ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ খেলা ]

ফের অ্যাডহকের পথে ব্যাডমিন্টন!

এস আই রাসেল
প্রকাশিত: ১৮:২৩, ২৭ জানুয়ারি ২০২২
ফের অ্যাডহকের পথে ব্যাডমিন্টন!
বাংলাদেশ ব্যাডমিন্টন ফেডারেশনের নির্বাচন যথাসময়ে না হলে অ্যাডহকের পথে হাঁটতে পারে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ

মহামারি করোনার মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাডমিন্টন ফেডারেশনের নির্বাচন খুব উত্তাপ ছড়াচ্ছিল। কিন্তু করোনার কারণে পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে বহুল আলোচিত এ নির্বাচন। করোনা পরিস্থিতি যদি আরো খারাপের দিকে যায় তাহলে ফের অ্যাডহকের পথেই হাঁটবে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ।

সর্বশেষ ২০১৬ সালে বাংলাদেশ ব্যাডমিন্টন ফেডারেশনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। যেখানে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন এফ এম শামসুল আরেফিন। দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই তার মৃত্যু হলে সেই চেয়ারে বসেন সহসভাপতি আমির হোসেন বাহার।

নির্বাচিত কমিটির মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে যাওয়ায় ২০২০ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর মোহাম্মদ কবিরুল ইসলাম শিকদারকে সাধারণ সম্পাদক এবং আমির হোসেন বাহারকে সিনিয়র সহসভাপতি হিসেবে মনোনয়ন দিয়ে নতুন অ্যাডহক কমিটি গঠন করে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ।

Advertisement

ফের ব্যাডমিন্টনে বেজেছে নির্বাচনের দামামা। আসন্ন ৩১ জানুয়ারি নির্বাচনের তারিখ দিয়ে তফসিল ঘোষণা করে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ। কিন্তু দেশের বর্তমান করোনা পরিস্থিতি ও বাংলাদেশ ব্যাডমিন্টন ফেডারেশন এর কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচন- ২০২১ এ অংশগ্রহণকারী বেশ কয়েকজন প্রার্থী/কাউন্সিলরদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। আগামী ২৩ ফেব্রুয়ারি বুধবার ফের নির্বাচনের তারিখ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ।

বৃহস্পতিবার জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের পরিচালক ও বাংলাদেশ ব্যাডমিন্টন ফেডারেশন এর কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচন- ২০২১ এর নির্বাচন কমিশনার শেখ হামিম হাসান স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে লেখা আছে, ‘সারাদেশে বর্তমানে মহামারি করোনা সংক্রমণ দ্রুত বিস্তার লাভ করায় এবং তদপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ব্যাডমিন্টন ফেডারেশন এর কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচন- ২০২১ এ অংশগ্রহণকারী বেশ কয়েকজন সম্মানিত প্রার্থী/কাউন্সিলরদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আগামী ৩১ জানুয়ারি, ২০২২ তারিখে অনুষ্ঠিতব্য ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠান বর্ণিত তারিখের পরিবর্তে আগামী ২৩-০২-২০২২ তারিখ, বুধবার পূর্ব নির্ধারিত সময় ও স্থানে অনুষ্ঠিত হবে’।

আরো পড়ুন: ব্যাডমিন্টনের নির্বাচন স্থগিত

অ্যাডহক কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ কবিরুল শিকদার এবারে নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। সেহেতু নিয়ম অনুযায়ী তিনি অ্যাডহক কমিটির সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন।

তাহলে এতদিন সাধারণ সম্পাদক ছাড়া কিভাবে চলবে ফেডারেশন? ডেইলি বাংলাদেশকে এর উত্তর দিয়েছেন জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের আইন কর্মকর্তা এস এম কবিরুল হাসান। তিনি বলেন, এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে সাধারণত নিয়ম অনুযায়ী ফেডারেশনের সভাপতি নিজ দায়িত্বে অন্যান্য কর্মকর্তাদের নিয়ে নির্বাচন পর্যন্ত ফেডারেশন পরিচালনা করবেন।

এদিকে দেখা দিয়েছে আরেক শঙ্কা। নির্বাচন কি আদৌ হবে? নাকি ফের অ্যাডহকের পথে হাঁটবে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ? এ শঙ্কাও একেবারে উড়িয়ে দেয়া যাচ্ছে না। কারণ দিনে দিনে করোনার পরিস্থিতি খারাপের দিকেই যাচ্ছে।

এর-ও উত্তর দিয়েছেন জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের এ আইন কর্মকর্তা। কবিরুল হাসান বলেন, আসলে সব কিছু তো পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে। করোনার ওপর তো আর আমাদের হাত নেই। যদি নির্বাচন একেবারে না করার মতো পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, তাহলে ফেডারেশন চালানোর স্বার্থে অ্যাডহক কমিটি করে দেওয়া যেতে পারে। তবে আশা করি ২৩ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন হবে।

এদিকে, অ্যাডহক কমিটি নিয়ে শঙ্কিত জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত সাবেক জাতীয় ব্যাডমিন্টন চ্যাম্পিয়ন ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক জোবায়েদুর রহমান রানা। তিনি বলেন, অ্যাডহক একটু দুষ্ট পন্থা। আমাদের এই সিস্টেম থেকে বের হয়ে আসতে হবে। ওয়ার্ল্ড ব্যাডমিন্টন ও ব্যাডমিন্টন এশিয়ার গঠনতন্ত্রে অ্যাডহক বলে কিছুই নেই। তারা জানলে বা অভিযোগ করলে বাংলাদেশের ব্যাডমিন্টনের সব কিছুই বন্ধ হয়ে যাবে।  আমরা ব্যাডমিন্টনে আর অ্যাডহক কমিটি দেখতে চাই না। যারাই আসুক নির্বাচিত হয়ে আসুক।

আরো পড়ুন: ব্যাডমিন্টন ফেডারেশনের নির্বাচন পিছিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি

করোনা পরিস্থিতি যদি আরো খারাপ হয় তাহলে কি করা উচিত- প্রশ্নের উত্তরে সাবেক এই সাধারণ সম্পাদক বলেন, এটা একটা বড় ইস্যু। পরিস্থিতি কারো হাতেই না। সেক্ষেত্রে সভাপতিকে প্রধান করে ৪-৫ জন দিয়ে একটা অন্তবর্তীকালীন পকেট কমিটি করে দিতে পারে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ। যে কমিটি শুধু অফিসের টুকটাক কাজ করে ফেডারেশনটা সচল রাখবে।

তবে অ্যাডহক কমিটির বিষয়ে উচ্ছ্বসিত অ্যাডহক কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ কবিরুল ইসলাম শিকদার। তিনি বলেন, করোনা পরিস্থিতির ওপর তো আর কারো হাত নেই। এখন যদি নির্বাচন না হয় আর জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ চায় তাহলে অ্যাডহক কমিটি করতেই পারে। সেটা তাদের এখতিয়ার। এতে কোনো সমস্যা দেখি না।

কবিরুল ইসলাম শিকদারের মতো একই সুরে কথা বললেন ফোরাম সমর্থিত সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী ফেনী জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক ও অ্যাডহক কমিটির সিনিয়র সহসভাপতি আমির হোসেন বাহার। তিনি বলেন, আমরা সরকারের বাইরে না। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ যেভাবে চাইবে আমরা সেভাবেই এগোবে। তারা যেটা ভালো মনে করবেন, সেটাই করবেন।  আমি জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সব সিদ্ধান্তের সঙ্গে আছি।
 
অ্যাডহক কমিটির বিষয়ে খুলনার কাউন্সিলর কাজী নুর মোহাম্মদ বলেন, আমরা যে কোনোভাবেই নির্বাচন চাই। কারণ একবার ব্যাডমিন্টনের বাইরের মানুষ দিয়ে অ্যাডহক কমিটি করে দিল। যারা দুই বছর থাকলো। ঠিক মতো কোনো খেলাই হলো না। নাম বাঁচাতে ৩-৪টা টুর্নামেন্ট করলো। এভাবে একটা ফেডারেশন চলতে পারে না। এভাবে চলতে থাকলে বাংলাদেশের ব্যাডমিন্টন শেষ হয়ে যাবে। তাই ব্যাডমিন্টনের নির্বাচনটা খুবই জরুরী।

তবে অ্যাডহক কমিটির পক্ষেই মত দিলেন বরগুনার কাউন্সিলর ও বর্তমান নির্বাচনের ফোরাম নির্ধারিত সহসভাপতি প্রার্থী আলমগীর হোসেন। তিনি বলেন, নির্বাচনটা হওয়া দরকার। তারপরও যদি পরিস্থিতির কারণে নির্বাচন না হয়, ফেডারেশন তো চালিয়ে নিতে হবে। সেহেতু অ্যাডহক কমিটি করলে খারাপ হবে না। তবে ব্যাডমিন্টনের কিছু মানুষ নিয়ে যদি কমিটিটা করে তাহলেই ফেডারেশনটা ভালো চলবে। পরে পরিস্থতি ভালো হলে নির্বাচন হলো। অ্যাডহক হলে সমস্যা দেখি না।

পরিস্থিতি ভালো না হলে ফেডারেশন চালাতে অ্যাডহক কমিটির পথেই হাটবে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ। ৩১ জানুয়ারি জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে ১০২ কাউন্সিলরের ভোটে ২৪ সদস্যের নির্বাহী কমিটি নির্বাচিত হওয়ার কথা ছিলো। তবে করোনা মহামারির কথা চিন্তা করে তা পিছিয়ে ২৩ ফেব্রুয়ারি করেছে সংস্থাটি।

সাধারণ সম্পাদক পদে তিন জন প্রার্থী, চার সহ-সভাপতি পদের বিপরীতে প্রার্থী সাত জন, দুই যুগ্ম সম্পাদকের বিপরীতে তিন জন, এক কোষাধ্যক্ষ পদের বিপরীতে দুই জন ও ১৬ সদস্যের বিপরীতে ২৬ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!