রাসেল ডোমিঙ্গো যখন দক্ষিণ আফ্রিকার প্রধান কোচ ছিলেন, তখন তার সহকারী ব্যাটিং কোচের দায়িত্ব পালন করেন নেইল ম্যাকেঞ্জি। যিনি বর্তমানে বাংলাদেশ দলেরও ব্যাটিং কোচ।
রাসেল ডোমিঙ্গোর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার খুঁজতে গেলে আপনি সেখানে কিছুই পাবেন না। কারণ, কোনো আন্তর্জাতিক ক্রিকেটই খেলা হয়নি তার। তবে রাসেল ডোমিঙ্গো যে একেবারে ক্রিকেটার ছিলেন না তা নয়। তিনি খেলেছেন দক্ষিণ আফ্রিকার ইস্টার্ন প্রোভিন্সের হয়ে।
.png)
তার জন্ম ১৯৭৪ সালের ৩০ আগস্ট পোর্ট এলিজাবেথে। ক্রিকেটের প্রতি টান একেবারে ছোটবেলা থেকেই ছিল তার। যে কারণে ইস্টার্ন প্রোভিন্সের জুনিয়র দলের হয়ে খেলা শুরু করেন।

তারপর খেলা ছেড়ে ২২ বছর বয়সে বেছে নিলেন কোচিং ক্যারিয়ার। যে সময়ে একজন খেলোয়াড়ের ক্যারিয়ার শুরু হয়, সে সময়ে ডোমিঙ্গোর শুরু হলো কোচিং ক্যারিয়ার।
২৫ বছর বয়সেই ইস্টার্ন প্রোভিন্সের ইয়থ কোচ হিসেবে নিযুক্ত হন। এরপর আবার তিনি কাজ করেন দক্ষিণ আফ্রিকা ন্যাশনাল একাডেমিতে হিল্টন অ্যাকারম্যানের অধীনে। সেখানেই কোচ হিসেবে তার সামনে জ্ঞানের জগত উন্মোচিত হয়। যে কারণে, ২০০৪ সালে ডোমিঙ্গোর হাতে তুলে দেয়া হয় দক্ষিণ আফ্রিকা অনুর্ধ্ব-১৯ দলের দায়িত্ব।
পরের বছরই ডোমিঙ্গো দায়িত্ব নেন দক্ষিণ আফ্রিকা ঘরোয়া ক্রিকেটের ফ্রাঞ্চাইজি দ্য ওয়ারিয়র্সের কোচের। তার অধীনেই ওয়ারিয়র্সরা ২০০৯-১০ মৌসুমে দক্ষিণ আফ্রিকার ওয়ানডে এবং টি-টোয়েন্টি প্রতিযোগিতার শিরোপা অর্জন করে।
চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টি-টোয়েন্টিতেও ২০১০ এবং ২০১১ সালে ওয়ারিয়র্সের কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তবে ফাইনালে চেন্নাই সুপার কিংসের কাছে পরাজিত হয় তার দল।
২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলের প্রধান কোচ হিসেবে নিয়োগ পান ডোমিঙ্গো। তার প্রথম অ্যাসাইনমেন্টই ছিল বাংলাদেশে। একই বছর বাংলাদেশ ‘এ’ দল যখন দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যায়, তখনও প্রোটিয়াদের কোচ ছিলেন তিনি।
২০১১ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার নতুন নিয়োগ পাওয়া কোচ গ্যারি কারস্টেনের অধীনে সহকারী কোচ হিসেবে নিয়োগ পান রাসেল ডোমিঙ্গো। ২০১২ সালের ডিসেম্বরে গ্যারি কারস্টেনকে সরিয়ে প্রধান কোচ হিসেবে (টি-টোয়েন্টি দলের) দায়িত্ব দেয়া হয় রাসেল ডোমিঙ্গোর কাঁধে।

২০১৩ সালে প্রোটিয়াদের কোচের পদ থেকে সরে দাঁড়ান গ্যারি কারস্টেন। দেশটির প্রধান কোচ হওয়ার পথে ডোমিঙ্গোর সামনে আর কোনো বাধা থাকলো না। দক্ষিণ আফ্রিকা ক্রিকেট বোর্ডও ডোমিঙ্গোর ওপর আস্থা রাখলো। তাকে নিয়োগ দিলো প্রধান কোচ হিসেবে।
রাসেল ডোমিঙ্গোর অধীনে ২০১৪ সালে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকা খেলেছিল সেমিফাইনালে। ২০১৫ অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ড বিশ্বকাপেও ডোমিঙ্গোর অধীনে সেমিফাইনালে উঠেছিল প্রোটিয়ারা।
সব মিলিয়ে প্রোটিয়াদের কোচ হিসেবে ডোমিঙ্গো দায়িত্ব পালন করেন ২০১৭ সাল পর্যন্ত। তখন তাকে সরিয়ে ওটিস গিবসনকে কোচ হিসেবে নিয়োগ দেয় প্রোটিয়ারা। সেই থেকে মোটামুটি ফ্রি’ই ছিলেন রাসেল।
ডেইলি বাংলাদেশ/সালি