রোনালদোর বর্তমান বয়স ৩৬ পেরিয়ে গেছে। যদিও তা খুব কমই বুঝতে দেন তিনি। কঠোর পরিশ্রমের পাশাপাশি ফিটনেস সচেতনতা, হার না মানা মানসিকতা সিআর সেভেনকে করে তুলেছে অদম্য। সময়ের হিসেবে এটাই হতে পারে তার শেষ ইউরো।
ফুটবল মাঠে প্রতিনিয়ত রেকর্ডের বন্যা বইয়ে দেয়া পর্তুগিজ তারকা এবারের প্রতিযোগিতার আগে দাঁড়িয়ে আছেন অনেক মাইলফলকের সামনে। একনজরে দেখে নিন সেসব মাইলফলকের বৃত্তান্ত:
.png)
২০১৬ সালে রোনালদোর নৈপুণ্যেই ইউরো জিতেছিল পর্তুগাল। অনেককে চমকে দিয়ে ট্রফি জিতেছিল তারা। এবার অবশ্য শিরোপার অন্যতম দাবীদার হিসেবেই টুর্নামেন্টে নামবে দলটি।
আগামী ১১ জুলাই ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামের ফাইনালে রোনালদো শিরোপা উঁচিয়ে ধরলে তিনি হবেন দুটি ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ী মাত্র দ্বিতীয় অধিনায়ক। এখন পর্যন্ত এই কীর্তি আছে শুধুমাত্র স্পেন ও রিয়াল মাদ্রিদের কিংবদন্তি অধিনায়ক ইকার কাসিয়াসের।
ইউরোর ইতিহাসে সর্বোচ্চ ম্যাচ খেলেছেন রোনালদো। বাছাইপর্বে ৩১ গোল নিয়ে এরই মধ্যে সর্বোচ্চ গোলদাতাও তিনি। এবারের আসরে আর একটি গোল করলেই মূল আসরে সর্বাধিক গোলের মালিক হবেন তিনি।
এখন পর্যন্ত ইউরোর চার আসর মিলিয়ে ২১ ম্যাচ ৯ টি খেলে গোল করেছেন রোনালদো। ২০০৪ সালে নিজের প্রথম ইউরোতে ২টি, ২০০৮ আসরে ১টি এবং ২০১২ ও ২০১৬ সালের আসরে ৩ টি করে গোল করেছেন তিনি।
মাঠে নামলেই প্রথম ফুটবলার হিসেবে পাঁচটি ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে খেলার রেকর্ড গড়বেন রোনালদো। এমনকি চারটি ভিন্ন ইউরোতে গোল করা একমাত্র ফুটবলার সিআর সেভেন।
একাধিক আসরে অন্তত ৩ গোল করার একমাত্র কীর্তি রোনালদোরই। গোল করার ধরনেও রেকর্ড গড়েছেন তিনি। ইউরোতে ৯টি গোলই পেনাল্টি বক্সের মধ্য থেকে করেছেন এই ফরোয়ার্ড, এর মধ্যে ৫টি এসেছে হেডের মাধ্যমে। দুটিই রেকর্ড।
ইউরোর গ্রুপ পর্যায়ে সর্বাধিক ৬ টি গোল করেছেন রোনালদো। প্রতিযোগিতার ইতিহাসে দুটি ফাইনাল খেলা ৪৪ খেলোয়াড়ের একজন পর্তুগিজ অধিনায়ক। এছাড়া তিনটি ফাইনাল খেলতে পারেননি কেউই। এবার সেই সুযোগও আছে তার সামনে।
এমনকি রোনালদো ছাড়া তিনটি ইউরোর সেমিফাইনাল খেলেছেন কেবল আর একজন ফুটবলার। তিনি জার্মানির সাবেক মিডফিল্ডার বাস্তিয়ান শোয়েনস্টাইগার।
চার আসর মিলিয়ে মোট ১১ ম্যাচে জয়ের স্বাদ পেয়েছেন রোনালদো। ইউরোতে সবচেয়ে বেশি জয়ের রেকর্ডে তার সঙ্গী যৌথভাবে স্পেনের সেস্ক ফ্যাব্রেগাস ও আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা। ফলে এবার মাত্র একটি জয় পেলেই রেকর্ড শুধু রোনালদোর হয়ে যাবে।
২০০৪ থেকে ২০১৬ পর্যন্ত মূল আসরে রোনালদো ২১টি ম্যাচ খেলেছেন, যা এরই মধ্যে রেকর্ড। এবারের আসরে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার সেই রেকর্ড যে আরো সংহত হবে তা নিয়ে সন্দেহ নেই।
গোলের জন্য এখন পর্যন্ত রোনালদো ১২২টি শট নিয়েছেন। ১৯৮০ সাল থেকে গোলে শট নেয়ার রেকর্ড সংরক্ষণ শুরুর পর থেকে এটিই সর্বোচ্চ। দ্বিতীয় স্থানে থাকা সাবেক ফ্রান্স তারকা থিয়েরি অঁরি নিয়েছেন ৫২ শট।
সঙ্গত কারণেই লক্ষ্যে শট নেয়ার ক্ষেত্রেও সবার চেয়ে এগিয়ে রোনালদো। এখন পর্যন্ত ৩২ বার লক্ষ্যে শট নিয়েছেন তিনি। দুইয়ে থাকা অঁরি ও ডেনিস বার্গকাম্প যৌথভাবে ২০টি করে শট নিয়েছেন। এছাড়া ২০১৬ সালে এক আসরেই ১৭ টি শট নিয়ে তৃতীয় স্থানে আছেন ওয়েলস তারকা গ্যারেথ বেল।
২১ ম্যাচে এখন পর্যন্ত ৮৩ বার ড্রিবলের চেষ্টা করেছেন পর্তুগিজ অধিনায়ক। এখানে তার অবস্থান দ্বিতীয়। প্রথম স্থানে আছেন তার সাবেক সতীর্থ, কিংবদন্তি লুই ফিগো। তবে সফলভাবে ড্রিবল সম্পন্ন করার তালিকায় রোনালদোর অবস্থান একটু পেছনে। ৩১টি সফল ড্রিবল করে তিনি আছেন সাতে।
এছাড়া রোনালদোকে আরেকটি বড় রেকর্ড বেশ কিছুদিন ধরেই হাতছানি দিচ্ছে। বলা যায় সেটি হবে ইউরোর সীমানা ছাড়ানো কীর্তি। আন্তর্জাতিক ফুটবলে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড গড়তে পাঁচবারের বর্ষসেরা ফুটবলারের দরকার আর মাত্র ছয়টি গোল। ১০৪ গোল করে বর্তমানে তিনি দুইয়ে আছেন। প্রথমে আছেন ইরানের আলি দাই। তার গোলসংখ্যা ১০৯ টি।