ফাইনালের ভেন্যু দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের পরিসংখ্যান অনুযায়ী এবারের টুর্নামেন্টের ১২ ম্যাচের মধ্যে ১১টিতে জিতেছে পরে ব্যাট করা দল।
সর্বশেষ এই ভেন্যুতে পরে ব্যাট করে জয় পেয়েছে অস্ট্রেলিয়া। গত বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় সেমিফাইনালে পাকিস্তানের বিপক্ষে ১৭৭ রানের টার্গেট পেয়ে ৫ উইকেটে ম্যাচ জিতে ফাইনাল নিশ্চিত করে অস্ট্রেলিয়া।
.png)
ল্যাঙ্গার বলেন, বড় ম্যাচ বিবেচনা করে সেমিফাইনালে ফিঞ্চি আগে ব্যাট করার কথা ভেবেছিল। কিন্তু সবার সঙ্গে আলোচনার পর সে সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে।
তিনি আরো বলেন, পরিসংখ্যান অস্বীকার করা যাবে না। আপনি জানেন সেমির ম্যাচটি কতটা প্রতিদ্বন্দ্বীতাপূর্ণ হয়েছে। যেকোন ফল হতে পারত। আমরা প্রথমে ব্যাটিং কিংবা বোলিং যেটাই করি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে যে কোনো পরিস্থিতিতে জয়ের মানসিকতা থাকা।
সুপার টুয়েলভে পাঁচ ম্যাচে জয় পাওয়া পাকিস্তানের বিপক্ষে ১৭৭ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে এক পর্যায়ে ১৩তম ওভারের মধ্যে ৫ উইকেট হারিয়ে ফেলেছিলো অস্ট্রেলিয়া। সেখান থেকে লড়াই করে দলকে টেনে তুলেছেন মার্কাস স্টয়নিস ও ম্যাথু ওয়েড। ৮১ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়ে জয় এনে দিয়ে দলের ফাইনাল নিশ্চিত করেছেন স্টয়নিস ও ওয়েড। স্টয়নিস ৪০ ও ওয়েড ৪১ রান করেন।
ইনিংসের ১৯তম ওভারের শেষ তিন বলে পাকিস্তান পেসার শাহিন শাহ আফ্রিদিকে হ্যাট্টিক ছক্কা মারেন অস্ট্রেলিয়ার বাঁ-হাতি ব্যাটার ওয়েড।
স্টয়নিসও স্বীকার করেছেন, টস একটি বড় ভূমিকা পালন করেছে। তবে তিনি ফাইনালে পিচ থেকে ভিন্ন কিছু আশা করছেন।
সেমিতে শাদাব খানের বলে গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের আউটের পরই স্টয়নিসের ছক্কা হাকানোকে ‘ভয়ডরহীন’ ক্রিকেট ছিল বলে মনে করেন ল্যাঙ্গার।
ল্যাঙ্গার বলেন, উইকেট পতনের পর স্টয়নিসের ছক্কা হাকানোটা ভয়ডরহীন ক্রিকেটই হয়। তবে আপনি যদি টুর্নামেন্ট জিততে চান তবে বাংলাদেশের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বে যেভাবে খেলেছেন, সেভাবেই খেলতে হবে (বাংলাদেশের বিপক্ষে ৬ দশমিক ২ ওভারেই ৭৪ রান স্পর্শ করে ফেলে অস্ট্রেলিয়া)। প্রথমে বা পরে ব্যাট করা হোক, ভয়ডরহীন বা আক্রমনাত্মক ব্যাটিং হবে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
আগামীকালের ফাইনালের আগে ২০১৫ সালে ওয়ানডে বিশ্বকাপ ফাইনালের স্মৃতি সামনে চলে আসছে। যে ম্যাচে ট্রান্স-তাসমানিক লড়াইয়ে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে পঞ্চমবারের মত ওয়ানডে বিশ্বকাপ জয় করেছিল অস্ট্রেলিয়া।
ল্যাঙ্গার বলেন, আমরা ব্ল্যাক ক্যাপসদের খেলা দেখে বড় হয়েছি। গত কয়েক বছর ধরে নিউজিল্যান্ড দুর্দান্ত ক্রিকেট খেলছে। তারা সত্যিকার অর্থে ভালো দল। তারা নিজেদের কাজটা সঠিকভাবে সম্পন্ন করছে। নিউজিল্যান্ডকে হারাতে আমাদের সেরা ক্রিকেট খেলতে হবে, যেমনটা টুর্নামেন্ট জুড়ে আমরা খেলেছি। দুই দলের মধ্যে দারুণ শ্রদ্ধা ও বন্ধুত্ব রয়েছে। আমরা সেভাবেই এগিয়ে গিয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করতে চাই।
অধিনায়ক অ্যারন ফিঞ্চ এবং ওয়ার্নার জুটিকে ‘বিশ্ব সেরা ওপেনিং জুটি’ হিসেবে অভিহিত করেন ল্যাঙ্গার। দলের ভারসাম্যেরও প্রশংসা করেন তিনি।
ল্যাঙ্গার আরো বলেন, মিচেল মার্শ ওয়েস্ট ইন্ডিজ ম্যাচের সুযোগ লুফে নিয়েছে। এভাবে খেলতে আমি তাকে আগে কখনো দেখিনি। সুতরাং আমাদের জন্য ধাঁধার চূড়ান্ত অংশ হবেন তিনি। ম্যাক্সি ফিট আছেন। স্মিথ হলেন, মি. ফিক্সিট। ফিনিশারদের কথা বলবেন এবং মার্কাস স্টয়নিস এবং ওয়েডকে সেই সুযোগটি লুফে নিতে দেখে খুব আনন্দিত।
২০১৮ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় ‘শিরিষ কাগজ’ কান্ডের পর দায়িত্ব নেন ল্যাঙ্গার। অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটের সংস্কৃতি পুনর্গঠনের জন্যও ব্যাপকভাবে প্রশংসিত তিনি।