মুসলিম দেশগুলোর সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদ। বছরের সবসময়ই কেনাকাটা চালু থাকলেও এ সময়টাতে তা বেড়ে যায় বহুগুণ। নারীর প্রয়োজনীয় শাড়িটাও যেন কেনার সুবর্ণ সুযোগ আসে ঈদের ক্ষণে। সেই সুবাদের বাড়ে বেনারসির চাহিদা। তাইতো বেনারসির এই পাইকারি প্রাপ্তিস্থানে পাইকার আর বিক্রেতাদের উপস্থিতি এখন চোখে পড়ার মতোই।

.png)
সরেজমিন দেখা গেছে, রাত ৩টার দিকে হাট শুরু হয়। আর সকাল হওয়ার মুহূর্তেই শেষ হয় বেচাকেনা। বছরজুড়েই পাইকার-তাঁতি, পরিবহন শ্রমিক, কুলি, হকার আর নানা শ্রেণির মানুষের আনাগোনায় এখানে মুখর হয় মধ্যরাত। আসেন দেশের নানা প্রান্তের পাইকাররা। ব্যবসার উদ্দেশ্যে তারা কিনে নিচ্ছেন বেনারসি।
চার-পাঁচশ টাকা থেকে ৩০ হাজার দামের শাড়ি মিলছে এখানে। তাঁতে বোনা শাড়িগুলো যেন তাঁতিদের সন্তানের মতোই। বহুদিনের পরিশ্রমে জন্ম নেয় একেকটি শাড়ি। মায়ায় জড়ানো সেই শাড়িগুলোকে বিক্রি না করে নিজের কাছে রেখে দিলেই হয়তো বেশি শান্তি পেতেন কারিগররা। তবুও পেট ও পরিবারের প্রয়োজন মেটাতে ভালোবাসার শাড়িগুলোকে তারা তুলে দিচ্ছেন পাইকারের হাতে। তাঁতি, পাইকার, খুচরা বিক্রেতা হয়ে সেই শাড়ি ওঠে নারীর গায়ে। শাড়ি বিক্রি নয়, বলা চলে হাটটি যেন ভালোবাসা বিক্রির প্রথম পর্যায়ের আয়োজন। এভাবেই এখানে ভালোবাসা বিক্রি হচ্ছে, যা গত ২০০ বছরের ঐতিহ্য এটি। স্থানীয় নোয়াপাড়া, রূপগঞ্জের রূপসী, মৈকুলী, খাদুন, পবনকুল, কাজীপাড়া, মোগরাকুল, সোনারগাঁ এবং আড়াইহাজারের তাঁতিদের তৈরি জামদানি এভাবেই বিক্রি হচ্ছে যুগ যুগ ধরে।
জানা যায়, স্বাভাবিক সময়ে শাড়ির হাটকে কেন্দ্র করে চালু থাকে চা-পান কিংবা হালকা নাস্তার দোকানগুলো। এখন রমজান মাস চলায়, স্বল্প খরচে সেহেরির আয়োজনও আছে এখানে। এত ব্যস্ততার মধ্যেও পাইকারদের সেহরির আপ্যায়ন করছেন শাড়ি বিক্রেতারা।
বিক্রেতারা জানান, বর্তমানে অনলাইনে জামদানি কেনাবেচার ট্রেন্ড শুরু হওয়ায় প্রচুর অনলাইন ব্যবসায়ী এখান থেকে অপেক্ষাকৃত কম দামে জামদানি সংগ্রহ করেন। ঢাকা থেকে যোগাযোগ ব্যবস্থা সুবিধাজনক হওয়ায় ডেমরার এই জামদানি হাট হয়ে উঠেছে তাদের প্রধান টার্গেট।
মুন্সিগঞ্জ থেকে নিজের দোকানের জন্য এখানে শাড়ি কিনতে আসেন আরিফুল আলম। তিনি বলেন, আমি-আমরা সারাবছরই এখানে আসা-যাওয়া, কেনাকাটা করি। ঈদ ঘিরে পাইকারের আগমন এখন বেশি। কেনাবেচাও হচ্ছে বেশ। এখানকার তাঁত শিল্পীদের সুনামের কারণে বাজারটি এখন ঐতিহ্য হয়ে উঠেছে।

এই হাটের বিক্রেতা আব্বাস আলী বলেন, রমজানের শুরু থেকেই দেশের নানা প্রান্তের পাইকাররা আসতে শুরু করেন। তবে ঈদ বা যেকোনো পার্বণ ছাড়া ক্রেতার অতটা আনাগোনা থাকে না। তখন আমাদেরও বিক্রি কম হয়। তখন কোনোমতে শ্রমের টাকা ওঠাতেও হিমশিম খেতে হয়। এ বাজারের ভালো শাড়ির কথা প্রচার হলে হয়তো তাঁতিদের জীবনমান বছরজুড়েই ভালো কাটবে।
হাটের আরেক বিক্রেতা আলী হোসেন বলেন, চাহিদার সঙ্গে মিল রেখেই তাঁতপল্লীগুলোতে রাতদিন চলছে কাজ আর কাজ। অতিরিক্ত গরম আর রোজার কারণে হাঁপিয়ে উঠছেন তাঁতিরা। তবুও কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন তারা।