শনিবার (৭ মার্চ) বাংলা একাডেমির জনসংযোগ দফতরের ও বইমেলার তথ্যকেন্দ্র সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
জানা যায়, শনিবার মেলার দশম দিনে এসেছে ১৮৫টি বই। এর মধ্যে গল্পের বই ছিল ২৩টি, উপন্যাস ২৮টি, প্রবন্ধ ২টি, কবিতা ৮২টি, গবেষণা ৫টি, ছড়া ৪টি, শিশুসাহিত্য ১২টি, জীবনী ২টি, নাটক ১টি, বিজ্ঞান ৩টি, ভ্রমণ ৪টি, ইতিহাস ২টি, রাজনীতি ২টি, স্বাস্থ্য ১টি, ভাষা ১টি, ধর্ম ৪টি, অনুবাদ ১টি ও অন্যান্য ৮টি।
.png)
যা ছিল মেলার আজকের আয়োজনে: এইদিন সকালে অমর একুশে উদযাপনের অংশ হিসেবে আজ বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে শিশুকিশোর সংগীত প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।
বিকেল ৩টায় বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় জন্মশতবর্ষ : নূরজাহান বেগম শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। লুভা নাহিদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইসরাইল খান। আলোচনায় অংশ নেন সোহরাব হাসান।
ইসরাইল খান বলেন, বাংলা ভাষায় প্রকাশিত সাময়িক-সাহিত্যের ইতিহাসে নারী সম্পাদকের নেতৃত্বে সুদীর্ঘকালব্যাপী পরিচালিত ও প্রকাশিত দু’একটি পত্রিকার নাম ইতিহাসে উজ্জ্বলরূপে চিরজাগরুক থাকলেও সাপ্তাহিক বেগমের তুলনা পাওয়া যায় না। বাংলাদেশের সমাজ-রাজনীতি-অর্থনীতি তথা সার্বিক পরিস্থিতির পরিবর্তন ও উন্নয়নের ইতিহাসে এই পত্রিকা যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করেছে। এই পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে মহীয়সী নূরজাহান বেগমের নামও সমমর্যাদায় উচ্চারিত হবে। তার বহুমুখী তৎপরতায় নারীর সার্বিক কল্যাণমূলক বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনও গড়ে উঠেছিল। শিক্ষিত, সচেতন নারীরা যদি নূরজাহান বেগমকে অনুসরণ করে নারীসমাজের সার্বিক কল্যাণে এগিয়ে আসেন, তবে সেই দিন বেশি দূরে নয় যেদিন বাংলার নারীদের মুখে অমলিন হাসি ফুটে উঠবে। বস্তুত, নূরজাহান বেগমের মনে-মননে শোণিতপ্রবাহে ছিল মহৎ চিন্তা, যা কেবলই মানবকল্যাণের উপায় অনুসন্ধানে ব্যয়িত হয়েছে।
সোহরাব হাসান বলেন, ‘বেগম’ পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন কবি সুফিয়া কামাল, পরবর্তীকালে নূরজাহান বেগমই এই পত্রিকার দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। সম্পাদক হিসেবে তিনি তার সমস্ত মেধা দিয়ে এই পত্রিকার প্রচার ও প্রসারের মাধ্যমে নারীর জাগরণকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছেন। তিনি কেবল পত্রিকাই বের করেননি, বরং নারী-লেখক, সাহিত্যিক ও শিল্পীদের নিয়ে একটি ‘বেগম ক্লাব’ও প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। বাংলাদেশের নারী জাগরণ ও অগ্রগতির যে ইতিহাস, তার মধ্যে নূরজাহান বেগম ও তাঁর পত্রিকা ‘বেগম’ নিঃসন্দেহে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
লুভা নাহিদ চৌধুরী বলেন, মুসলিম নারীদের জন্য প্রথম সার্থক সাপ্তাহিক পত্রিকা ‘বেগম’ নারীদের সৃজনশীলতাকে উজ্জীবিতকরণ ও আত্মপরিচয় সৃষ্টির একটি মাধ্যম হয়ে উঠেছিল। নূরজাহান বেগম কেবল উত্তরাধিকারসূত্রেই নয়, তিনি তার মেধা ও যোগ্যতা দিয়ে ‘বেগম’ পত্রিকাটির সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
এদিকে লেখক বলছি অনুষ্ঠানে নিজের বই নিয়ে আলোচনা করেন মুস্তাফা মজিদ। বিকেল ৪টায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে কবিতা পাঠ করেন মিনহাজুল হক। আবৃত্তি পরিবেশন করেন সাহিদা পারভীন রেখা, আনজুমান আরা এবং আজহারুল ইসলাম রনি। সংগীত পরিবেশন করেন ফেরদৌস আরা, পিয়াল হাসান, নিশাত আহমেদ, মো. ইউসুফ আহমেদ খান, জয় শাহরিয়ার, নির্ঝর চৌধুরী এবং মো. শফিউদ্দিন।
আগামীকালের সময়সূচি, যা থাকছে আয়োজনে: আগামীকাল রোববার ৮ মার্চ মেলা শুরু হবে দুপুর ২টায় এবং চলবে রাত ৯টা পর্যন্ত। এইদিন বিকেল ৩টায় বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে আসাদ চৌধুরী শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন কুদরত-ই-হুদা। আলোচনায় অংশ নেবেন সৈকত হাবিব। সভাপতিত্ব করবেন সৈয়দ আজিজুল হক। বিকেল ৪টায় রয়েছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।