ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ খেলা ]

প্রাণ হাতে করে হেঁটে পালানোর গল্প শোনালেন আফগান নারী ফুটবলাররা

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৯:০৬, ১৫ ডিসেম্বর ২০২১
প্রাণ হাতে করে হেঁটে পালানোর গল্প শোনালেন আফগান নারী ফুটবলাররা
আফগানিস্তান নারী দলের দুই ফুটবলার

কীভাবে যে সেই ৪০ দিন কেটেছিল তা মনে করলে এখনো ভয়ে আঁতকে ওঠেন তারা। চোখ বন্ধ করলে এখনো দেখতে পান, রাস্তায় অত্যাধুনিক অস্ত্র হাতে দাঁড়িয়ে তালিবান যোদ্ধারা। সম্প্রতি প্রাণ হাতে করে হেঁটে পাকিস্তানে পালিয়ে আসার গল্প শুনিয়েছেন আফগানিস্তানের মেয়ে ফুটবলাররা।

আফগানিস্তান নারী ফুটবল দলের খেলোয়াড়দের বর্তমান ঠিকানা ব্রিটেনের এক হোটেল। তালিবান দখল নেওয়ার পরে কী ভাবে কাবুল ছেড়ে পালিয়েছিলেন তারা, সেই গল্প শুনিয়েছেন সেই দলের সদস্য সাবেরিয়া।

চেলসি ফুটবল দলের ভক্ত সাবেরিয়া জানান, তালিবান যখন কাবুলের দখল নেয় তখনই তাঁরা বুঝে গিয়েছিলেন পালাতে হবে। কিন্তু কী ভাবে পালাবেন তা জানতেন না। 

Advertisement

সাবেরিয়া বলেন, ‘প্রথমে গোটা দল একটি হোস্টেলে জড়ো হয়েছিলাম। সেখানে এক ঘরে ৩০ দিন বন্দি ছিলাম। খাবার, জল সব কিছুর অভাব ছিল। বাড়ির লোকেরা কেউ ছিল না। কিন্তু একে অপরকে সাহায্য করতাম। সেখান থেকেই চেষ্টা করতাম কী ভাবে দেশ ছাড়তে পারব।’

৩০ দিন পরে এক বার বাসে চেপে বিমানবন্দরে যাওয়ার চেষ্টা করেন মেয়ে ফুটবলাররা। কিন্তু রেহাই পাননি। তালিবান যোদ্ধারা তাদেরে চিনে ফেলায় বাস থেকে নেমে যেতে বাধ্য হন। ফের ঠিকানা হয় হোস্টেল। আরো ১০ দিন সেভাবেই কেটে যায়।

তাদের রক্ষাকর্তা হয়ে আসেন খালিদা পোপাল। তিনি আফগানিস্তানের সাবেক ফুটবলার। ২০১১ সালে দেশ ছেড়ে ব্রিটেনে চলে যান তিনি। তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন সাবেরিয়ারা। তিনি প্রথমে পাকিস্তান সরকারের সঙ্গে কথা বলেন। পাকিস্তান সরকার রাজি হলে একটা পথ খুঁজে পান তারা।

তবে সেখানেও ছিল সমস্যা। পাকিস্তানে যাবেন কীভাবে? সাবেরিয়ারা ঠিক করেন হেঁটেই যাবেন। কোনোরকমে পাক সীমান্তে পৌঁছে বাঁধে বিপত্তি। সীমান্ত পাহারা দিচ্ছে তালিবানরা। সেখানে নিজেদের পরিচয় লুকোতে পারেননি তারা। মেয়ে ফুটবলার জানতে পেরে রেগে যায় তালিবানরা।

এ বিষয়ে সাবেরিয়া বলেন, ‘ওরা বলে তোমরা মেয়ে হয়ে মুখ ঢাকোনি কেন? তোমরা এখানে থাকলে তোমাদের মেরে ফেলা হবে। এত গরম ছিল যে আমরা মুখ ঢাকতে পারিনি। সবার সামনেই আমাদের চাবুক দিয়ে মারা হয়। পাকিস্তান আশ্রয় না দিলে হয়তো ওরা আমাদের মেরেই ফেলত।’

পাকিস্তানে কিছু দিন থাকার পরে সেখান থেকে ব্রিটেন যান সাবেরিয়ারা। সেখানে একটি হোটেলে তাদের রাখেন খালিদা। সেখানেই সমস্যা মেটেনি। হোটেলের বাইরে তাদের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতেন স্থানীয়রা। বর্ণবৈষম্যমূলক মন্তব্য করতেন। খালিদাকেও অনেক অপমান করা হয়েছে। সব কিছু মুখ বুজে সহ্য করেছেন। কোনোরকমে প্রাণ বাঁচাতে চেয়েছিলেন তারা।

নারী ফুটবলারদের পরিবারের লোকেরা এখনো আফগানিস্তানে রয়েছেন। কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেই নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখছেন সাবেরিয়ারা। লিডস ইউনাইটেড ক্লাবের চেয়ারম্যান আন্দ্রিয়া রাদ্রিজ্জানি ও পাকিস্তানের হয়ে খেলা ফুটবলার কাশিফ সিদ্দিকি তাদের সাহায্য করছেন।

জানা গেছে, খেলাধুলার পাশাপাশি ফের পড়াশোনাও শুরু করবেন তারা। কিন্তু নতুন ভবিষ্যতের সামনে দাঁড়িয়েও সাবেরিয়াদের চোখের সামনে বার বার ভেসে ওঠে সেই ৪০ দিনের বিভীষিকা।

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!