ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ খেলা ]

বাংলাদেশের কমনওয়েলথ গেমস মিশন শেষ, অর্জন শুধুই অভিজ্ঞতা

এস আই রাসেল
প্রকাশিত: ১১:৩০, ৭ আগস্ট ২০২২
বাংলাদেশের কমনওয়েলথ গেমস মিশন শেষ, অর্জন শুধুই অভিজ্ঞতা
ফাইল ছবি

ইংল্যান্ডের বার্মিংহামে অনুষ্ঠিত ২২তম কমনওয়েলথ গেমসে বাংলাদেশের মিশন শেষ। শুক্রবার কুস্তি প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে গেমসে লাল-সবুজদের অধ্যায়। যদিও ২৮ জুলাই থেকে শুরু হওয়া গেমস চলবে ৮ আগস্ট পর্যন্ত।

বার্মিংহাম গেমসে পেরি নামক একটি ষাঁড়কে মাসকট হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে। এর গায়ে বিভিন্ন রঙ। বার্মিংহামের একটি এলাকা পেরি বারের নামেই এর নামকরণ। তবে ‘গেমস ফর এভরিওয়ান’ এই স্লোগানকে সামনে রেখেই আয়োজিত এ আসরে পদক জয়ের আশায় নয়, শুধু অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্যই অংশগ্রহণ করেছিল বাংলাদেশ।

এই গেমসে বাংলাদেশ কন্টিনজেন্টের শেফ দ্য মিশন ছিলেন বিওএ সহ-সভাপতি ও আরচ্যারি ফেডারেশনের সভাপতি লে. জেনারেল মইনুল ইসলাম (অব.)। তবে শারীরিক অসুস্থতার জন্য শেফ দ্য মিশনের দায়িত্ব পালনে অপারগতা প্রকাশ করেন তিনি।

Advertisement

তাই ২৯ জন ক্রীড়াবিদ ও ২১ জন অফিসিয়াল নিয়ে ৫০ সদস্যের বাংলাদেশ কন্টিনজেন্টের নেতৃত্ব দিয়েছেন বাংলাদেশ অলিম্পিক এসোসিয়েশন (বিওএ) এর সদস্য ও বাংলাদেশ অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুর রকিব মন্টু। 

ইংল্যান্ডের বার্মিংহাম জমকালো অনুষ্ঠানের শুরুতে শুধু ভারত্তোলক মাবিয়া আক্তার সীমান্তর পতাকা বহন করার কথা ছিল। তবে এবারের মার্চপাস্টে পতাকা বহনের সময় সীমান্তর সঙ্গে ছিলেন বক্সার সুর কৃষ্ণ চাকমা।

সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক গেমসে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর কোনো ক্রীড়াবিদের বাংলাদেশের পতাকা বহনের রেকর্ড নেই। সম্ভবত দেশের ক্রীড়া ইতিহাসেই এমন ঘটনা প্রথম। এর আগে ২০১৩ সালে বাংলাদেশ গেমসে মশাল প্রজ্বলন করেছিলেন প্রয়াত কিংবদন্তি হকি খেলোয়াড় জুম্মন লুসাই।

১৯ ডিসিপ্লিনে ২৮০টি স্বর্ণের লড়াইয়ে ৭২ দেশের প্রায় ৫ হাজার ৫৪ ক্রীড়াবিদ অংশ নিয়েছে এবারের আসরে।  অ্যাথলেটিকস, বক্সিং, জিমন্যাস্টিকস, সাঁতার, ভারোত্তোলন, কুস্তি ও টেবিল টেনিস- এই ৭ ডিসিপ্লিনের ২৯ জন ক্রীড়াবিদ ও ২১ জন অফিসিয়াল সহ মোট ৫০ সদস্যের বাংলাদেশ দল বার্মিংহামে নিজেদের মিশন শেষ করেছে। 

কমনওয়েলথ গেমসে শ্যুটিং ইভেন্টে এ পর্যন্ত ৮ পদক পেয়েছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে দুটি করে স্বর্ণ ও ব্রোঞ্জ এবং চারটি রৌপ্য।

১৯৯০ অকল্যান্ড কমনওয়েলথ গেমসে দুই শ্যুটার আতিকুর রহমান ও আব্দুস সাত্তার নিনি ১০ মিটার এয়ার পিস্তল দ্বৈত ইভেন্টের ফাইনালে ফেভারিট অস্ট্রেলীয় জুটিকে হারিয়ে রীতিমতো বিখ্যাত বনে যান। কমনওয়েলথ গেমসের ইতিহাসে দেশ পায় প্রথম পদকের দেখা। আতিক-নিনির সোনায় মোড়ানো সাফল্য সাহস দিয়েছিল অনুজদের। 

এরপর থেকে তাদের পথ অনুসরণ করে শ্যুটাররা। ব্যতিক্রম কেবল এবার। নিরাপত্তা ভাবনায় এবার শ্যুটিং রাখেননি আয়োজকরা। বাংলাদেশের আরেক সম্ভাবনাময় খেলা আরচ্যারিও জায়গা পায়নি ১৯টি খেলার তালিকায়।

ফলে গত কয়েকটি কমনওয়েলথ গেমসের মধ্যে এই প্রথমই বাংলাদেশের পদকের আশা ছিল শূন্য। বাংলাদেশের সম্ভাবনার ইভেন্ট আরচ্যারী থাকলেও হয়তো আশা করা যেত কিছু। 

তাই বাস্তবতা বিবেচনায় এবারের কমনওয়েলথ গেমসে বাংলাদেশের পদক জয়ের সম্ভাবনা ছিলই নেই। যা আগেই জানিয়েছিলেন বাংলাদেশ অলিম্পিক এসোসিয়েশনের মহাসচিব সৈয়দ শাহেদ রেজা। 

তিনি বলেছিলেন, এসব গেমসে অভিজ্ঞতা অর্জনই এদেশের অ্যাথলেটদের মূল লক্ষ্য। বাস্তবতাই আসলে স্বপ্ন দেখায় না।

এসএ গেমসে দুটি সোনাজয়ী মাবিয়া আক্তার সীমান্তও পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছিলেন, এখানে তিনি পদকের আশা করেন না। বার্মিংহামে পৌছে এই ক্রীড়াবিদ বলেন, গতবার কমনওয়েলথে ৬৪ কেজিতে ষষ্ঠ হয়েছিলাম। গতবারের চেয়ে এবার ভালো করতে চাই। সেটাই মূল লক্ষ্য আমার।

এনইসি হলের চার নম্বর ফ্লোরে হয় বক্সিং। বাস্তবতার নিরিক্ষে বক্সার সুরু কৃষ্ণ চাকমা বলেছিলেন, বৈশ্বিক এসব আসরে ভালো করতে হলে যে সমস্ত সুযোগ সুবিধা দরকার তার ধারে কাছে নেই আমরা। সত্যি বলতে আমরা এটাকে আমাদের অভিজ্ঞতা অর্জনের মঞ্চ হিসেবে ধরে নিয়ে রিংয়ে দাঁড়াবো। চেষ্টা করবো নিজেদের সর্বোচ্চটা দেয়ার। এরপর যদি কিছু হয়।

প্রতি ইভেন্টে বাংলাদেশের ফলাফল:-

অ্যাথলেটিকস:

পুরুষদের ১০০ মিটার দৌড়ে বাংলাদেশের ইমরানুর রহমান হয়েছেন ৩৩তম। নিজের সেরা টাইমিং করতে পারেননি তিনি। যুক্তরাজ্য প্রবাসী এই অ্যাথলেট কমনওয়েলথ গেমসে ছুঁতে পারেননি নিজের সেরাটাও।

১০০ মিটার স্প্রিন্টের সাত নম্বর হিটে অংশ নিয়ে তৃতীয় হয়েছিলেন ইমরান, তবে টাইমিং ছিল ১০.৪৬ সেকেন্ড। ইমরানের ব্যক্তিগত সেরা টাইমিং হচ্ছে ১০.২২। বিশ্ব অ্যাথলেটিকসের প্রস্তুতিতে লন্ডনে এই টাইমিং করেছিলেন তিনি।

কমনওয়েলথ গেমসে নিজের সেরা টাইমিং করতে পারলেই ইমরানের জায়গা হয়ে যেত সেমিফাইনালে। ১০.৩৯ সেকেন্ড টাইমিং নিয়ে সবশেষ প্রতিযোগী হিসেবে সেমিফাইনালে উঠেছেন অস্ট্রেলিয়ার জেইক ডোরান। নিজের সেরা সাফল্যের কাছাকাছি টাইমিং করতে পারলে ইমরানও থাকতে পারতেন সেমিফাইনালে।

মেয়েদের ১০০ মিটার স্প্রিন্টে নিজের সেরা টাইমিং করেও হিটেই বাদ পড়েছেন বাংলাদেশের সুমাইয়া দেওয়ান। তিন নম্বর হিটে সাত জনের মধ্যে সপ্তম হয়েছেন সুমাইয়া, যদিও তার প্রাপ্তি নিজস্ব সেরা টাইমিং। সুমাইয়া সময় নিয়েছেন ১২.৪২ সেকেন্ড।

২১ জন প্রতিযোগীদের মধ্যে ১৯তম হয়ে শেষ করলেন সুমাইয়া। শীর্ষে থাকা নাইজেরিয়ার গ্রেস নওকোয়াচার চেয়ে সুমাইয়া বেশি সময় নিয়েছেন ১.৪৩ সেকেন্ড।

পুরুষদের হাই জাম্পে নিজের মৌসুম সেরা পারফরম্যান্স করেছেন বাংলাদেশের মাহফুজুর রহমান। তিনি লাফিয়ে সফলভাবে ২.১০ মিটার উচ্চতা অতিক্রম করেছেন। মৌসুম সেরা পারফরম্যান্স করেও অবশ্য পদকের কাছাকাছি যেতে পারেননি মাহফুজুর।

১৩ জনের ভেতর মাহফুজ হয়েছেন একাদশতম। ২.২৫ মিটার উচ্চতা লাফিয়ে অতিক্রম করে সোনা জিতেছেন নিউজিল্যান্ডের হামিশ কের। অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটার মিচেল স্টার্কের ভাই ও গোল্ডকোস্ট কমনওয়েলথ গেমসের সোনাজয়ী ব্রেন্ডন স্টার্ক বার্মিংহামে জিতেছেন রূপা। 

মেয়েদের হাই জাম্পের বাছাই পর্বে গ্রুপ এ থেকে আট জনের ভেতর অষ্টম হয়ে বিদায় নেন বাংলাদেশের উম্মে হাফসা রুমকি। রুমকি লাফিয়ে অতিক্রম করেছেন ১.৬৬ মিটার যা এ গ্রুপে সর্বনিম্ন।

প্রথম প্রচেষ্টায় রুমকি লাফ দিয়ে ১.৬০ মিটার অতিক্রম করার পর দ্বিতীয় প্রচেষ্টায় পার করেন ১.৬৬ মিটার। তৃতীয় প্রচেষ্টায় ১.৭১ মিটার লাফাতে তিনি ব্যর্থ হন।

ছেলেদের ২০০ মিটার দৌড়ে তৃতীয় হিটে অংশ নিয়ে আট জনের মধ্যে সপ্তম হন বাংলাদেশের রাকিবুল হাসান। তিনি সময় নিয়েছেন ২২.৪৬ সেকেন্ড। সার্বিক তালিকায় রাকিবুল ৫৭ জনের ভেতর ৪৯তম।

বক্সিং:

হঠাৎ করে সকালে প্রেশার বেড়ে যাওয়ায় বক্সিং রিংয়ে নামতে ব্যর্থ হন বাংলাদেশ সেরা বক্সার সুর কৃষ্ণর। ডা. শফিকুর রহমান জানিয়েছিলেন, এটা ওর দুর্ভাগ্য। ইভেন্টের দিন সকালে রুটিন মেডিকেল চেক-আপে ওর উচ্চ রক্তচাপ ধরা পড়ে।

এরপর ১৫-২০ মিনিট বিশ্রাম দিয়ে ফের পরীক্ষা করলেও প্রেসার বেশি আসে বলে ওকে খেলতে অনুমতি দেয়নি কর্তৃপক্ষ। পরে ওকে পলি ক্লিনিকে নিয়ে আসলে সেখানকার চিকিৎসকরা পরীক্ষা করে খানিকটা বেশি পান।

ভাঙা মন নিয়ে নিজের ইভেন্ট এর খেলা দেখা সুর কৃষ্ণ বলেন, ঘুম থেকে উঠে নাস্তা করে মেডিকেল টেস্ট যখন দেই, তখন কোন সমস্যা হয়নি আমার। অথচ প্রেসার মেপে ডাক্তাররা বেশি পায়। দ্বিতীয়বারের পরীক্ষায়ও বেশি আসলে আমাকে খেলার অনুমতি দেয়নি। অথচ এর কিছুক্ষণ পরেই আমার প্রেসার স্বাভাবিক হয়ে যায়। এখন ভাঙা মন নিয়ে আমার ইভেন্টের খেলা দেখছি। এটা দুর্ভাগ্য না তো কী? কোন নার্ভাসনেস কাজ করেনি আমার মধ্যে। গতরাতে ভাল ঘুম না হওয়ার কারণেই হয়তো এমনটা হয়েছে।

পুরুষদের বক্সিং ইভেন্টে ফেদারওয়েট ক্যাটাগরিতে ভারতের মোহাম্মদ হুসাম উদ্দিনের কাছে ৫-০তে হেরেছেন বাংলাদেশের সেলিম হোসেইন।

উগান্ডার ওয়েন আইজ্যাক কিবিরার কাছে ৫-০ পয়েন্টে হেরে রাউন্ড অব সিক্সটিন থেকেই বিদায় নিয়েছেন বাংলাদেশের হোসেন আলী। পুরুষদের ওয়েল্টারওয়েইট (৬৩.৫-৬৭ কেজি ওজনশ্রেণী) বিভাগে হোসেন আলী মুখোমুখি হয়েছিলেন কিবিরার।

পাঁচ বিচারকের মধ্যে তিনজন হোসেনকে দিয়েছেন ২৭ পয়েন্ট করে আর বাকি দুই জন দিয়েছেন ২৮ পয়েন্ট করে। কিবিরা ৩০ পয়েন্ট করে পেয়েছেন তিন জনের কাছ থেকে আর দুই জনের কাছ থেকে ২৯ পয়েন্ট করে পেয়েছেন।

জিমন্যাস্টিকস:

বার্মিংহাম কমনওয়েলথ গেমসে ধারাবাহিকভাবে ভালো করার পরও দিন শেষে অবস্থান ১২তম হওয়ায় বাদ পড়েন জিমন্যাস্ট আলী কাদের। তার বাদ পড়ায় শীর্ষ ১১ জন চুড়ান্ত পর্বে অংশ নেন। বাংলাদেশ প্রথম দিনই বিদায় নেয়।

কাদেরের ইভেন্টে ৬০ জনের বেশি প্রতিযোগি ছিলেন। ৬০ জনের মধ্যে ১২তম অবস্থানকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন কাদেরের জন্য আফসোস করা জিমন্যাস্টিকস ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ও বার্মিংহাম কমনওয়েলথে বাংলাদেশ কন্টিনজেন্টর জেনারেল টিম ম্যানেজার আহমেদুর রহমান বাবলু, 

তিনি বলেন, আমাদের পদকের আশা ছিল না এই গেমসে। কাদের চুড়ান্ত রাউন্ডে খেলবে এই প্রত্যাশাই ছিল। কিন্তু সে অল্পের জন্য বাদ পড়েছে। জিমন্যাস্টিকস পয়েন্ট নির্ভর খেলা। সে এক পয়েন্টেরও কম ব্যবধানে বাদ পড়েছে।

যদিও আলী কাদের আগেই নিজে খুব একটা আশা দেখাননি। বাংলাদেশের এই জিমন্যাস্ট বলেছিলেন, আমার জীবনের সবচেয়ে বড় আসর এটি। চেষ্টা করবো বেটার করার। 

পুরুষদের আর্টিস্টিক জিমন্যাস্টিকসে সর্বমোট ১৮টি দেশের ৫৬ জন জিমন্যাস্ট অংশগ্রহণ করেন। তাদের মধ্যে ব্যক্তিগত অল-অ্যারাউন্ডে শিশির আহমেদ ২১তম, ভল্টিং টেবিলে আলি কাদের হক ১২তম, আবু সাঈদ রাফি ১৬তম ও শিশির আহমেদ ১৭তম স্থান অধিকার করেন। 

বাংলাদেশ দল সর্বমোট ১০০.০৬ পয়েন্ট অর্জন করে দলগতভাবে ১৮ দেশের মধ্যে নবম স্থান অধিকার করেছে। 

সাঁতার:

মেয়েদের ৫০ মিটার বাটারফ্লাই ইভেন্টের তৃতীয় হিটে বাংলাদেশের সোনিয়া খাতুন আট প্রতিযোগীর মধ্যে হয়েছেন ষষ্ঠ। তিনি সময় নিয়েছেন ৩০.৯৪ সেকেন্ড।

এই ইভেন্টে সর্বমোট ৫২ জন প্রতিযোগি অংশ নেন যাদের মধ্যে ৪২তম হন সোনিয়া। সবার আগে শেষ করা কানাডার মার্গারেট ম্যাকনেল এর চেয়ে সোনিয়া সময় নিয়েছেন ৪.৭০ সেকেন্ড বেশি।

ছেলেদের ১০০ মিটার ফ্রি-স্টাইলের চতুর্থ হিটে বাংলাদেশের সাঁতারু আসিফ রেজা আট জনের ভেতর হয়েছেন ষষ্ঠ। তিনি সময় নিয়েছেন ৫৪.২৪ সেকেন্ড। এই ইভেন্টে সাঁতার শেষ করা মোট ৬৯ জন সাঁতারুর ভেতর আসিফ হয়েছেন ৫০তম। সবার আগে শেষ করা কানাডার জশুয়া লিয়েন্ডো এডওয়ার্ডস এর চেয়ে আসিফ সময় নিয়েছেন ৫.৭০ সেকেন্ড বেশি।

১০০ মিটার বাটারফ্লাইয়ে মাহমুদুর নবী নাহিদ ৫৬.৭৮ সেকেন্ড সময় নিয়ে হিটে আট জনের মধ্যে চার নম্বর হয়েছেন। সবমিলিয়ে ৪৭ জনের মধ্যে ২৬তম হয়েছেন এই সাঁতারু। সবশেষ সাঁতারু হিসেবে সেমিফাইনালে নাম লেখানো দক্ষিণ আফ্রিকার অ্যান্ডু রসের সঙ্গে নাহিদের সময়ে ব্যবধান ২.৫২ সেকেন্ড।

নারীদের ১০০ মিটার ব্রেস্টস্ট্রোকে ১ নম্বর হিটে পাঁচজন সাঁতারুর মধ্যে ১.২০.৩৭ সেকেন্ড সময় নিয়ে সেরা হয়েছেন মরিয়ম আক্তার। তবে সেমিফাইনালে যেতে এই টাইমিং যথেষ্ঠ ছিলো না। ২৮জন প্রতিযোগীর মধ্যে তিনি হয়েছেন ২৪তম। 

৫০ মিটার ব্রেস্টস্ট্রোকে সুকুমার রাজবংশী ২৯.৯৬ সেকেন্ড সময় নিয়ে হিটে সাত জনের মধ্যে ষষ্ঠ হয়েছেন। এই ইভেন্টে তিনি ৪০ জনের মধ্যে ৩০তম হয়েছেন।

সাঁতারে ৫০ মিটার ফ্রি স্টাইলে আসিফ রেজা ৪৪তম হয়েছেন। ৫০ মিটার ফ্রি স্টাইলের ষষ্ঠ হিটে আট প্রতিযোগির মধ্যে সবার শেষে সাঁতার শেষ করেন বাংলাদেশের আসিফ রেজা। তিনি সময় নিয়েছেন ২৪.৬৭ সেকেন্ড। ৭১ সাঁতারুর মধ্যে ৪৪তম হওয়া আসিফ শীর্ষে থেকে শেষ করা ইংল্যান্ডের লুইস এডওয়ার্ড বারাসের চেয়ে ২.৫৮ সেকেন্ড বেশি সময় নিয়েছেন।

ভারোত্তোলন:

আগে থেকেই ভারোত্তোলক মাবিয়া আক্তার সীমান্ত জানিয়েছিলেন, গোলকোস্ট কমনওয়েলথ গেমসে আমি ষষ্ঠ হয়েছিলাম। এবার তার চেয়ে ভালো করার সম্ভাবনা কম।

এর কারণ হিসেবে এসএ গেমসে স্বর্ণ জয়ী এই ক্রীড়াবিদ বলেছেন, আমরা মাত্র চার মাসের অনুশীলনে এখানে খেলতে এসেছি। অন্য যারা প্রতিযোগী আছে তারা চার বছর প্রস্তুতি নিয়ে এখানে এসেছে। তাদের সঙ্গে আমরা কিভাবে কুলিয়ে উঠবো? 

মাবিয়া যা বলেছিলেন হয়েছেও তাই। মেয়েদের ৬৪ কেজি ওজন শ্রেণিতে ১২ প্রতিযোগীর ভেতর অষ্টম হন তিনি। স্ন্যাচে ৭৮ কেজি ওজন তোলেন মাবিয়া। ৬৪ কেজি ওজন শ্রেণিতে তার সেরা ৮০ কেজি।

তবে ক্লিন এন্ড জার্কে নিজের সেরাটা ধরে রেখেছেন এসএ গেসসে জোড়া স্বর্ণ জয়ী এই ভারত্তোলক। ক্লিন এন্ড জার্কে ১০৩ কেজি উঠিয়েছেন তিনি। সবমিলিয়ে ১৮১ কেজি ওজন তুলে আসরের ১২ ভারত্তোলকের মধ্যে অষ্টম হয়েছেন মাবিয়া। এর আগে সবশেষ জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে স্ন্যাচ ও ক্লিন এন্ড জার্ক মিলিয়ে ১৮৩ কেজি তুলেছিলেন দেশ সেরা এই ভারোত্তোলক।

ভারোত্তলনে মেয়েদের ৭৬ কেজি ওজন শ্রেণীতে নবম হয়েছেন বাংলাদেশের কাজী মনিরা। স্ন্যাচে মনিরা প্রথম প্রচেষ্টায় তুলেছেন ৭৫ কেজি, এরপর দুইবার ৭৮ কেজি তুলতে তিনি ব্যর্থ হয়েছেন। ক্লিন অ্যান্ড জার্কে প্রথম প্রচেষ্টায় ৯৫ কেজি তুলতে ব্যর্থ হলেও দ্বিতীয় প্রচেষ্টায় তুলেছেন, এরপর ৯৮ কেজি তুলতে গিয়ে ব্যর্থ হয়েছেন মনিরা। মোট ১৭০ কেজি ওজন তুলে ১১ জনের ভেতর নবম হয়েছেন তিনি। 

কুস্তি:

বাংলাদেশের কুস্তিগীররদের কেউই জয়ের দেখা পাননি। স্টাইল ৬২ কেজি ওজন শ্রেণীর কোয়ার্টার ফাইনালে দোলা খাতুন ১০-০ পয়েন্টে হেরেছেন ক্যামেরুনের বার্থা এমেলিয়েন এনগোলের কাছে।

পুরুষ ৮৬ কেজি ওজন শ্রেণীতে আব্দুর রশিদ হাওলাদার ৪-০ পয়েন্টে হেরেছেন সিয়েরা লিওনের সেকু কাসেগবামার কাছে। পুরুষ ১২৫ কেজি শ্রেণীতে লিটন বিশ্বাস ১১-০ পয়েন্টে হেরেছেন জ্যামাইকার অ্যারন জনসনের কাছে।

টেবিল টেনিস:

এই প্রথম কমনওয়েলথ গেমসে সরাসরি খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছিল টেবিল টেনিস। ৪ পুরুষ ও ২ নারী খেলোয়াড় যান বার্মিংহামে। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন মোহতাসিন আহমেদ ও রামহীম লিয়ন বর্মও ছিলেন।

মেয়েদের বিভাগে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন সাদিয়া রহমান মৌয়ের সঙ্গী পাঁচবারের জাতীয় চ্যাম্পিয়ন সোনাম সুলতানা সোমা। এই খেলোয়াড়েরা জানিয়েছিলেন, ভালো কিছু করতে চান তারা। 

বাংলাদেশ টিটি ফেডারেশনের সহসভাপতি খন্দকার হাসান মুনীর বলেছেন, আমাদের লক্ষ্য গেমসে সমান র‌্যাঙ্কিংয়ের টিমের কাছে না হারা এবং কিছুটা ওপরের র‌্যাঙ্কিংয়ের টিমকে হারানো। 

চলমান কমনওয়েলথ গেমসে টেবিল টেনিসে চমক দেখায় বাংলাদেশের মোহতাসিন আহমেদ হৃদয় ও রামহিমলিয়ান বম। প্রথমবারের মতো কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছে নতুন ইতিহাস গড়ে তারা।

ছেলেদের টেবিল টেনিস ডাবলসে বাংলাদেশের মোহতাসিন আহমেদ হৃদয় ও রামহিমলিয়ান বম গায়ানার ক্রিস্টোফার ফ্রাঙ্কলিন ও জনাথান ফন ল্যাংগে জুটিকে ৩-২ ব্যবধানে হারিয়ে শেষ আট নিশ্চিত করে। 

তার আগে টেবিল টেনিস ডাবলসের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশের হৃদয়-রামহিমলিয়ান জুটি ৩-০ ব্যবধানে ফিজির জয় চৌহান ও স্টিফান রেইলিকে। 

সেমিতে ওঠার লড়াইয়ে বাংলাদেশ ৩-০ সেটে ভারতের কাছে হেরে সে স্বপ্ন ভেঙে যায়। এককে ভারতের কাছে বাংলাদেশের রিফাত সাব্বির হেরেছেন ৩-০সেটে এবং মৌতাসিন রাতুলও ৩-০ সেটে হেরেছেন।

মেয়েদের টেবিল টেনিসের এককে নিজ নিজ প্রথম খেলায় জয় পান বাংলাদেশের সোনম সুলতানা ও সাদিয়া রহমান। সোনম সুলতানা নিজের প্রথম ম্যাচে সলোমন দ্বীপপুঞ্জের কনি সিফিকে ৪-০ সেটে হারান।  তবে নিজের দ্বিতীয় ম্যাচে কানাডার ক্যাথরিন মরিনের বিপক্ষে চোটের কারণে খেলতে না পারায় ওয়াকওভার দেন সোনম।

সাদিয়া রহমান মৌ নিজের প্রথম ম্যাচে ৪-০ সেটে হারান ভানুয়াতুর রোয়ানা অ্যাবেলকে। দ্বিতীয় ম্যাচে নাইজেরিয়ার এস্তের ওরিবামিসের কাছে ৪-০ সেটে হেরেছেন সাদিয়া। 

পুরুষ এককে নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের ওয়েন ক্যাথকার্টের কাছে ৪-০ তে হারেন বাংলাদেশের রামহিমলিয়ান বম। মালদ্বীপের মুসা মুনসিফ আহমেদের বিপক্ষে.৪-৩ সেটের কষ্টার্জিত জয় পান রিফাত সাব্বির।

পুরুষ এককে রিফাত সাব্বির ৪-০ সেটে হারেন ঘানার ডেরেক আব্রেফার কাছে। মুহতাসিন হৃদয় ৪-১ সেটে  হারেন পাকিস্তানের ফাহাদ খাজার কাছে, একই ব্যবধানে তিনি হেরেছেন গায়ানার ক্রিস্টোফার ফ্র্যাঙ্কলিনের কাছেও।

টেবিল টেনিসে মিশ্র দ্বৈতে হৃদয়-মৌ জুটি ৩-০ সেটে হেরেছেন মরিশাসের অখিলেন-জালিম নন্দশ্রী জুটির কাছে। সোনম-হামজা জুটিও একইভাবে হেরেছেন দক্ষিণ আফ্রিকার কোগিল-জোডোয়ার কাছে।

১৯৩০ সালে কানাডার হ্যামিল্টনে এককালের ব্রিটিশ রাজ্যভুক্ত ১১টি দেশের অংশগ্রহণে শুরু হয় কমনওয়েলথ গেমসের। যেখানে অংশ নেয় ৪০০ অ্যাথলেট। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কারণে ১৯৪২ ও ১৯৪৬ সালে গেমসটি আয়োজিত হয়নি। এরপর থেকে ফের নিয়মিত সেটি আয়োজিত হয়ে আসছে। এই নিয়ে ৭ম বারের মতো কমনওয়েলথ গেমসের আসর বসছে যুক্তরাজ্যে। 

১৯৩৪ সালে প্রথমবারের মতো যুক্তরাজ্যের মাটিতে কমনওয়েলথ গেমস অনুষ্ঠিত হয়; সেবার আয়োজক ছিল লন্ডন। এরপর ১৯৫৮ সালে কার্ডিফ, ১৯৭০ এবং ১৯৮৬ সালে এডিনবরা, ২০০২ সালে ম্যানচেস্টার এবং ২০১৪ সালে গ্লাসগোতে অনুষ্ঠিত হয় এই আসর। 

বার্মিংহাম আসরের আগে ২০১৮ সালে অস্ট্রেলিয়ার গোল্ড কোস্টে অনুষ্ঠিত হয় সব শেষ আসর।

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!