কুলদীপের পাঁচ উইকেট, দুইশোর আগে অলআউট বাংলাদেশ
চট্টগ্রাম টেস্টে বিপদের মুখে পড়েছে বাংলাদেশ। প্রথম দিনের খেলা শেষে তবু লড়াইয়ে ভারতের কাছাকাছি ছিল। কিন্তু দ্বিতীয় দিন শেষে টাইগারদের চোখ রাঙাচ্ছিলো ফলো অনের লজ্জা। তবে সেটা না করলেও তৃতীয় দিনের শুরুতেই বাংলাদেশকে অলআউট করে ফের ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত।
তৃতীয় দিনে শুরুতেই কুলদীপের ওপর চড়াও হন মেহেদী হাসান মিরাজ। দুই চারে ভাল শুরুর ইঙ্গিত দিতেই অপরপ্রান্তে বেসামাল হয়ে ওঠেন এবাদত। তাতেই পতন ঘটে দিনের প্রথম উইকেটের। ১৭ রান করে এবাদত বিদায় নিতেই ১৫০ রানেই শেষ হয় বাংলাদেশের ইনিংস।
এর আগে বাংলাদেশের হয়ে ইনিংস উদ্বোধনে নামেন নাজমুল হোসেন শান্ত ও এ ম্যাচে অভিষিক্ত জাকির হাসান। মোহাম্মদ সিরাজের করা একদম প্রথম বলেই রিশাভ পান্টের হাতে ক্যাচ তুলে দেন শান্ত, স্বাদ পান গোল্ডেন ডাকের।
.png)
ইয়াসির আলী রাব্বিকে এদিন তিনে ব্যাট করতে পাঠানো হয়। তবে দায়িত্ব পালনে যারপরনাই ব্যর্থ হন তিনি। উমেশ যাদবের বলে বোল্ড হওয়ার আগে করতে পারেন মাত্র ৪ রান।
চা বিরতির আগে বাকি সময়টা নির্বিঘ্নে কাটিয়ে দেন লিটন দাস ও জাকির। তবে বিরতির পর নেমেই খেই হারান লিটন। সিরাজকে মারতে গিয়ে ২৪ রানে ফেরেন বোল্ড হয়ে।
খানিকবাদে তার পথ ধরেন জাকির হাসানও। সিরাজের বলেই ২০ রানের মাথায় রিশাভ পান্টের হাতে ধরা পরেন তিনি। সাকিব আল হাসান ৩ রানের বেশি করতে পারেননি।
একপ্রান্ত আগলে রাখা মুশফিকুর রহিম সাজঘরে ফেরার আগে করেন ২৮ রান। যা এখন পর্যন্ত দলের পক্ষে সর্বোচ্চ। উইকেটকিপার নুরুল হাসান সোহান ১৬ রান করে আউট হন।
ওপরের তিনজনের সঙ্গে তাইজুল ইসলামকেও সাজঘরে ফেরান কূলদীপ যাদব। তাইজুলকে রানের খাতা খুলতে দেননি দিনের সেরা এই বোলার। তিনি একাই শিকার করেছেন চার উইকেট।
১০২ রানে আট উইকেট হারানো বাংলাদেশের হয়ে শেষ চেষ্টা চালাচ্ছিলেন মিরাজ ও এবাদত। তবে লাভ হলো না। এই দুজনের ৪২ রানের জুটি হয়ে রইলো সান্ত্বনা।
ভারতের হয়ে ৫ উইকেট নিয়েছেন কুলদীপ। মোহাম্মদ সিরাজ তিনটি, উমেশ যাদব ও আক্সার প্যাটেল একটি করে উইকেট শিকার করেছেন।
এর আগে ৬ উইকেটে ২৭৮ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিনে ব্যাটিং করতে নামে ভারত। প্রথম দিনটা মোটামুটি কাটানোর পর দ্বিতীয় দিনের শুরুটা দারুণ করেছিল বাংলাদেশ।
এদিন একদম শুরুর দিকেই শ্রেয়স আইয়ারকে বোল্ড করেন এবাদত হোসেন। আগের দিনের রানের সঙ্গে চার যোগ করে ৮৬ রানে সাজঘরে ফেরেন তিনি।
এরপর প্রথম সেশনের বাকি সময়টা কাটে হতাশায়। ভারতকে দ্রুত অলআউট করার আশায় গুড়েবালি ঢেলে দেন দুই ভারতীয় ব্যাটার রবিচন্দ্রন অশ্বিন ও কূলদীপ যাদব। অষ্টম উইকেট জুটিতে বাংলাদেশকে বেশ ভোগান এই দুজন।
বেশ সাবলীল ব্যাটিংয়ের মাধ্যমে প্রথম সেশন পার করেন তারা। হাফ সেঞ্চুরি তুলে নিয়ে বেশ বড় ইনিংসের ইঙ্গিতই দিচ্ছিলেন অশ্বিন। তবে তিনি ৫৮ রানে থাকা অবস্থায় মেহেদী হাসান মিরাজের ডেলিভারিতে স্ট্যাম্পিংয়ের শিকার হন।
এর মাধ্যমে ভাঙে অশ্বিন-যাদবের ৯২ রানের বিশাল জুটি। এরপর ভারতকে অল আউট করতে বেগ বেতে হয়নি বাংলাদেশকে। পরবর্তী ১৫ বলের ভেতর বাকি থাকা দুই উইকেট হারায় লোকেশ রাহুলের দল।
কূলদীপ ৪০ রান করেন। ১০ বলে ১৫ রনের অপরাজিত ক্যামিও খেলেন উমেশ যাদব। বাংলাদেশের হয়ে তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী মিরাজ চারটি করে এবং এবাদত হোসেন ও খালেদ আহমেদ একটি করে উইকেট শিকার করেন।