হাসপাতাল থেকে ছুটি পেয়েই মাঠে ফিরতে চেয়েছিলেন এরিকসেন। তবে নিয়মের বেড়াজালে আবদ্ধ হয়ে ইতালির পুরনো ক্লাব তার সঙ্গে চুক্তি বাতিল করে। কাকতালীয়ভাবে সুযোগ পেয়ে যান প্রিমিয়ার লিগে। যেখানে একসময় টটেনহ্যামের নির্ভরযোগ্য ফুটবলার ছিলেন তিনি।
এবার অবশ্য সুযোগ করে দেয় অনেক নীচের দিকের ক্লাব ব্রেন্টফোর্ড। আর সেখানেই চেনান নিজের জাত। দারুণ পারফরম্যান্সে ফেরেন জাতীয় দলেও। এরপর সবচেয়ে চমকপ্রদ ঘটনা, আসন্ন ফুটবল মৌসুমে তাকে খেলতে দেখা যাবে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোদের সঙ্গে, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের জার্সিতে।
.png)
শুক্রবারই ওল্ড ট্র্যাফোর্ডের ক্লাবটি জানিয়ে দিয়েছে, ফ্রি-টান্সফারে এরিকসেনকে দলে টেনেছে তারা। চুক্তির আনুষ্ঠানিকতাও সম্পন্ন। নতুন ম্যানেজার এরিক টেন হ্যাগের জমানায় তিনিই ইউনাইটেডে দ্বিতীয় নতুন সদস্য।
দলে যোগ দিয়ে এরিকসেন বলেছেন, ‘ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড একটা বিশেষ ক্লাব। এখানে খেলার তর সইছে না। এমনিতে ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে বহু বার খেলার সৌভাগ্য হয়েছে। তবে রেড ডেভিলসের লাল জার্সি পরে নামার রোমাঞ্চই আলাদা। এটি আরো বড় লক্ষ্যে পৌঁছানোর মঞ্চ।’
নতুন কোচ প্রসঙ্গেও উচ্ছ্বসিত তিনি। তার ভাষায়, ‘এখনো আমি অনেক কিছু করার স্বপ্ন দেখি। স্বপ্ন সত্যি করার ক্ষমতাও আমার আছে। আয়াক্সে (আমস্টারডাম) কী ভাবে দল চালাতেন এরিক তা নিজের চোখে দেখেছি। ওখানে প্রত্যেক দিন একেবারে সবকিছু নিয়ম মেনে হত।’
এরিকসেন যোগ করেন, ‘তখনই বুঝেছিলাম, এরিক অসাধারণ কোচ। তার সঙ্গে কথাও হয়েছে। এরিক কী চান, তাও জেনেছি বিস্তারে। কী ভাবে দল খেলবে ইত্যাদি নিয়ে এখন থেকেই তার কৌশল পরিষ্কার। এ সবে আমার আগ্রহ আর উত্তেজনাও বেড়ে যাচ্ছে।’
অসুস্থ হওয়ার সময় এরিকসেন ইন্টার মিলানে খেলতেন। এমনিতে বুকে যে যন্ত্র নিয়ে এখন তিনি আছেন, সেই আইসিডি (ইমপ্ল্যান্টেবল কার্ডিয়োভার্টার ডেফিব্রিলেটর) শরীরে থাকলে ইতালির লিগে খেলা যায় না। প্রিমিয়ার লিগে যায়। তা-ই ব্রেন্টফোর্ড তাকে নিতে পেরেছিল।
ব্রেন্টফোর্ডের হয়ে গত মৌসুমে ১৩ ম্যাচে তিনি নিজে একটি গোল করেছেন, করিয়েছেন চারটি। ক্লাবটি ইপিএল যাত্রা শেষ করেছে ত্রয়োদশ স্থানে।