এই মাকড়সা কামড়ালে পচন ধরতে পারে মানবদেহে!
আমাদের অতি চেনা ক্ষুদ্র এক প্রাণী মাকড়সা। মাকড়সা অমেরুদন্ডী শিকারী কীট বিশেষ। এটি একটি আট পা ওয়ালা অ্যারাকনিডা শ্রেণির সন্ধিপদ প্রাণি। এদের শরীর মাথা ও ধড় দুটি অংশে বিভক্ত, আটটি সন্ধিযুক্ত পা আছে, ডানা নেই। এদের মাথা ও বুক এক সঙ্গে জুড়ে সেফালোথোরাক্স বা মস্তক-বক্ষ গঠন করে।
মাকড়সার সবচেয়ে বড় ও বিশেষ গুণ হল, এরা জাল তৈরি করে এবং জালের মাধ্যমে অন্যান্য কীট-পতঙ্গ ইত্যাদি শিকার করে নিজেদের জীবনধারণ করে।
.png)
অনেক রকম মাকড়সা হয়, কেউ জাল বোনে, কেউ লাফিয়ে শিকার ধরে। সব মাকড়সারই একজোড়া বিষগ্রন্থি আছে। তবে সবাই প্রাণঘাতী না হলেও, এদের অনেকের কামড় খুব বিষাক্ত।
বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, ব্রাউন ব্র্যান্ড রিকিউজ স্পাইডার, দ্য ব্ল্যাক উইডো স্পাইডার এবং দ্য হোবো স্পাইডার এই তিন প্রজাতির মাকড়সা খুবই বিপজ্জনক। এগুলোর মধ্যে এক প্রজাতির মাকড়সার একটা ছোট্ট কামড়ে পচন ধরতে পারে মানবদেহে।
মেক্সিকোর ন্যাশনাল অটোনোমাস ইউনিভার্সিটির গবেষকেরা এমন এক প্রজাতির মাকড়সা লক্ষ্য করেছেন যা সবচেয়ে মারাত্মক। এই মাকড়সা কামড়ালে তার বিষ ৪০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত ক্ষত তৈরি করে মানুষের ত্বক নষ্ট করে দিতে পারে।
ক্ষত ভালো হতে কয়েক মাস সময় লাগে, এবং নিরাময় হলেও থেকে যায় এক গভীর ক্ষত চিহ্ন বা স্থায়ী দাগ। মাকড়সার এই বিষাক্ত প্রজাতিটির নাম হলো ‘ল্যাকোসেসেলস টেনকোচিটিটলান’।
এই গবেষণায় জীববিজ্ঞানী আলেজান্দ্রো ভালদেজ-মন্ড্রাগন এবং তার ছাত্র ক্লোদিয়া নাভারো, কারেন সোলিস, মেরিয়া কর্টেজ এই প্রজাতির মাকড়সা আবিষ্কারে সক্ষম হন।
জীববিজ্ঞানী আলেজান্দ্রো জানান, আমরাই বাড়িতে তাদের সুস্থ তাপমাত্রা, আদ্রতা ও খাবার সরবরাহ করে নিজেদের জীবনের ঝুঁকি বাড়াই। যদিও পোকামাকড় উপদ্রব কমানোর ক্ষেত্রে এই মাকড়সাগুলো কিছুটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।