আজকের ম্যাচটা অবশ্য হওয়ার কথা ছিল পর্তুগাল ও ইতালির মধ্যে। গত বছর যখন প্লে অফের ড্র অনুষ্ঠিত হয়, তখনই অনেকে ভেবে নিয়েছিলেন, ২৯ মার্চে নির্ধারণ হবে পর্তুগাল ও ইতালির বিশ্বকাপ ভাগ্য।
কিন্তু মানুষ ভাবে এক, হয় আরেক। প্লে অফের সেমিফাইনালে উত্তর মেসিডোনিয়ার কাছে হেরে যায় ইতালি। ঘরের মাঠে আজ তাই বিশ্বকাপের চারবারের চ্যাম্পিয়ন নয়, কোনোবার বিশ্বকাপ না খেলা এক দলকে নিয়েই ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোদের ভাবতে হচ্ছে।
.png)
এমন ম্যাচে স্বাভাবিকভাবেই পর্তুগাল এগিয়ে। তবে মনের গহিনে একটা ভয়ও কাজ করার কথা। যে দল ইতালিকে হারাতে পারে, তাদের আজও জ্বলে উঠতে বাধা কী? আজ তো পর্তুগালকেও চমকে দিতে পারে উত্তর মেসিডোনিয়া।
কিন্তু রোনালদো এমন কোনো চিন্তা মাথাতেই আনছেন না। ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, পর্তুগালবিহীন বিশ্বকাপের চিন্তা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলতে।
এবারের বাছাইপর্ব একদম ভালো যায়নি পর্তুগালের। সহজ এক গ্রুপেও শীর্ষস্থান ধরে রাখতে পারেনি দলটি। বাছাইপর্বের শেষ ম্যাচে ঘরের মাঠে ৯০ মিনিটে গোল খেয়ে সরাসরি বিশ্বকাপে যাওয়ার সুযোগ হারিয়েছে দলটি। সে কারণেই প্লে অফের ভাগ্য পরীক্ষা দিতে হচ্ছে তাদের।
চোট সমস্যায় রক্ষণের সেরা খেলোয়াড়দের পাচ্ছে না পর্তুগাল। মাঝমাঠেও আছে চোট সমস্যা। গত ম্যাচে তিন গোল পেলেও তাতে রোনালদোর খুব বেশি অবদান ছিল না। কিন্তু বাঁচামরার ম্যাচে রোনালদো জ্বলে না উঠলে যে পর্তুগালকে কখনো পার পেতে দেখা যায় না।
আজও যদি রোনালদো ম্লান থাকেন, তাহলে পর্তুগালের সম্ভাবনা অনেক কমে যাবে। কাতার বিশ্বকাপে তাকে দেখা যাবে তো? সাংবাদিকদের এমন ইঙ্গিতে কড়া জবাব দিয়েছেন মহাতারকা। তিনি বলেছেন ‘পর্তুগাল ছাড়া কোনো বিশ্বকাপ হবে না। এখানে বিশেষ কোনো ব্যক্তির আলাদা কিছু নেই (তার বিশ্বকাপে থাকা না থাকা)।’
আজ মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাত ১২টা ৪৫ মিনিটে মাঠে নামবে পর্তুগাল। র্যাঙ্কিং চিন্তা করলে আজ পর্তুগালকে প্রতিপক্ষ নিয়ে না ভাবলেও চলবে। শীর্ষ দশের এক দল মুখোমুখি হচ্ছে ৬৭তম দলের। কিন্তু সে দলই বর্তমান ইউরো চ্যাম্পিয়নদের হারিয়ে এসেছে। গত বছরই হারিয়েছে জার্মানিকে।
তবু রোনালদো প্রতিপক্ষ নিয়ে খুব বেশি চিন্তিত নন। তার ভাষায়, ‘আমরা বিস্মিত হয়েছি। উত্তর মেসিডোনিয়া অনেক ম্যাচেই চমক দেখিয়েছে। কিন্তু আমার মনে হয় না কাল আমাদের চমকে দিতে পারবে। পর্তুগাল ভালো খেলবে এবং আমরা বিশ্বকাপে যাব।’
আজ রাতে কী করতে হবে, সেটা জানা আছেই বলেই এতটা নির্ভার রোনালদো। তিনি বলেন, ‘আমরা জানি, জিতলে বিশ্বকাপে যাব, আর হারলেই বাদ পড়ব। ইতিবাচক থেকে ম্যাচ জেতাটা আমাদের দায়িত্ব। আমি দলের সবাইকে এ ম্যাচের জন্য প্রস্তুত দেখেছি এবং কাল নিজেদের সেরাটা দেওয়ার জন্য অপেক্ষা করছি।’
আজ রাতে যদি কোনো অঘটন ঘটে যায়, তাহলেই আর বিশ্বকাপে দেখা যাবে না রোনালদোকে। টানা ১০টি বড় টুর্নামেন্ট খেলা এই ফুটবলারের কোনো টুর্নামেন্টের বাছাইপর্ব থেকে বাদ পড়ার অভিজ্ঞতা নেই।
৩৭ বছর বয়সে এমন তিক্ত স্বাদ পেলে হয়তো আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে যতি টানার চিন্তা মাথায় আসবে রেকর্ড ১১৫টি গোলদাতার। কিন্তু এখন বিশ্বকাপের স্বপ্নে বিভোর রোনালদো এমন প্রশ্নে বিরক্তি জানিয়েছেন কাল।
এসিআর সেভেন বলেন, ‘আমাকে বারবার একই প্রশ্ন করা হচ্ছে। আমার ভবিষ্যৎ আমিই ঠিক করব, আর কেউ না। যদি আরও খেলতে ইচ্ছা হয়, খেলব। আর যদি ইচ্ছা না হয়, খেলব না। আমিই সিদ্ধান্ত নেব, এটাই চূড়ান্ত।’