করোনা ভাইরাসের কারণে গত দুই মৌসুমের বেশীরভাগ ম্যাচই দর্শকশুন্য স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়েছে। যে কারনে গত ২০ বছরে যে হারে ঘরোয়া লিগগুলো থেকে বিভিন্ন ক্লাব আর্থিকভাবে লাভবান হয়ে আসছিল তার সবকিছুই এই দুই বছরে শেষ হয়ে গেছে।
গেটমানি থেকে কিছুই আয় হয়নি, পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠানগুলো মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে, একইসাথে টেলিভিশন স্বত্বও অনেকটাই কমে গেছে। মহামারি শুরু হবার পর ২০১৯-২০ মৌসুমে ইউরোপীয়ান ক্লাবগুলো চার বিলিয়ন এবং ২০২০-২১ মৌসুমে তিন বিলিয়ন ইউরো ক্ষতি হয়েছে।
.png)
মহামারি বাড়তে থাকায় প্রায়ই ইউরোপের বিভিন্ন দেশ লকডাউন দিতে বাধ্য হয়েছে। করোনায় গত দুই বছরে ইউরোপে প্রায় ২ মিলিয়ন মানুষের মৃত্যু হয়েছে। বিশ্বব্যাপী এই সংখ্যাটা প্রায় ৫.৬৯ মিলিয়নের কাছাকাছি। যে কারণে ক্লাবের প্রাণ ভক্ত-সমর্থকরাই তাদের প্রিয় ক্লাবকে সমর্থন যোগাতে মাঠে আসতে পারেনি।
টিকিট বিক্রি বাবদ ৪.৪ বিলিয়ন ইউরো ক্ষতি হয়েছে, পৃষ্ঠপোষকতা ও টেলিভিশন স্বত্ব বাবদ যথাক্রমে এর পরিমান ১.৭ বিলিয়ণ ও ০.৯ বিলিয়ন ইউরো।
২০২১ সালের মে মাসে উয়েফা এক রিপোর্টের মাধ্যমে আর্থিক ক্ষতির পূর্বাভাস দিয়েছিল তার মাধ্যমে দেখা গেছে ইউরোপের ৭১১টি শীর্ষ ক্লাবের সব মিলিয়ে প্রায় ৭.২ বিলিয়ন ইউরো আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।
সম্প্রতি উয়েফা ঐ রিপোর্টের পরিসমাপ্তি টানতে গিয়ে দেখেছে ঐ একই ৭১১টি ক্লাবের মূলত দর্শকের অনুপস্থিতির কারনে ক্ষতিটা হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে স্টেডিয়ামের গেট বন্ধ থাকাতে ২০১৯ মৌসুমের তুলনায় ২০২১ সালে রাজস্ব আয় প্রায় ৮৮ শতাংশ কমে গেছে।
উয়েফা শুধুমাত্র আর্থিক ক্ষতি নয়, করোনার কারনে ট্রান্সফার মার্কেটে এর প্রভাব নিয়েও জরিপ করেছে। সেখানে দেখা গেছে ২০২০ গ্রীষ্ম, ২০২১ জানুয়ারি ও ২০২১ গ্রীষ্মকালীন ট্রান্সফার উইন্ডোতে স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ৪০ শতাংশ অর্থ কম ব্যয় করেছে বিভিন্ন ক্লাব। ২০২১ সালের গ্রীষ্মে ইউরোপীয়ান ক্লাবগুলো ৩.৮ বিলিয়ণ ইউরো ব্যয় করে। ২০১৯ সালে গ্রীষ্মে এর পরিমান ছিল ৬.৫ বিলিন ইউরো।
যদিও সম্প্রতি স্টেডিয়ামগুলোতে দর্শক ফিরতে শুরু করায় আর্থিক ক্ষতি পুষিয়ে নেবার চেস্টা করছে অনেক ক্লাব। একইসাথে গত মাসে শেষ হয়ে যাওয়া জানুয়ারি ট্রান্সফার উইন্ডোতে প্রায় ৯৫০ মিলিয়ন ইউরো ব্যয় হয়েছে যা আগের দুই বছরের তুলনায় বেশী। সব মিলিয়ে ২০১৭ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে জানুয়ারি ট্রান্সফার উইন্ডোতে যে পরিমাণ অর্থ ব্যয় করা হয়েছিল তার তুলনায় এবার তা মাত্র ১০ শতাংশ কম।