বেশি বেশি দরুদ পাঠ
জুমার দিনে রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ করা উত্তম আমল। তাই এ দিনে সামর্থ্য অনুযায়ী বেশি বেশি দরুদ শরিফ পাঠ করা উচিত।
.png)
দরুদ:
اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ
সূরা আল-কাহফ তিলাওয়াত
শুক্রবার সূরা আল-কাহফ তিলাওয়াত করা ফজিলতপূর্ণ আমল। তাই জুমার দিনে সম্ভব হলে সূরা আল-কাহফ পড়ার চেষ্টা করা উচিত। কেউ চাইলে দিনের শুরু থেকে জুমার সময় পর্যন্ত সুবিধাজনক সময়ে এটি তিলাওয়াত করতে পারেন।
জুমার নামাজ আদায়
জুমার দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো জুমার নামাজ। প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থ ও শরিয়তসম্মতভাবে যাদের ওপর জুমার নামাজ ফরজ, তাদের জামাতে জুমার নামাজ আদায় করা জরুরি। এ জন্য আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হয়ে মসজিদে যাওয়া উত্তম।
গোসল ও পরিচ্ছন্নতা
জুমার দিন গোসল করা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা, ভালো পোশাক পরা এবং সুগন্ধি ব্যবহার করে মসজিদে যাওয়া উত্তম আমল। খুতবা চলাকালে মনোযোগ দিয়ে তা শোনা এবং অপ্রয়োজনীয় কথা বলা থেকে বিরত থাকা উচিত।
বেশি বেশি দোয়া ও ইস্তিগফার
জুমার দিনে দোয়া কবুলের বিশেষ একটি সময় রয়েছে বলে হাদিসে বর্ণনা পাওয়া যায়। তাই এ দিনে বেশি বেশি দোয়া করা উচিত। নিজের, পরিবারের সদস্যদের এবং সমগ্র মুসলিম উম্মাহর কল্যাণের জন্য দোয়া করা যেতে পারে।
এ ছাড়া বেশি বেশি ইস্তিগফার করা উত্তম। পড়া যায়-
أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ
উচ্চারণ: আস্তাগফিরুল্লাহ
অর্থ: আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।
জিকির ও তাসবিহ
জুমার দিনে সময় ও সুযোগ অনুযায়ী বেশি বেশি জিকির করা যেতে পারে। বিশেষ করে—
সুবহানাল্লাহ - আল্লাহ পবিত্র।
আলহামদুলিল্লাহ - সব প্রশংসা আল্লাহর।
আল্লাহু আকবার - আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ।
লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ - আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই।
জুমার দিনের বিশেষ দোয়া
এ দিনে বহুল পঠিত একটি দোয়া হলো-
رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ
উচ্চারণ: রব্বানা আতিনা ফিদ্দুনইয়া হাসানাতাও ওয়া ফিল-আখিরাতি হাসানাতাও ওয়া কিনা আজাবান নার।
অর্থ: হে আমাদের রব, আমাদের দুনিয়াতে কল্যাণ দান করুন এবং আখিরাতেও কল্যাণ দান করুন এবং আমাদের জাহান্নামের শাস্তি থেকে রক্ষা করুন।
ইসলামি জীবনব্যবস্থায় জুমার দিনকে শুধু আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে ইবাদত, জিকির, কোরআন তিলাওয়াত, দরুদ ও দোয়ার মাধ্যমে কাটানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তাই প্রত্যেক মুসলমানের উচিত নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী জুমার দিনের আমলগুলো পালনের চেষ্টা করা।