মহাশূন্যে কৃত্রিম উপগ্রহে জ্বালানি ভরল চীন!
মহাশূন্যে একটি কৃত্রিম উপগ্রহে অন্য একটি মহাকাশযানের মাধ্যমে জ্বালানি সরবরাহের সফল পরীক্ষা চালানোর দাবি করেছে চীন। দেশটির দাবি সত্যি হলে মহাকাশে স্যাটেলাইট রক্ষণাবেক্ষণের ক্ষেত্রে এটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। তবে বেইজিংয়ের এ দাবির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে যুক্তরাষ্ট্র।
চীনের সরকারি সংস্থা ডিপ স্পেস এক্সপ্লোরেশন এবং চাইনিজ অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সেসের গবেষকদের বরাত দিয়ে গত সেপ্টেম্বরে এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে হংকংভিত্তিক সংবাদমাধ্যম সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট।
.png)
প্রতিবেদনে বলা হয়, চীনের দিকনির্ণয়কারী উপগ্রহ ‘বেইডু-২ জি-৭’-এ জ্বালানি সরবরাহের জন্য ‘শিজিয়ান-২৫’ নামের একটি মহাকাশযান ব্যবহার করা হয়েছে। চীনা গবেষকদের দাবি, এ অভিযানের মাধ্যমে উপগ্রহটির কার্যক্ষমতা আরও অন্তত আট বছর বাড়ানো সম্ভব হয়েছে।

চীনের ভাষ্য অনুযায়ী, গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে ‘বেইডু-২’-এ প্রায় ১৪২ কেজি প্রোপেল্যান্ট সরবরাহ করা হয়। এ কাজের জন্য তৈরি করা ‘শিজিয়ান-২৫’ মূলত মহাকাশে থাকা বিভিন্ন সম্পদের রক্ষণাবেক্ষণে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছে।
কক্ষপথে থাকা কৃত্রিম উপগ্রহগুলো সাধারণত ইঞ্জিন বন্ধ রেখেই পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করে। তবে বিভিন্ন কারণে সেগুলো নির্ধারিত কক্ষপথ থেকে বিচ্যুত হতে পারে। তখন উপগ্রহের ইঞ্জিন চালু করে কক্ষপথ ঠিক করতে জ্বালানি প্রয়োজন হয়।
সমস্যা হলো, উপগ্রহের জ্বালানি শেষ হয়ে গেলে সেটিকে সচল রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে বিপুলসংখ্যক অকেজো স্যাটেলাইট মহাকাশে থেকে যায়, যা ক্রমে মহাকাশবর্জ্যের পরিমাণ বাড়াচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে পুরোনো উপগ্রহে মহাকাশেই জ্বালানি সরবরাহের প্রযুক্তি সফল হলে স্যাটেলাইটের কার্যকাল বাড়ানোর পাশাপাশি মহাকাশবর্জ্য কমাতেও তা কাজে লাগতে পারে।
চীনা গবেষকদের দাবি, সামরিক বিমানে আকাশে এক বিমান থেকে অন্য বিমানে জ্বালানি সরবরাহের মতো কৌশল ব্যবহার করে তারা মহাকাশে দুটি যানকে কাছাকাছি এনে জ্বালানি স্থানান্তর করেছেন।
তাদের ভাষ্য, জ্বালানি স্থানান্তরের সময় ‘বেইডু-২’ ও ‘শিজিয়ান-২৫’-এর গতিবেগ নিয়ন্ত্রিত করা হয়। ওই সময় দুটি মহাকাশযান প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৭ হাজার ৩৩১ দশমিক ৪৩ মিটার বেগে পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করছিল বলে দাবি করেছে চীন। এ জটিল হিসাবের জন্য সুপারকম্পিউটার ব্যবহার করা হয় বলেও জানিয়েছে দেশটি।
তবে চীনের এ দাবির বিষয়ে সংশয় প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের বক্তব্য, গত বছরের জানুয়ারিতে শিজিয়ান-২৫ পৃথিবীর কক্ষপথে এমন অবস্থানে ছিল, যা চীনের বর্ণিত অভিযানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
এর জবাবে চীনা গবেষকরা জানান, ২০২১ সালেই দুটি কৃত্রিম উপগ্রহের মধ্যে সংযোগ স্থাপনের সক্ষমতা অর্জন করেছিলেন তারা। তবে সে সময় জ্বালানি স্থানান্তর করা হয়নি। একই সঙ্গে এ অভিযানের প্রমাণ হিসেবে ছবি প্রকাশ করতেও তারা রাজি হননি।

মহাকাশে কৃত্রিম উপগ্রহে জ্বালানি সরবরাহের প্রযুক্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি রাশিয়া, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও জাপানও কাজ করছে। তবে এখন পর্যন্ত এ প্রযুক্তিতে চূড়ান্ত সাফল্যের দাবি অন্য কোনো পক্ষ করেনি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে মহাকাশ গবেষণা ও প্রযুক্তি নিয়ে প্রতিযোগিতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। পুনর্ব্যবহারযোগ্য রকেট প্রযুক্তির ক্ষেত্রেও দুই দেশ এগিয়েছে। একই রকেট একাধিকবার ব্যবহার করে মহাকাশে উপগ্রহ পাঠানোর ফলে উৎক্ষেপণ ব্যয় কমানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে।