ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ ধর্ম ]

রমজানে নারীদের ইবাদত ও মাসায়েল

ধর্ম ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৪:১০, ১৫ মার্চ ২০২৪
রমজানে নারীদের ইবাদত ও মাসায়েল
অলংকরণ: ডেইলি বাংলাদেশ

সাধারণত ঘরোয়া পরিবেশেই নারীদের রোজার দিনগুলো কাটে। খুব প্রয়োজন ছাড়া বাইরের ব্যস্ততা তাদের কম থাকে। ফলে তাদের পক্ষে রমজানের পূর্ণ ফায়েজ ও বরকত লাভ করা অনেকাংশে সহজ।

যেহেতু নারীদের জন্য কিছুটা বাড়তি সুযোগ রয়েছে, তাই তাদের জন্য উচিত হলো রমজানের প্রতিটি মুহূর্তকে কাজে লাগিয়ে জীবনের সফলতার দ্বার উন্মোচন করা। বিশেষ করে ঘরোয়া পরিবেশে রমজানের পূর্ণাঙ্গ দাবি পূরণ, আল্লাহর কৃত ওয়াদার সর্বোচ্চ প্রাপ্তি ও রমজানের পবিত্রতা রক্ষায় তাদের সুযোগ পুরুষদের তুলনায় একটু বেশি। তাই রমজানের সঠিক পরিকল্পনা বা রুটিন করে নারীরা আমল করবে। 

এক্ষেত্রে নারীদের রমজান মাসে কিছু জিনিসের প্রতি গভীরভাবে খেয়াল রাখতে হবে-

Advertisement

এক. ইবাদতের ক্ষেত্রে একটি ভারসাম্য রক্ষা করা: রমজানে প্রতিটি ইবাদতেই সত্তর গুণ বেশি সওয়াব পাওয়া যায়। রোজাই হচ্ছে রমজানের প্রধান ইবাদত। তবে রোজার চেয়ে নামাজের গুরুত্ব অনেক বেশি। রোজা রাখার ক্ষেত্রে নারীরা এগিয়ে- এটা অবশ্যই প্রশংসাযোগ্য। কিন্তু অনেকেই আছেন রোজা রাখেন কিন্তু নামাজ ঠিকমতো পড়েন না- এটা খুবই অন্যায়। অন্য সময় তো নামাজ পড়বেনই, রমজানে আরও বেশি গুরুত্ব দিয়ে পড়বে। তাছাড়া অন্যান্য ইবাদতের মাত্রাও বাড়িয়ে দিতে হবে।

দুই. বাকসংযম করতে হবে: অধিক বাকপ্রবণ বলে মহিলাদের একটি বদনাম আছে। পরচর্চা, কুৎসা, নিরর্থক বিষয় নিয়ে মাতামাতি ইত্যাদি তাদের চিরায়ত অভ্যাস। কিন্তু এগুলো রোজার জন্য খুবই ক্ষতিকারক। না খেয়ে উপোস থাকার যেমন রোজার অংশ তেমনি বাকসংযমও। তাই রমজানে মহিলাদের জন্য উচিত হলো যথাসম্ভব বাকসংযম করা।

তিন. চলাফেরা ও চালচলনে শালীনতা বজায় রাখা: জৈবিক চাহিদা পূরণ থেকে বিরত থাকা ও এ ধরনের যে কোনো পরিস্থিতির সম্মুখীন না হওয়া রোজার একটি অংশ। মহিলাদের খোলামেলা চালচলন তাদের নিজেদের রোজার পবিত্রতার জন্য যেমন ক্ষতিকর তেমনি পর পুরুষের রোজা নষ্ট কিংবা হালকা করার জন্যও দায়ী। এজন্য রমজানের দিনে মহিলাদের বাইরে বের হতে হলে শালীনতার সঙ্গে বের হওয়া উচিত।

চার. অধিকহারে দান-সদকা করা: কেননা অন্য যেকোনো সময়ের তুলনায় রমজানে দান-সদকার ফজিলত অনেক বেশি। এ ক্ষেত্রে নারীদের রয়েছে দারুণ সুযোগ। সংসারের নিয়ন্তা হিসেবে তারা ইচ্ছে করলে এ মাসে গরিব-দুঃখীর দিকে সহানুভূতির হাত প্রসারিত করতে পারেন। এর দ্বারা আল্লাহর বিশেষ কৃপা কুড়ানোর আশা করা যায়।

পাঁচ. সবার সঙ্গে মার্জিত আচরণ করা: রোজা রাখলে ক্ষুধা লাগবে, পিপাসা পাবে- এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু এর প্রভাব যেন কোনোভাবেই আচরণে প্রকাশ না পায়। সাংসারিক কাজের ঝামেলার কারণে অনেক মহিলা রোজা রেখে মেজাজ খারাপ করে রাখেন।

ছয়. রোজা রেখে অহেতুক কাজ বর্জন করা: হাদিসে রোজাদারকে নিরর্থক কাজ থেকে বেঁচে থাকার নির্দেশ করা হয়েছে। রোজা রেখে অনেকের দিন কাটতে চায় না- এই অজুহাতে বিভিন্ন আজেবাজে কাজে সময় ব্যয় করেন। কিন্তু এটা সমীচীন নয়। কেননা রোজাদারের সারাদিন হবে ইবাদতের শামিল। বাহ্যিক কোনো ইবাদত না করলেও তার ধ্যানধারণা থাকবে ইবাদতের প্রতি। রোজার পবিত্রতা নষ্ট করে এমন কোনো কাজ যেন না হয়।

সাত. সংসারের শৃঙ্খলা বজায় রাখার প্রতি খেয়াল করা: বছরের অন্যান্য সময় থেকে যেহেতু রমজানের রুটিন কিছুটা ভিন্ন সেজন্য সাংসারিক কাজকর্ম কিংবা পারিবারিক ব্যবস্থাপনায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে পারে। তা নিরসন করার দায়িত্ব মহিলাদের ওপর। অন্যের সুবিধার কথা চিন্তা করে, নিজে কিছুটা ত্যাগ স্বীকার করে হলেও সংসারের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে।

আট. বেশি বেশি কোরআন তেলাওয়াত করা: রমজান হচ্ছে কোরআন নাজিলের মাস। এ মাসের সঙ্গে কোরআনের রয়েছে নিবিড় সম্পর্ক। রমজানে কোরআন তেলাওয়াতের সওয়াব অনেক গুণ বেশি। যারা কোরআন পড়তে পারেন তারা বেশি বেশি কোরআন তেলাওয়াত করবেন। আর যারা কোরআন পড়তে পারেন না, তারা এ মাসে তা শিখে নিতে পারেন।

নয়. অপচয় রোধ করা: রমজানে যত খুশি খরচ কর, তাতে কোনো বাধা নেই- এ ধরনের একটি কথা আমাদের সমাজে প্রচলিত। এর ওপর ভিত্তি করে প্রত্যেকটি পরিবারেই খরচের মাত্রা বেড়ে যায়, যা অপচয়ের গণ্ডি স্পর্শ করে। কিন্তু মূলত এ কথাটি ঠিক নয়। রমজান সংযমের মাস হিসেবে সব কিছুতেই সংযমতা আনতে হবে।

দশ. শেষ দশকে ইতিকাফ করা: ইতিকাফ রমজানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আমল। মহিলারাও ইচ্ছে করলে ইতিফাক করতে পারেন। তবে তা অন্দরমহলে পূর্ণ পর্দা বজায় রেখে। এর দ্বারা রমজানের দাবি যেমন ভালোভাবে আদায় করা যায় তেমনি মহিমান্বিত রাত শবেকদরের ফয়েজ ও বরকত লাভে ধন্য হওয়া যায়। তাই নারীদের জন্য এ সুযোগ হাতছাড়া করা উচিত নয়।

নারীদের রোজার মাসায়েল

* মহিলারা রমজান ছাড়া স্বামীর অনুমতি ব্যতীত রোজা রাখবে না। (তিরমিজি : হাদির নম্বর ৭৮২)

* যে মেয়ে বালেগ হয়েছে অথচ লজ্জার কারণে প্রকাশ করে না এবং রোজাও রাখে না। তাহলে তার ওপর তওবা ও ছুটে যাওয়া রোজার কাজা করা ওয়াজিব।

* মহিলা যদি নিজের হায়েজের আর্দ্রতা তথা পবিত্রতার নিদর্শন দেখতে পায়। যার দ্বারা বুঝতে পারে যে সে এখন পাক হতে যাচ্ছে। তাহলে রাতেই রোজার নিয়ত করবে। আর যদি পবিত্রতার নিদর্শন না দেখা যায়, তাহলে ভেতরে তুলা লাগিয়ে দেবে। যদি পরিষ্কার থাকে, তাহলে রোজা রাখবে। যদি দ্বিতীয়বার হায়েজের রক্ত এসে যায়, তাহলে রোজা ভেঙে ফেলবে।

* মহিলা যদি নিজের অভ্যাস অনুযায়ী বুঝতে পারে যে আগামীকাল তার হায়েজ জারি হবে। তাহলেও সে রোজা ভাঙবে না। যতক্ষণ না সে তার হায়েজের রক্ত দেখতে পায়। (আপকে মাসায়েল : খ. ৩, পৃ. ২৭৮)

* হায়েজা মহিলার জন্য উত্তম হলো নিজের স্বাভাবিক অবস্থার ওপর থাকা। আল্লাহ তাআলা তার ওপর যে ফয়সালা করেছেন, তার ওপর সন্তুষ্ট থাকা। এমন কিছু ব্যবহার না করা, যার দ্বারা রক্ত বন্ধ হয়ে যায়। বরং হায়েজ অবস্থায় রোজা ছেড়ে দেওয়া। অতঃপর কাজা করে নেওয়া। কেননা উম্মুল মুমিনিন ও আকাবির মহিলারা এমনটিই করেছেন। আর যদি ওষুধ দিয়ে রক্ত বন্ধ করে দেওয়া হয়, তাহলেও রোজা হয়ে যাবে। (আপকে মাসায়েল : খণ্ড ৩, পৃ. ২০৭)

* নেফাজওয়ালা মহিলা যদি ৪০ দিন হওয়ার আগেই পাক হয়ে যায়, তাহলে রোজা রাখবে এবং নামাজের জন্য গোসল করে নেবে।

* আর যদি ৪০ দিন অতিবাহিত হওয়ার পরও রক্ত জারি থাকে, তাহলে সে রোজা রাখবে এবং গোসল করে নেবে। কেননা তার রক্ত ইস্তেহাজা (রোগ) হিসেবে গণ্য করা হবে। (বেহেশতি জেওর : পৃষ্ঠা : ১৬০, শরহে বেকায়া : খ. ১, পৃ. ১২০)

* হায়েজওয়ালা মহিলা যদি সূর্য হেলার আগেই পাক হয়ে যায় এবং রোজার নিয়ত করে, তাহলে তার ফরজ আদায় হবে না। (শামি : খ. ৩, পৃষ্ঠা : ৩৮৫)

ডেইলি-বাংলাদেশ/এনকে
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!