জানা গেছে, গত শনিবার (২৯ আগস্ট) বিকেল ৬টার দিকে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে ঘটনাটি ঘটে। সাকিব আল হাসান এগারসিন্দুর গোধূলি এক্সপ্রেস থেকে নামার সময় একজন কনস্টেবল ও দুই-তিনজন সাদা পোশাকের ব্যক্তি পেছন থেকে তার ব্যাগে হাত দেন। এতে সাকিব আপত্তি জানান। তিনি নিজেকে আদালতের কর্মচারী হিসেবে পরিচয় দিলে তারা তাকে ছেড়ে দেন।
পরে বিষয়টি জানাতে সাকিব কমলাপুর রেলওয়ে থানায় যান। সেখানে এসআই মোহাম্মদ আলীকে ঘটনাটি জানালে তিনি ক্ষুব্ধ হন। একপর্যায়ে ওই এসআই সাকিবকে থাপ্পড় মারেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
.png)
সূত্র জানায়, ঘটনার পর সাকিব মহানগর দায়রা জজ আদালতের নাজিরকে বিষয়টি অবহিত করেন। নাজির তাকে থানায় লিখিত অভিযোগ করার পরামর্শ দেন।
তবে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট বিচারককে জানানো হলে তিনি ভিন্ন পরামর্শ দেন। বিচারক বলেন, পুলিশের বিরুদ্ধে সরাসরি লিখিত অভিযোগ করলে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যের চাকরিতে সমস্যা হতে পারে। তাই প্রথমে তার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানিয়ে তার বক্তব্য শোনা এবং এরপর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ১ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১টার দিকে এসআই মোহাম্মদ আলী সংশ্লিষ্ট বিচারকের খাস কামরায় উপস্থিত হন। সে সময় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ ১১ ও ১৫ নম্বর আদালতের বিচারকরাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, এসআই মোহাম্মদ আলী শনিবারের ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন এবং উপস্থিত তিন বিচারকের কাছে ক্ষমা চান। পরে বিচারকরা তাকে ক্ষমা করে দেন। একই সঙ্গে সাকিব আল হাসানের সঙ্গে তার হাত মিলিয়ে দেওয়া হয়। এরপর এসআই খাস কামরা থেকে চলে যান।
সূত্রটি নিশ্চিত করেছে, ওই সময় খাস কামরায় কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
তবে এরপরই এসআই মোহাম্মদ আলী ভিন্ন কৌশল অবলম্বন করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অফিস সহায়ককে মারধরের অভিযোগের দায় এড়াতে তিনি সংশ্লিষ্ট আদালতের বিরুদ্ধেই একটি মিথ্যা রিপোর্ট তৈরি করেন এবং সেটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে।
এ ঘটনায় আদালতের ভাবমূর্তি ও সুনাম ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।