ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ ধর্ম ]

চাঁদরাতে ইবাদতের ফজিলত ও মর্যাদা

ধর্ম ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৫:৩৬, ২১ এপ্রিল ২০২৩
চাঁদরাতে ইবাদতের ফজিলত ও মর্যাদা
ছবি: প্রতীকী

মহিমাম্বিত রমজান মাস শেষে আনন্দের মাস শাওয়ালের চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ঈদের রাত বা চাঁদরাত শুরু হয়।

চাঁদরাত হিসেবে পরিচিত রাতটিতে ইবাদত-বন্দেগির ফজিলত ও মর্যাদা অনেক। এই বরকতময় রাতকে বলা হয় পুরস্কারের রাত। মহান রাব্বুল আলামিন আল্লাহ তাআলা বান্দাকে বিশেষ পুরস্কার দেন এই বিশেষ রাতে।

হাদিস শরিফে এসেছে, ঈদুল ফিতরের রাতে ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহর জান্নাত ওয়াজিব হয়ে যায়। হজরত মুয়াজ ইবনে জাবাল (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করিম (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি পাঁচটি রাত (ইবাদতের মাধ্যমে) জাগ্রত থাকবে, তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হয়ে যাবে।

Advertisement

জিলহজ মাসের ৮ ও ৯ তারিখের রাত, ঈদুল আজহার রাত, ঈদুল ফিতরের রাত এবং ১৫ শাবানের রাত। (আত তারগিব ওয়াত তারহিব লিল মুনজেরি: ২/৯৮, হাদিস: ১৬৫৬)।

অন্য হাদিসে এসেছে, ঈদের রাতের দোয়া ফিরিয়ে দেওয়া হয় না। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) বর্ণনা করেন, ‘যে ব্যক্তি জুমার রাত, রজব মাসের প্রথম রাত, অর্ধ শাবানের রাত এবং দুই ঈদের রাত- এই পাঁচ রাতে কোনো দোয়া করে; তার কোনো আবেদনই ফিরিয়ে দেওয়া হয় না।’ (মুসান্নাফে আবদুর রাজ্জাক: ৭৯২৭)

ঈদের রাতে ইবাদতকারীর আরেকটি বিশেষ ফজিলত হলো- তার অন্তর কেয়ামতের দিন মরবে না। হজরত আবু উমামা বাহেলি (রা.) বর্ণনা করেন, নবী করিম (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি দুই ঈদের রাতে আল্লাহর কাছে সওয়াবপ্রাপ্তির নিয়তে ইবাদত করবে, তার হৃদয় সেদিনও জীবিত থাকবে, যেদিন সব হৃদয়ের মৃত্যু ঘটবে। (সুনানে ইবনে মাজাহ: ১৭৮২)।

হজরত উবাদা ইবনে সামেত (রা.) বর্ণিত অন্য হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি ঈদুল ফিতর এবং ঈদুল আজহার রাতকে (ইবাদতের মাধ্যমে) জীবিত রাখবে তার অন্তর ওই দিন মরবে না, যেদিন অন্যদের অন্তর মরে যাবে। (আল মুজামুল আওসাত ১/৫৭, হাদিস: ১৫৯)

তাই বরকতময় ঈদের রাত বা চাঁদরাতে অযথা কথা-কাজে লিপ্ত হওয়া, বাজারে-মার্কেটে ঘোরাঘুরি করার পরিবর্তে এশা এবং ফজরের নামাজ জামাতের সঙ্গে আদায় করা জরুরি। একই সঙ্গে অন্যান্য নেক আমলগুলো যেমন- নফল নামাজ, কোরআন তেলাওয়াত, জিকির-আজকার, ইস্তেগফার ও দোয়া-মুনাজাতে মশগুল থাকা খুবই কল্যাণময়।

রাব্বুল আলামিন আল্লাহ তাআলা! আমাদেরকে ফজিলত ও মর্যাদাপূর্ণ এই রাতটিকে ইবাদতের মাধ্যমে অতিবাহিত করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

ডেইলি-বাংলাদেশ/জিআর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!