এশিয়া কাপে ব্যাট হাতে আলো ছড়িয়েছেন যারা
দিন যত ফুরোচ্ছে ততই এগিয়ে আসছে এশিয়া কাপ। আগামী ৩০ আগস্ট শুরু হবে ছয় জাতির টুর্নামেন্টটি। এবারের আসরটি অনুষ্ঠিত হবে ‘হাইব্রিড মডেলে’। ফলে আসন্ন টুর্নামেন্টে পাকিস্তানের সহ-আয়োজক দেশ হয়েছে শ্রীলংকা।
এশিয়া কাপের উদ্বোধনী ম্যাচে স্বাগতিক পাকিস্তানের বিপক্ষে মাঠে নামবে নেপাল। এরপরের দিনই অর্থাৎ ৩১ আগস্ট ক্যান্ডিতে শ্রীলংকার মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। সে লক্ষ্যে রোববার (২৭ আগস্ট) দেশ ছাড়বেন লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।
দক্ষিণ এশিয়া ক্রিকেটের সর্বোচ্চ আসরটি এখন পর্যন্ত ১৬বার মাঠে গড়িয়েছে। তার মধ্যে রেকর্ড ৭ বার শিরোপা ঘরে তুলেছে ভারত। এরপরই রয়েছে ছয়বারের চ্যাম্পিয়ন শ্রীলংকা। আর তিনবারের শিরোপাজয়ী পাকিস্তান আছে তিনে।
.png)
নিজেদের ইতিহাসে এশিয়া কাপে এখন পর্যন্ত তিনবার ফাইনালে উঠেছে বাংলাদেশ। কিন্তু প্রতিবারই তীরে এসে তরী ডুবিয়েছে টাইগার বাহিনী। অবশ্য গত চারবছরের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে এবারের আসরে নিজেদের সেরাটা উপহার দিতে চান টাইগার দলপতি সাকিব আল হাসান।

এশিয়া কাপের জন্য ১৭ সদস্যের স্কোয়াড ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। যেখানে ইনজুরির কারণে ছিটকে গেছেন টাইগারদের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল। তার পরিবর্তে জাতীয় দলে প্রথমবারের মতো ডাক পেয়েছেন অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপজয়ী ব্যাটার তানজিদ হাসান তামিম। দলে ফিরেছেন মোহাম্মদ নাঈমও। তবে তার সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স নিয়ে উঠছে নানা প্রশ্ন।
এশিয়া কাপ স্কোয়াডে আলোচনায় থেকেও শেষ মুহূর্তে বাদ পড়েছেন টাইগারদের অভিজ্ঞ ব্যাটার মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। তার জায়গায় বিসিবির ভরসার পাত্র হয়েছেন আফিফ হোসেন।
এদিকে এশিয়া কাপ শুরু হতে পাঁচ দিনেরও কম সময় রয়েছে। এর আগ মুহূর্তে আসন্ন টুর্নামেন্টকে ঘিরে ক্রিকেটাঙ্গনে শুরু হয়ে গেছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। ছয় জাতির টুর্নামেন্টে কোন খেলোয়াড়রা ভালো করবেন, টুর্নামেন্টের ফেবারিট দল কোনটি কিংবা শিরোপার দাবিদারই বা কারা, এসব নিয়েই চলছে তুমুল আলোচনা। তারই ধারাবাহিকতায় ক্রিকেটপ্রেমীদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন এশিয়া কাপে টাইগারদের হয়ে ব্যাট হাতে সেরা সাফল্য পাওয়া ক্রিকেটাররা।
চলুন এক নজরে দেখে নেয়া যাক লাল-সবুজের জার্সিতে ব্যাট হাতে আলো ছড়ানো ব্যাটারদের-

মুশফিকুর রহিম: এশিয়া কাপে এখন পর্যন্ত ২১টি ম্যাচ খেলেছেন মুশফিকুর রহিম। সবমিলিয়ে ৩৬.৭৮ গড় ও ৮৪.৫২ স্ট্রাইক রেটে ৬৯৯ রান করেছেন তিনি। পাশাপাশি দুই সেঞ্চুরি ও দুইটি অর্ধ শতক রয়েছে তার ঝুলিতে। ২০১৮ সালে দুবাইয়ে শ্রীলংকার বিপক্ষে ১৪৪ রানের এক অনবদ্য ইনিংস উপহার দিয়েছিলেন এ উইকেটরক্ষক-ব্যাটার।
তামিম ইকবাল: লাল-সবুজের জার্সিতে টাইগারদের হয়ে ব্যাট হাতে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন তামিম ইকবাল। এখন পর্যন্ত ১৩ ম্যাচ খেলেছেন তিনি। তার মধ্যে ছয় হাফ সেঞ্চুরিতে ৫১৯ রান করেছেন তামিম। এ টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ ৭০ রানের ইনিংস রয়েছে তার ঝুলিতে। তবে ইনজুরির কারণে এবারের এশিয়া থেকে ছিটকে গেছেন এ বাঁ-হাতি ব্যাটার।

সাকিব আল হাসান: তামিমের সমান সংখ্যক ১৩টি ম্যাচ খেলেছেন সাকিব আল হাসানও। এসব ম্যাচে ১০৩ স্ট্রাইক রেট ও ৩৩.৫০ গড়ে ৪০২ রান করেছেন তিনি। এর মধ্যে তিন ফিফটির পাশাপাশি দুই ম্যাচে শূন্য রানেও আউট হয়েছেন সাকিব। আসন্ন টুর্নামেন্টে তার নেতৃত্বেই এশিয়া কাপে উড়াল দিবে বাংলাদেশ।
আতহার আলী খান: ১৯৮৮ থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত এশিয়া কাপে ১১টি ম্যাচ খেলেছেন আতহার আলী খান। এসব ম্যাচে ৫৭.৪১ স্ট্রাইক রেট ও ৩৬.৮০ গড়ে ৩৬৮ রান করেছেন তিনি। তার মধ্যে দুটি অর্ধ শতকও রয়েছে। ১৯৯৭ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে ক্যারিয়ার সেরা ৮২ রানের ইনিংস খেলেন আতহার। তবুও ম্যাচটি ১০৯ রানে হেরেছিল বাংলাদেশ।

আকরাম খান: বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক আকরাম খানও ব্যাট হাতে আলো ছড়িয়েছেন। ক্যারিয়ারের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত এশিয়া কাপে ১৩টি ম্যাচ খেলেছেন। তাতে ৬৩.৩০ স্ট্রাইক রেট ও ২৮.৭৫ গড়ে ৩৪৫ রান করেছেন তিনি। যার মধ্যে দুইটি ফিফটিও রয়েছে তার ঝুলিতে।
মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ: পারফরম্যান্স ইস্যুতে আসন্ন এশিয়া কাপ থেকে ছিটকে গেছেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। তবে অভিজ্ঞ এ ক্রিকেটারই টাইগারদের জার্সিতে এশিয়া কাপের মঞ্চে সফলদের মধ্যে একজন। ২০১৮ সাল পর্যন্ত ২০টি ম্যাচ খেলেছেন তিনি। এর মধ্যে ১৯ ইনিংসে ৬২.৪৭ স্ট্রাইক রেট ও ২৫.২৩ গড়ে ৩২৮ রান তুলেছেন। যেখানে ১ অর্ধ শতকের পাশাপাশি একটি ম্যাচে শূন্যও রয়েছে।

মোহাম্মদ আশরাফুল: টাইগার ক্রিকেটের প্রথম সুপারস্টার ভাবা হয় মোহাম্মদ আশরাফুলকে। ক্যারিয়ারের উঠতি গগণে ব্যাট হাতে ধারাবাহিকভাবে দ্যুতি ছড়িয়েছেন। তবে দীর্ঘদিন ধরেই জাতীয় দলের বাইরে আছেন তিনি। তবুও এশিয়া কাপে সফলদের তালিকায় জায়গা দখল করে আছেন এ ডানহাতি ব্যাটার।
এখন পর্যন্ত এশিয়া কাপে ১২টি ম্যাচ খেলেছেন আশরাফুল। যেখানে ৬২.৬৯ স্ট্রাইক রেট ও ২৬.৩৩ গড়ে ৩১২ রান করেছেন তিনি। যেখানে এক সেঞ্চুরির পাশাপাশি একটি হাফ সেঞ্চুরিও রয়েছে তার।