মূলত লা লিগায় তুমুল উত্তেজনা ছড়ানো ম্যাচটি প্রায় দশ মিনিটের মতো বন্ধ ছিলো। যার শেষটা হয়েছে রিয়ালের তরুণ তুর্কি ভিনিসিয়ুসের লাল কার্ড দেখার মধ্য দিয়ে। এদিন ম্যাচ চলাকালীন সময়ে বর্ণবাদী আচরণের শিকার হন ভিনিসিয়ুস। আর এতেই বাধে মূল বিপত্তি।
ম্যাচের ৭০তম মিনিটে বাঁদিক থেকে বল নিয়ে ঢুকছিলেন ভিনিসিয়ুস। গ্যালারি থেকে তখন আরেকটি বল ছুড়ে মারা হয় মাঠে। ইচ্ছাকৃতভাবে হোক বা অনিচ্ছায়, ভালেন্সিয়া ডিফেন্ডার এরাই কুমার্ট সেটি মেরে বসেন ভিনিসিয়ুসের দিকেই। কুমার্টকে হলুদ কার্ড দেখিয়ে রিয়ালকে ফ্রি কিক দেন রেফারি রিকার্দো দে বুর্গোস বেনগয়চিয়া।
.png)
সেই ফ্রি কিক নেয়ার প্রস্তুতির সময়ই হঠাৎ ভালেন্সিয়ার গোলবারের পেছনে গ্যালারির এক দর্শকের দিকে বেশ উত্তেজিতভাবে ছুটে যান ভিনিসিয়ুস। নিশ্চিতভাবেই সেখান থেকে কিছু বলা হয়েছিল তার উদ্দেশে। রিয়ালের আরো কয়েকজন ফুটবলার সেখানে ছুটে গিয়ে গ্যালারির দিকে আঙুল উঁচিয়ে কিছু বলতে থাকেন। ভিনিসিয়ুস পরে ছুটে এসে রেফারিকেও দেখিয়ে দেন গ্যালারির সেই অংশের দর্শককে।
রেফারি পরে ভিনিসিয়ুসকে জিজ্ঞেস করেন যে, তিনি খেলা বন্ধ করে দিতে চান কি না। কোচ কার্লো আনচেলত্তি ও সতীর্থদের সঙ্গে আলোচনার পর খেলা চালিয়ে যেতে বলেন ভিনিসিয়ুস। স্টেডিয়ামের মেগাফোনে দর্শকদের সতর্ক করে দেওয়া হয় বর্ণবাদী আচরণ নিয়ে।
শেষ দিকে আবার মাঠে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়ে দুই দল। সেই ঘটনায় এক পর্যায়ে লাল কার্ড দেখেন ভিনিসিয়ুস। তিনি মাঠ ছেড়ে যাওয়ার সময় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে ডাগ আউটেও।
ম্যাচ শেষে সামাজিক মাধ্যমে ভিনিসিয়ুস বলেন, লা লিগা কর্তৃপক্ষের অকার্যকারিতায় এই লিগে বর্ণবাদ এখন সাধারণ ঘটনা হয়ে গেছে। এটিই প্রথমবার নয়, দ্বিতীয় বা তৃতীয়বারও নয়। লা লিগায় বর্ণবাদ খুবই স্বাভাবিক হয়ে উঠেছে। এই প্রতিযোগিতায় এটিকেই স্বাভাবিক বলে ধরে নেওয়া হয়, ফেডারেশনও তা জানে এবং প্রতিপক্ষরা এটায় উৎসাহ দেয়।
ব্রাজিল তারকার মতে, স্পেনের পরিচিতি এখন বর্ণবাদী একটি দেশ হিসেবে। তবে বারংবার বর্ণবাদের শিকার হলেও তিনি ভেঙে পড়ছেন না। বরং লড়াই চালিয়ে যেতে চান শেষ পর্যন্ত।
লা লিগার সাবেক তারকাদের প্রসঙ্গ টেনে ভিনিসিয়ুস বলেন, ‘আমি খুবই হতাশ। যে চ্যাম্পিয়নশিপ একসময় ছিল রোনালদিনিয়ো, রোনালদো, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ও লিওনেল মেসিদের, সেটিই এখন বর্ণবাদীদের দখলে। খুবই সুন্দর একটি জাতি, যারা আমাকে স্বাগত জানিয়েছে এবং যাদের আমি ভালোবাসি, তারাই এখন বর্ণবাদী জাতি হিসেবে বিশ্বে নিজেদের তুলে ধরছে।’