মঙ্গলবার (১০ মার্চ) বাংলা একাডেমির জনসংযোগ দফতর ও বইমেলার তথ্যকেন্দ্র সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
জানা যায়, মঙ্গলবার মেলার ১৩তম দিনে আসা ১৪৬টি বইয়ের মধ্যে গল্পের বই ছিল ১৮টি, উপন্যাস ২৪টি, প্রবন্ধ ৮টি, কবিতা ৬৯টি, গবেষণা ২টি, ছড়া ২টি, শিশুসাহিত্য ৪টি, জীবনী ২টি, নাটক ১টি, বিজ্ঞান ২টি, ভ্রমণ ২টি, রাজনীতি ১টি, ধর্ম ১টি এবং অন্যান্য ১০টি।
.png)
যা ছিল মেলার আজকের আয়োজনে: এইদিন বিকেল ৩টায় বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় ‘স্মরণ: সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আহমাদ মোস্তফা কামাল। আলোচনায় অংশ নেন হরিশংকর জলদাস। সভাপতিত্ব করেন খালিকুজ্জামান ইলিয়াস।
আহমাদ মোস্তফা কামাল বলেন, সৈয়দ মনজুরুল ইসলামের পঠন-পাঠন ও জ্ঞানের পরিধি ছিল অত্যন্ত ব্যাপক। তার লেখার ভঙ্গিটিও ছিল খুব অন্তরঙ্গ, যে কারণে প্রাবন্ধিক হিসেবে তিনি পাঠকপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন। প্রবন্ধের প্রচলিত কাঠামো ভেঙে তিনি তৈরি করেছিলেন নতুন এক গদ্যভঙ্গি।
সমালোচনা-সাহিত্য ও প্রবন্ধ-সাহিত্যকে তিনি সবসময় উঁচু মর্যাদার আসনে রেখেছেন। জীবনভর তিনি নানা বিষয়ে প্রবন্ধ লিখেছেন। প্রবন্ধ ছাড়াও ছোটোগল্প লিখতে তিনি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন। তার সৃজনশীলতার সর্বোচ্চ বিকশিত রূপটি ধরা পড়েছিল গল্প রচনার সময়। তার গল্প ছিল বৈচিত্র্যময়, অভিনব এবং কখনো কখনো অকল্পনীয়। সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম ছিলেন একই সঙ্গে শিল্পী এবং ব্যক্তিমানুষ হিসেবে দরদি। তার একটি বড়ো গুণ হলো তিনি মানুষের ভালো কাজের অকুণ্ঠ প্রশংসা করতে পারতেন। শিক্ষক হিসেবেও তিনি সবসময় সবার প্রতি সমান মনোযোগ ও ভালোবাসা দেখিয়েছেন। লেখক হিসেবে যেমন, তেমনি শিক্ষক ও বৃদ্ধিজীবী হিসেবে এবং সর্বোপরি ব্যক্তিমানুষ হিসেবে তিনি ছিলেন অনেক উচ্চস্থানীয়।
হরিশংকর জলদাস বলেন, সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম ছিলেন ধী-শক্তিসম্পন্ন অমায়িক একজন মানুষ। উপন্যাস, ছোটোগল্প, প্রবন্ধ ও নানা তাত্ত্বিক বিষয়ে ছিল তার লেখালিখি। তার উপন্যাসের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল মানুষ এবং মানুষের পারস্পরিক সম্পর্কের বিভিন্ন দিক। তার সমগ্র কথা-সাহিত্যে সমাজের ও মানুষের দ্বান্দ্বিকতার নানা বিষয় উঠে এসেছে।
খালিকুজ্জামান ইলিয়াস বলেন, সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম ছিলেন একজন শিক্ষক, সাহিত্যিক ও তাত্ত্বিক। তিনি অসাধারণ চিত্র-সমালোচকও ছিলেন। বহুমাত্রিক চিন্তা ও কর্মের মধ্য দিয়ে তিনি শ্রেণিকক্ষে এবং শ্রেণিকক্ষের বাইরে শিক্ষার্থীদের আলোকিত করেছেন, তাদের অনুপ্রেরণা যুগিয়েছেন।
এদিকে লেখক বলছি অনুষ্ঠানে নিজের বই নিয়ে আলোচনা করেন গবেষক ইসরাইল খান এবং কবি মুহাম্মদ আবদুল বাতেন। বিকেল ৪টায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে কবিতা পাঠ করেন কবি মজিদ মাহমুদ, মঈনুল হাসান, স্নিগ্ধা বাউল এবং ড. নাঈমা খানম। আবৃত্তি পরিবেশন করেন সুস্মিতা জাফর, তাসনোভা তুশিন। ছিল আলী আশরাফ আখন্দের পরিচালনায় জিয়া সাংস্কৃতিক জোটের পরিবেশনা।
আগামীকালের সময়সূচি, আয়োজনে যা থাকছে: আগামীকাল বুধবার (১১ মার্চ) মেলা শুরু হবে দুপুর ২টায় এবং চলবে রাত ৯টা পর্যন্ত। বিকেল ৩টায় বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে স্মরণ: এম শমসের আলী শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম। আলোচনায় অংশ নেবেন ফারসীম মান্নান মোহাম্মদী। সভাপতিত্ব করবেন আরশাদ মোমেন। বিকেল ৪টায় রয়েছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।