ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ ধর্ম ]

রোজা কী ও কখন ফরজ হয়?

গাজী মো. রুম্মান ওয়াহেদ
প্রকাশিত: ১৩:৩১, ১০ মার্চ ২০২৪
রোজা কী ও কখন ফরজ হয়?
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

روزه (রোজা) এটি ফারসি শব্দ। আরবি ভাষায় صوم বা صيام বলা হয়। আভিধানিক অর্থে  বিরত থাকার নাম হলো রোজা বা সাওম।

সুবহে সাদেক বা ভোরের সূক্ষ আলো থেকে শুরু করে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সকল প্রকার পানাহার,পাপাচার, কামাচার এবং সেই সঙ্গে যাবতীয় ভোগ-বিলাস থেকেও বিরত থাকার নাম রোজা। ইসলামী বিধান অনুসারে, প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক মুসলমানের জন্য রমজান মাসের প্রতি দিন রোজা রাখা ফরজ, (فرض ফার্দ্ব্‌) যার অর্থ অবশ্য পালনীয়।

মহান রাব্বুল আলামিন আল্লাহ তাআরা পবিত্র কোরআনুল কারিমে ইরশাদ করেন,

Advertisement

یٰۤاَیُّهَا الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا كُتِبَ عَلَیْكُمُ الصِّیَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَی الَّذِیْنَ مِنْ قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُوْنَۙ 

উচ্চারণ: ‘ইয়াআইয়ুহাল্লাযীনা আ-মানূ কুতিবা ‘আলাইকুমসসিয়া-মু কামা-কুতিবা ‘আলাল্লাযীনা মিন কাবলিকুম লা‘আল্লাকুম তাত্তাকূন’।

অর্থ: ‘হে মুমিনগণ! তোমাদের প্রতি রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমন তোমাদের পূর্ববর্তী লোকদের প্রতি ফরজ করা হয়েছিলো, যাতে তোমাদের মধ্যে তাকওয়া সৃষ্টি হয়’। (সূরা: আল বাকারা: আয়াত: ১৮৩)

উক্ত আয়াত দ্বারা পূর্ববর্তী উম্মতগণের উপরও রোজা ফরজ ছিলো সেটি বুঝা যায়। এছাড়া হাদিস ও ইতিহাসগ্রন্থ থেকেও তাদের উপর রোজা ফরজ থাকার বিষয়টি জানা যায়।

মহান রাব্বুল আলামিন আল্লাহ তাআলা আরো ইরশাদ করেন,

أُحِلَّ لَكُمْ لَيْلَةَ الصِّيَامِ الرَّفَثُ إِلَىٰ نِسَائِكُمْ ۚ هُنَّ لِبَاسٌ لَّكُمْ وَأَنتُمْ لِبَاسٌ لَّهُنَّ ۗ عَلِمَ اللَّهُ أَنَّكُمْ كُنتُمْ تَخْتَانُونَ أَنفُسَكُمْ فَتَابَ عَلَيْكُمْ وَعَفَا عَنكُمْ ۖ فَالْآنَ بَاشِرُوهُنَّ وَابْتَغُوا مَا كَتَبَ اللَّهُ لَكُمْ ۚ وَكُلُوا وَاشْرَبُوا حَتَّىٰ يَتَبَيَّنَ لَكُمُ الْخَيْطُ الْأَبْيَضُ مِنَ الْخَيْطِ الْأَسْوَدِ مِنَ الْفَجْرِ ۖ ثُمَّ أَتِمُّوا الصِّيَامَ إِلَى اللَّيْلِ ۚ وَلَا تُبَاشِرُوهُنَّ وَأَنتُمْ عَاكِفُونَ فِي الْمَسَاجِدِ  تِلْكَ حُدُودُ اللَّهِ فَلَا تَقْرَبُوهَا ۗ كَذَٰلِكَ يُبَيِّنُ اللَّهُ آيَاتِهِ لِلنَّاسِ لَعَلَّهُمْ يَتَّقُونَ

উচ্চারণ: ‘উহিল্লা লাকুম লাইলাতাসসিয়া-মিররাফাসুইলা-নিসাইকুম হুন্না লিবা-সুল্লাকুম ওয়া আনতুম লিবা-সুল লাহুন্না ‘আলিমাল্লা-হু আন্নাকুম কুনতুম তাখতা-নূনা আনফুসাকুম ফাতাবা ‘আলাইকুম ওয়া ‘আফা- ‘আনকুম ফালআ-না বা-শিরূহুন্না ওয়াবতাগূ মা-কাতাবাল্লা-হু লাকুম ওয়া কুলূ ওয়াশরাবূ হাত্তা-ইয়াতাবাইয়ানা লাকুমুল খাইতুল আবইয়াদুমিনাল খাইতিল আসওয়াদি মিনাল ফাজরি ছু ম্মা আতিম্মুস সিয়া-মা ইলাল্লাইলি ওয়ালাতুবা-শিরূহুন্না ওয়া আনতুম ‘আ-কিফূনা ফিল মাসা-জিদি তিলকা হুদূদুল্লা-হি ফালাতাকরাবূহা-কাযা-লিকা ইউবাইয়িনুল্লা-হু আ-য়া-তিহী লিন্না-সি লা‘আল্লাহুম ইয়াত্তাকূন’।

অর্থ: ‘রোজার রাতে তোমাদের স্ত্রীদের সঙ্গে সহবাস করা তোমাদের জন্য হালাল করা হয়েছে। তারা তোমাদের পরিচ্ছদ এবং তোমরা তাদের পরিচ্ছদ। আল্লাহ অবগত রয়েছেন যে, তোমরা আত্নপ্রতারণা করছিলে, সুতরাং তিনি তোমাদেরকে ক্ষমা করেছেন এবং তোমাদের অব্যাহতি দিয়েছেন। অতঃপর তোমরা নিজেদের স্ত্রীদের সঙ্গে সহবাস কর এবং যা কিছু তোমাদের জন্য আল্লাহ দান করেছেন, তা আহরন কর। আর পানাহার কর যতক্ষণ না কাল রেখা থেকে ভোরের শুভ্র রেখা পরিষ্কার দেখা যায়। অতঃপর রোজা পূর্ণ কর রাত পর্যন্ত। আর যতক্ষণ তোমরা এতেকাফ অবস্থায় মসজিদে অবস্থান কর, ততক্ষণ পর্যন্ত স্ত্রীদের সঙ্গে মিশো না। এই হলো আল্লাহ কর্তৃক বেঁধে দেওয়া সীমানা। অতএব, এর কাছেও যেও না। এমনিভাবে বর্ণনা করেন আল্লাহ নিজের আয়াত সমূহ মানুষের জন্য, যাতে তারা বাঁচতে পারে’।  (সূরা: আল বাকারা: আয়াত: ১৮৭)

রোজা কখন ফরজ হয়

হজরত ইমাম ইবনে জারির তবারি রাহিমাহুল্লাহু তাআলা ও হাফেজ ইমাদুদ্দিন ইবনে কাসির রাহিমাহুল্লাহু তাআলার মতে রমজানের রোজা বদরের যুদ্ধের ১ মাস ৭ দিন পূর্বে এবং হিজরতের দেড়বছর পর ২ হিজরি শাবান মাসের ১০ তারিখে ফরজ করা হয়। (বিদায়া-নিহায়া: খ. ৩, পৃ. ১১৩)

রমজানের রোজা ফরজ হওয়ার পূর্বে  মুসলমানগণ মুহাররম মাসের ১০ তারিখ আশুরার রোজা ফরজ হিসাবে পালন করে থাকতো। ২ হিজরিতে রমজানের রোজা ফরজ হওয়ার পর মুসলমানদের উপর থেকে আশুরার রোজার ফরজ রহিত হয়ে যায়। হজরত ইবনে উমর রাজিয়াল্লাহু তাআলা আনহু বলেন, হুজুর সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়াসাল্লাম আশুরার রোজা রেখেছেন এবং অন্যদেরকেও রোজা রাখার আদেশ করেছেন। কিন্তু যখন রমজানের রোজা ফরজ করা হলো তখন সেটি ছেড়ে দিয়েছেন। (বুখারি শরিফ: হাদিস- ১৭৯৩)

ডেইলি-বাংলাদেশ/জিআর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!