হলে মানুষ হয়তো সফল হবে, কিন্তু হয়ে উঠবে যান্ত্রিক ও ফ্যাকাশে। আর বই পড়ার অভ্যাস একবার গড়ে উঠলে তা আর সহজে ছাড়াও যায় না।

শুধু অন্বয় বা প্রভাতী নয়, তাদের মতো অসংখ্য শিশুর অভিভাবকরা সন্তানদের ডিজিটাল ডিভাইসের পর্দা থেকে সরিয়ে রঙিন বইয়ের জগতে নিয়ে আসছেন। অধিকাংশ অভিভাবকের প্রত্যাশা, বইয়ের সান্নিধ্যে বড় হয়ে তাদের সন্তানরা হয়ে উঠুক মানবিক, সংবেদনশীল মানুষ।

উল্লেখ্য, শিশু-কিশোরদের বইয়ের প্রতি আগ্রহী করে তুলতে বইমেলা চলাকালীন প্রতি সপ্তাহের শুক্রবার ও শনিবার দুই ঘণ্টাব্যাপী ‘শিশু প্রহর’ রাখা হয়েছে। এ দিন সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ক্ষুদে পাঠক ও দর্শনার্থীদের জন্য। এদিন শিশু-কিশোরদের জন্য কাকতাড়ুয়ার পাপেট শো, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতাসহ বাংলা একাডেমির নানা আয়োজন রাখা হয়েছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/SA
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!