জাতীয় দল, টিম ম্যানেজমেন্ট, নির্বাচক এবং বোর্ড কর্মকর্তা- সাম্প্রতিক সময়ে সবার ভূমিকাই হচ্ছে প্রশ্নবিদ্ধ। সব মিলিয়ে দেশের ক্রিকেটে একটা অস্থিরতা বিরাজ করছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে কী ভাবছেন মাশরাফী? তার কী কোন পরামর্শ আছে এ নিয়ে?
রোববার আইজিপি কাবাডির ফাইনাল শেষে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে এসে এমন কিছু প্রশ্নের মুখোমুখি হয়েছিলেন মাশরাফী। নড়াইল এক্সপ্রেসের কাছে প্রশ্ন ছিল, দেশের ক্রিকেটের সংকট কাটাতে আপনার কোন পরামর্শ আছে কী?
.png)
মাশরাফী উত্তর দিতে গিয়ে প্রথমেই বলেছেন, ‘পরামর্শ দেয়ার আমি কেউ না। অবশ্যই উনারা (বোর্ড কর্তারা) বুঝবেন যা করলে ভালো হবে। বাংলাদেশ দল যে সর্বশেষ টি-২০ বিশ্বকাপে ভালো করেনি, সেখানে আরো ভালো ইনপুট দেয়া যেত। আরো ভালো করা যেত।’
২০২২ সালে বাংলাদেশের অনেক খেলা। টেস্ট, ওয়ানডে, টি-২০ আর বিপিএল মিলে প্রায় সারা বছরের এক তৃতীয়াংশ সময় মাঠেই কাটাবে টাইগাররা। জাতীয় দল এত খেলা, এত চাপ সামলে কী করলে ভাল খেলবে?
এমন প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে মাশরাফী সিনিয়র প্লেয়ারদের ফিট থাকা এবং দলের সঙ্গে থাকার ওপর দারুণ জোর দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘নতুন বছরে অবশ্যই অনেক বড় বড় টুর্নামেন্ট আসছে। সে সাথে দ্বি-পাক্ষিক সিরিজগুলাও আসছে। আমি অবশ্যই আশা করি, বাংলাদেশ দলের যারা সিনিয়র প্লেয়ার আছে তাদের ফিট থাকা খুব দরকার।’
তিনি আরো বলেন, ‘গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে সিনিয়রদের টিমের সাথে থাকা। সে সাথে যারা মাঝামাঝি পর্যায়ে, ৬ থেকে ৮ বছর ধরে খেলেছে তাদের কাছ থেকেও ইনপুট খুব প্রয়োজন। তার সাথে তরুণ যারা আসছে তাদেরও অবদান রাখতে হবে।’
এর সাথে খেলোয়াড় নির্বাচন প্রক্রিয়া এবং জাতীয় দলে নতুনদের সুযোগ দেয়া নিয়েও কথা বলেছেন মাশরাফী। তার উপলব্ধি, কাউকে হঠাৎ জাতীয় দলে নিয়ে এক দুই ম্যাচ পর ছুঁড়ে ফেলে না দিয়ে দীর্ঘ সময়ের জন্য নেয়া উচিৎ। এছাড়া কাউকে সুযোগ দেয়ার আগে বুঝে এবং তার মেধা ভালমত যাচাই করে দলে নেয়া উচিৎ বলেও মনে করেন তিনি।
মাশরাফী বলেন, ‘আমি আগেও বলেছি, যাকে নেয়া হবে তাকে লং টাইম সুযোগ দেয়া হোক। নতুন একটা প্লেয়ার নেয়ার পর সে দুই বা তিন টেস্টে রান না করলে তাকে ছেঁটে ফেলে দেয়া ঠিক না। যেমন জয় এখন রান করল, নেক্সট পাঁচ ম্যাচে রান নাও করতে পারে। বাট যখন আপনি কোনও প্লেয়ার নেবেন তখন শিওর করতে হবে যে, সে আমার ভবিষ্যৎ। তাকে লম্বা সময় দেখব। নেয়ার আগে চিন্তা করা বেশি জরুরি।’