السواك (মিসওয়াক) শব্দটি ساك (সিওয়াক) শব্দমূল থেকে এসেছে। এর আভিধানিক অর্থ হলো ঘষা, মাজা বা মর্দন করা। এর সবচেয়ে কাছাকাছি বাংলা প্রতিশব্দ হলো দাঁতন।
মেসওয়াক নবীজির সুন্নাত
.png)
সেহরির শেষ মুহূর্তে সুবহে সাদিকের আগে ব্রাশ করতে না পারলে রোজার মাকরুহ বিষয় থেকে বেঁচে থাকতে মেসওয়াক করা উচিত। এর মাধ্যমে নবীজির একটি বিশেষ সুন্নাত পালনের পাশাপাশি সারাদিন মুখের দুর্গন্ধ থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে।
রমজানে মেসওয়াকের যে বিধান
হাসান (র.)-কে রোজা অবস্থায় দিনের শেষে মেসওয়াক করার বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, ‘রোজা অবস্থায় দিনের শেষে মেসওয়াক করতে কোনো অসুবিধা নেই। মেসওয়াক পবিত্রতার মাধ্যম। অতএব দিনের শুরুতে এবং শেষেও মেসওয়াক করো’ (মুসান্নাফে আবদুর রাজজাক: ৪/২০২)
হাদিসে মেসওয়াকের যত ফজিলত
মেসওয়াকের বিশেষ উপকারিতা সম্পর্কে আল্লামা ইবনে আবেদিন (র.) বলেছেন, ‘মেসওয়াকের উপকারিতা সত্তরেরও অধিক। তার মধ্যে সবচেয়ে ক্ষুদ্র উপকার হচ্ছে মুখের দুর্গন্ধ দূর হয়। আর সর্বোচ্চ উপকার হচ্ছে মেসওয়াক করলে মৃত্যুর সময় কালিমা নসিব হয়।’ (ফাতাওয়ে শামি: ১/২৩৯)
মুখের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতায় মেসওয়াকের ব্যবহার সম্পর্কে এক হাদিসে এসেছে, হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘মেসওয়াক মুখের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার মাধ্যম ও আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উপায়।’ (নাসায়ি: ৫)
আরেক হাদিসে হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যদি আমি আমার উম্মতের ওপর কষ্ট হওয়ার আশঙ্কা না করতাম, তাহলে তাদের প্রত্যেক নামাজের সময় মেসওয়াক করার আদেশ দিতাম।’ (বুখারী: ৮৮৭)
দাঁতের সুরক্ষায় মেসওয়াক
এছাড়া রমজান এবং রমজান ছাড়া পুরো বছর মেসওয়াক করা মুস্তাহাব। এর বাইরে যুগ যুগ ধরে দাঁতের সুরক্ষায় মেসওয়াক ব্যবহার একটি বিজ্ঞানসম্মত ও অত্যন্ত কার্যকরী পদ্ধতি হিসেবে প্রচলিত হয়ে আসছে। তাই রমজানে মুখের দুর্গন্ধ থেকে বাঁচতে এবং রোজাকে ত্রুটিমুক্ত রাখতে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বিশেষ এই সুন্নাতের ওপর আমল করা যেতে পারে।
এক হাদিসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘আমার উম্মতের মধ্যে যখন ফেতনা-ফাসাদ হবে, তখন যে ব্যক্তি আমার সুন্নাতকে সুদৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরে রাখবে, তাকে একশ’ শহিদের সওয়াব দেওয়া হবে।’ (মিশকাত, ১৭৬, আত তারগীব ওয়াত তারহীব, ৬৫)
আরেক হাদিসে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আমার পর আমলহীন আমার কোনো সুন্নাতকে জিন্দা করবে (সুদৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরবে), এবং তাকে দেখে যারা আমল করবে তাদের আমলের সওয়াবের মতই সে সওয়াব প্রথম ব্যক্তিকে দেওয়া হবে। দ্বিতীয় আমলকারীর সওয়াবের মাঝে কোনো কমতি ছাড়াই।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস নং-২১০, সুনানে তিরমিযী, হাদিস নং-২৬৭৭, মুসনাদুল বাজ্জার, হাদিস নং-৩৩৮৫, মুসনাদে আবদ বিন হুমাইদ, হাদিস নং-২৮৯)