আইসিসি ওয়ানডে ও টি-২০ ব্যাটসম্যানদের র্যাংকিংয়ের শীর্ষে আছেন বাবর আজম, টেস্টে তিন নম্বরে। তিন সংস্করণ মিলিয়ে সময়ের সেরা ব্যাটসম্যান মনে করা হয় তাকে। এক সময় এই স্বীকৃতিই পেতেন কোহলি।
তবে সেই কোহলির এখন চলছে ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বাজে সময়। ২০১৯ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্ট সেঞ্চুরি পাওয়ার পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তার তিন অঙ্কের স্বাদ পাননি তিনি। পেরিয়ে গেছে এর মধ্যেই ৭৯ ইনিংস।
.png)
একসময় তার সেঞ্চুরি খরা নিয়ে ছিল আলোচনা, এখন তা রূপ নিয়েছে রান খরায়। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সবশেষ ১৪ ইনিংসে তার স্রেফ ১টি ফিফটি, সেটিও স্রেফ ৫২ রানের। সবশেষ আইপিএলেও তার পারফরম্যান্স ছিল না প্রত্যাশার ধারেকাছে। ১৬ ইনিংসে ফিফটি করেছিলেন স্রেফ দুটিতে। ব্যাটিং গড় ছিল ২২.৭৩, স্ট্রাইক রেট মাত্র ১১৫.৯৮।
একসময় কোহলির সঙ্গে স্টিভেন স্মিথ, জো রুট, কেন উইলিয়ামসনদের মিলিয়ে বলা হতো ‘ফ্যাবুলাস ফোর’। পরে সেখানে বাবরকে রাখতেন অনেকেই। এখন তো বাবর আপাতত সবাইকে ছাড়িয়ে, কোহলিকে রাখতে হয় এই বন্ধনীর বাইরে।
পাকিস্তানের একটি টিভি চ্যানেলে সাক্ষাৎকারে রুট, বাবরদের সঙ্গে কোহলির পার্থক্য তুলে ধরলেন পাকিস্তানের ১৯৯২ বিশ্বকাপ জয়ী পেসার আকিব।
তিনি বলেন, গ্রেট ব্যাটারও দুটি ধরন আছে। একধরনের ব্যাটার হলো তারা, যারা কোথাও আটকে গেলে তাদের বাজে সময় বেশ দীর্ঘ হয়। অন্যরা হলো টেকনিক্যালি আঁটসাঁট ব্যাটার, যাদের বাজে সময় খুব দীর্ঘ হয় না। যেমন বাবর আজম, কেন উইলিয়ামসন, জো রুট…। তাদের বাজে সময় কোহলির মতো লম্বা হবে না, কারণ তাদের দুর্বলতা বের করা পাওয়া কঠিন।
খেলোয়াড়ী জীবন শেষে কোচ হিসেবে বেশ খ্যাতি পাওয়া সাবেক এই পেসারের মতে, টেকনিকের একটি দুর্বলতার কারণেই ভুগতে হচ্ছে কোহলিকে।
তিনি আরো বলেন, অফ স্টাম্পের ঠিক বাইরের ডেলিভারিতে কোহলি আটকে যায়। জেমস অ্যান্ডারসন সেটি টার্গেট করেছে অসংখ্যবার। সেদিনও আমি তার ব্যাটিং খেয়াল করছিলাম। মনে হলো, সে খুব সচেতনভাবেই বাইরের ডেলিভারিগুলো শরীরের দূর থেকে না খেলার চেষ্টা করছে।
আকিব জাবেদ যোগ করেন, টেকনিকে পরিবর্তন আনলে সমস্যার জন্ম নেবেই। এখান থেকে বের হতে হলে তার উচিত, খুব সাবধান না থেকেই একটি বড় ইনিংস খেলার চেষ্টা করা। সেটি পারলেই আবার সুসময়ের সূচনা হবে।