ছবির এই শিশু বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের ডানহাতি পেসার তাসকিন আহমেদ। ১৯৯৫ সালের ৩ এপ্রিল ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন তিনি। ২০১২ সালে ইংল্যান্ড অনূর্ধ্ব-১৯ দলের বিপক্ষে তাসকিনের বোলিংয়ের একটি ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়ে। যা নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে তুমুল আলোচনা হয়। সেই সুবাদে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নজরে আসেন তিনি।
এরপর ২০১৩ সালে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) দ্বিতীয় আসরে চিটাগং ভাইকিংসের হয়ে মাঠ মাতান তাসকিন। সেই আসরে নিজের দ্বিতীয় ম্যাচেই ৩১ রান দিয়ে চার উইকেট শিকার করেন তিনি। তবে হাঁটুর ইনজুরিতে লম্বা সময়ের জন্য মাঠের বাইরে ছিটকে যান।
.png)
বিপিএলে বল হাতে আলো ছড়িয়ে ২০১৪ সালে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলে অভিষেক হয় তাসকিনের। টি-২০ বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে।
এর দুই মাস পরেই ওয়ানডে সংস্করণে অভিষেক হয় তাসকিনের। ৫০ ওভারের ক্রিকেটে তার অভিষেকটা স্মরণীয় হয়ে থাকবে। ভারতের বিপক্ষে আগুনে বোলিং করে ২৮ রান খরচে ৫ উইকেট শিকার করেন। আর অভিষেক ম্যাচে ৫ উইকেট শিকারি বোলারদের মধ্যে তৃতীয় অবস্থানে আছেন তিনি।
তবে মজার ব্যাপার হলো- মাত্র তিন ম্যাচের ওডিআই অভিজ্ঞাতেই ২০১৫ বিশ্বকাপ স্কোয়াডে সুযোগ পান এ ডানহাতি পেসার। নিউজিল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে গড়ানো বিশ্বকাপে বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি ছিলেন।
আসরটিতে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে বাংলাদেশকে কোয়ার্টার ফাইনালে তুলতে জেমস টেইলর ও জস বাটলারের গুরুত্বপূর্ণ উইকেট ঝুলিতে পুরেছিলেন তাসকিন। যদিও বিশ্বমঞ্চে শেষ আটের লড়াইয়ে ভারতের কাছে হারের তেতো স্বাদ পেয়েছিল লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। দল হারলেও ম্যাচটিতে বল হাতে উজ্জ্বল ছিলেন তাসকিন। বাঁচা-মরার লড়াইয়ে তিন উইকেট শিকার করেছিলেন এ ডানহাতি পেসার।
এরপরেই ইনজুরির কবলে পড়েন তাসকিন। ফলে ঘরের মাঠে অনুষ্ঠিত দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজ থেকে ছিটকে যান তিনি। এমনকি লম্বা সময় মাঠের বাইরে থাকতে হয় তাকে।
ইনজুরি থেকে ফিরেই ২০১৬ এশিয়া কাপের জন্য টাইগার স্কোয়াডে ডাক পান তাসকিন। আসরটিতে ইকোনোমিকাল বোলিং করে দলকে ফাইনালে তুলতে সাহায্য করেন। যদিও শিরোপা নির্ধারণী মঞ্চে ভারতের কাছে হেরে যায় মাশরাফী বিন মোর্ত্তজার দল।
একই বছরে টি-২০ বিশ্বকাপের আগমুহূর্তে অবৈধ বোলিং অ্যাকশনের কারণে নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়েন তাসকিন। তার সঙ্গে আরাফাত সানিও একই কারণে ছিটকে গিয়েছিলেন। এতে বিশ্বমঞ্চে আগুন ঝরানোর আগেই দেশে ফিরে আসতে হয় তাকে। যদিও পরবর্তীতে তার বোলিং অ্যাকশন বৈধ ঘোষণা করে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)।
এরপর ধীরে ধীরে বাংলাদেশ ক্রিকেটে নিজের অবস্থান পোক্ত করেন তাসকিন। এখনতো টাইগারদের পেস ইউনিটের তো।
ক্যারিয়ারে এখন পর্যন্ত ১৩ টেস্টে ৩০ উইকেট, ৭০ ওয়ানডেতে ৯৩ এবং ৫৪ টি-২০তে ৫২ উইকেট শিকার করেছেন ‘ঢাকা এক্সপ্রেস’ খ্যাত এ পেসার।