বিশ্বকাপের আগমুহূর্তে নিউজিল্যান্ড সিরিজে নিজের সামর্থ্যের যথাযথ প্রমাণ দেন তিনি। এরপর নাটকীয়ভাবে টাইগারদের বিশ্বকাপ স্কোয়াডেও সুযোগ পেয়ে যান। আর সেই সুযোগটি ভালোভাবেই লুফে নেন অভিজ্ঞ এই ক্রিকেটার।
বছরের শেষমুহূর্তে রিয়াদের ‘বিশ্রাম’ কাণ্ড ও তার শেষের শুরু নিয়ে একটু আলোকপাত করা যাক। ২০২৩ সালে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের উত্থান-পতন নিয়ে লিখেছেন আশরাফুল ইসলাম আকাশ।
.png)

গত মার্চে ঘরের মাঠে ইংল্যান্ডকে আতিথেয়তা দেয় বাংলাদেশ দল। এই সফরে স্বাগতিকদের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে ও টি-২০ সিরিজ খেলে ইংলিশরা। যেখানে ওয়ানডে সিরিজ হাতছাড়া করে টি-২০ সিরিজে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ডকে হোয়াইটওয়াশ করে টিম টাইগার্স।
ইংলিশদের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের পরপরই কপাল পুড়ে মাহমুদউল্লাহর। সিরিজের প্রথম দুই ওয়ানডেতে ব্যাট হাতে যথাক্রমে ৩১ ও ৩২ এবং শেষটিতে ৮ রানেই সাজঘরে ফেরেন তিনি। লোয়ার মিডল অর্ডারে এই ইনিংসগুলো ‘কার্যকরী’ বলা চলে। তবে ম্যাচের পরিস্থিতি অনুযায়ী ব্যাট থেকে হয়তো আরো বেশি কিছু প্রত্যাশা করছিল টিম ম্যানেজমেন্ট। এজন্য ইংল্যান্ড সিরিজের পরই দল থেকে ছিটকে যান রিয়াদ।
দল থেকে বাদ পড়ায় রিয়াদকে নিয়ে সামাজিক মাধ্যম ও গণমাধ্যমে নানা আলোচনা হয়েছে। তবে বরাবরই বিসিবি সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, ‘রিয়াদকে বিশ্রামে রাখা হয়েছে।’
ইংল্যান্ডের পর হোম ও অ্যাওয়ে কন্ডিশনে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ খেলে বাংলাদেশ। তবে সেখানেও উপেক্ষিত ছিলেন রিয়াদ। এরপর আফগানিস্তান সিরিজেও ছিলেন না তিনি।
দ্বিপাক্ষিক সিরিজে সুযোগ না পেলেও অনেকেই ভেবেছিলেন, এশিয়া কাপের স্কোয়াডে থাকবেন রিয়াদ। কিন্তু এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়েও সুযোগ হারান তিনি। একের পর এক সিরিজ ও টুর্নামেন্টে বাদ পড়ায় রিয়াদের শেষ দেখেছিলেন অনেকেই। তবে মনোবল না হারিয়ে হাড়ভাঙা অনুশীলন করে নিজেকে প্রস্তুত করেন রিয়াদ।
অন্যদিকে রিয়াদের জায়গায় কয়েকজন তরুণকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেও ব্যর্থ হয় টিম ম্যানেজমেন্ট। শেষমেষ বিশ্বকাপের আগমুহূর্তে সেই রিয়াদের ভরসা রাখতেই হয় বিসিবি নির্বাচকদের।
বিশ্বকাপের আগে ঘরের মাঠে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ খেলে টাইগাররা। এই সিরিজ দিয়ে ছয় মাস পর আবারো জাতীয় দলে ফেরেন রিয়াদ। আর তাতেই বাজিমাত করেন এ ডানহাতি ব্যাটার।
বৃষ্টি বাধায় সিরিজের প্রথম ওয়ানডে ভেস্তে যায়। সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ব্যাট হাতে ৪৯ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেন রিয়াদ। ম্যাচটি হারলেও রিয়াদকে নিয়ে স্বস্তির খবর উড়তে থাকে। পরে বেশ নাটকীয়ভাবেই বিশ্বকাপ স্কোয়াডে ডাক পান টাইগারদের অভিজ্ঞ এ ক্যাম্পেইনার।
ওয়ানডে বিশ্বকাপে নিজের ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করেন মাহমুদউল্লাহ। বিশ্বমঞ্চেই সবকিছুর জবাব দেন তিনি। ব্যাট হাতে তো বটেই, দুর্দান্ত ফিল্ডিংয়েও সবার নজর কেড়েছেন।
৩৭ বছর বয়সী মাহমুদউল্লাহ ত্রয়োদশ ওয়ানডে বিশ্বকাপ শেষ করেছেন ৩২৮ রান নিয়ে। যেখানে ৫৪.৬৬ গড়ে ব্যাটিং করেছেন তিনি। এই বিশ্বকাপে একটি করে সেঞ্চুরি ও হাফ সেঞ্চুরির স্বাদ নিয়েছেন। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে শতকটি ছিল বিশ্বমঞ্চে রিয়াদের তৃতীয়।
ভারত বিশ্বকাপে মাহমুদউল্লাহ ক্রিজে গেছেন আট ম্যাচের সাত ইনিংসে। আফগানিস্তানের বিপক্ষে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচে ব্যাটিংয়ের সুযোগ পাননি। এরপর ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের একাদশেই ছিলেন না তিনি।
এবারের বিশ্বকাপে বাংলাদেশের একমাত্র ব্যাটার হিসেবে তিন অংকের ম্যাজিক ফিগার স্পর্শ করেন মাহমুদউল্লাহ। মুম্বাইতে প্রোটিয়াদের বিপক্ষে তিনি খেলেছিলেন ১১১ রানের দুর্দান্ত ইনিংস। ঐ সেঞ্চুরিতে একাধিক রেকর্ডের মালিক হন তিনি।
দীর্ঘ ছয় মাস পর নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ দিয়ে জাতীয় দলে ফেরা মাহমুদউল্লাহর বিশ্বকাপে স্ট্রাইক রেট ছিল ৯১.৬২। ক্যারিয়ারের সায়াহ্নে থাকা রিয়াদের হয়তো এটিই শেষ বিশ্বকাপ। যেখানে দলীয় অর্জনের ঝুলি একদমই ম্লান হলেও ব্যক্তিগতভাবে কিছু উজ্জ্বল মুহূর্ত নিশ্চয়ই তার স্মৃতিতে অমলিন থেকে যাবে।
ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স বিবেচনায় দুর্দান্ত বিশ্বকাপ কাটানো রিয়াদ এখন মাঠের বাইরে আছেন। মূলত, হাতের ইনজুরিতে বিশ্রামে আছেন। এ কারণে নিউজিল্যান্ড সফরেও পাওয়া যায়নি তাকে। নিজের ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ইনিংসটি যেভাবে শুরু করেছেন রিয়াদ, তাতে হয়তো আরো কিছুদিন দেখা মিলবে মিস্টার ‘সাইলেন্ট কিলার’-এর। এমন প্রত্যাশায় অপেক্ষার প্রহর গুনছেন দেশের ক্রিকেটপ্রেমীরা।